ডিজিটাল যুগে অর্থনৈতিক মুক্তি: সাধারণ মানুষের জন্য স্মার্ট মানি ম্যানেজমেন্ট ও ইনভেস্টিং গাইডলাইন

টাকার হিসাব মেলাতে মেলাতে মাস শেষ হয়ে যাওয়া কিংবা ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তায় বুক ধুকপুক করা—এই দৃশ্য আজ আমাদের অনেকেরই জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করার পরেও যখন জমানোর খাতাটা শূন্য কিংবা প্রায় খালি থাকে, তখন মনে এক ধরনের অব্যক্ত হতাশা তৈরি হয়। তবে বিশ্বাস করুন, এই গোলকধাঁধা থেকে বেরিয়ে আসার পথটি খুব বেশি দূরে নয়। এটি কেবল গাণিতিক হিসাব বা বড় বড় অর্থনীতিবিদদের তত্ত্বের ওপর নির্ভর করে না; এটি মূলত আমাদের মানসিকতা, অভ্যাসের পরিবর্তন এবং একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে অর্থ পরিচালনার ফল।

​আজকের এই দীর্ঘ ও বিস্তারিত লেখায় আমরা কেবল গতানুগতিক কিছু সেভিংস টিপস নিয়ে কথা বলব না। বরং আমরা গভীরে প্রবেশ করব আধুনিক অর্থনীতির বাস্তবতায়, যেখানে আপনার কষ্টার্জিত টাকা শুধু ব্যাংকে অলস পড়ে থাকবে না, বরং মুদ্রাস্ফীতির সাথে লড়াই করে বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। একজন প্রফেশনাল কন্টেন্ট রাইটার ও ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট হিসেবে আমি আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘদিনের চর্চার আলোকে আপনাদের সাথে শেয়ার করব এমন কিছু স্ট্র্যাটেজি, যা আপনার আর্থিক ভিত্তিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

​১. অর্থনৈতিক সচেতনতার প্রথম ধাপ: মানি মাইন্ডসেট বা মানসিকতার পরিবর্তন

​টাকা নিয়ে আমাদের অনেকেরই ছোটবেলা থেকে একধরনের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়ে থাকে। "টাকা হলো সব অনর্থের মূল" কিংবা "সৎ পথে চললে বড়লোক হওয়া যায় না"—এই ধরনের সমাজ-সচেতনতামূলক প্রবচনগুলো অবচেতনভাবেই আমাদের মনে গেঁথে দেয় যে অর্থ উপার্জন বা সম্পদ গড়া বুঝি কোনো পাপের কাজ। এই মানসিকতার পরিবর্তন না ঘটালে আপনি যতই বেশি ইনকাম করুন না কেন, পকেট শেষ পর্যন্ত খালিই থাকবে।

​অর্থের সাথে সম্পর্কের পুনঃমূল্যায়ন

​টাকা কোনো লক্ষ্য নয়, এটি একটি মাধ্যম। এটি আপনার স্বাধীনতা কিনে দেওয়ার চাবিকাঠি, আপনার পরিবারের সুরক্ষা এবং সমাজের প্রতি আপনার অবদান রাখার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। যখন আপনি টাকাকে একজন "কর্মচারী" বা "সহকারী" হিসেবে দেখতে শুরু করবেন, তখন আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাবে। আপনি আর টাকা খরচ করবেন না সাময়িক আবেগের বশে, বরং টাকা বিনিয়োগ করবেন ভবিষ্যতের কোনো না কোনো উৎপাদনে।

​ইমোশনাল স্পেন্ডিং বা আবেগী খরচ চিহ্নিত করা

​আমরা অনেক সময়ই প্রয়োজনের চেয়ে আবেগের তাড়নায় বেশি খরচ করে ফেলি। মন খারাপ থাকলে শপিং করা, সহকর্মীর নতুন গাড়ি দেখে নিজের পুরনো ফোনটি বদলে ফেলার তাগিদ অনুভব করা—এগুলোকে মনোবিজ্ঞানে বলা হয় 'Retail Therapy'। এই ধরনের খরচ আপনার সম্পদ গড়ে ওঠার পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায়। আগামী সাত দিন আপনার প্রতিটি খরচের একটি খাতা বা ডিজিটাল নোট রাখুন। দেখবেন, ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ খরচ এমন খাতে হচ্ছে যার সাথে আপনার বেঁচে থাকা বা উন্নতির কোনো দূরতম সম্পর্কও নেই।

​২. বাজেট প্রণয়ন ও ক্যাশ ফ্লো অপ্টিমাইজেশন: ৫০/৩০/২০ নিয়মের আধুনিক প্রয়োগ

​বাজেট শব্দটা শুনলেই অনেকের মাথায় বিরক্তি চলে আসে। মনে হয় কেউ যেন স্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছে এবং হিসাবের কড়াকড়িতে জীবন অতিষ্ঠ করে তুলছে। কিন্তু বিশ্বাস করুন, বাজেট কোনো জেলখানা নয়; বাজেট হলো আপনার কষ্টার্জিত টাকার মানচিত্র। মানচিত্র থাকলে যেমন গন্তব্যে পৌঁছানো সহজ হয়, তেমনি সঠিক বাজেট থাকলে অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জন অনেক বেশি সাবলীল হয়ে ওঠে।

​৫০/৩০/২০ রুলের গভীরে প্রবেশ

​বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এবং প্রমাণিত একটি বাজেট ফর্মুলা হলো ৫০/৩০/২০ রুল। এটিকে আপনার আয়ের ওপর ভিত্তি করে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে:

  • ​৫০% মৌলিক প্রয়োজন: এর মধ্যে পড়বে আপনার বাসা ভাড়া, ইউটিলিটি বিল (বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি), গ্রোসারি বা বাজারের খরচ, যাতায়াত খরচ এবং চিকিৎসা ব্যয়। এই খরচগুলো আপনার বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য।
  • ​৩০% শৌখিন বা জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন খরচ: ডাইনিং আউট, সিনেমা দেখা, পছন্দসই ব্র্যান্ডের কাপড় কেনা, সাবস্ক্রিপশন সার্ভিস (Netflix, Spotify ইত্যাদি) এই খাতের অন্তর্ভুক্ত। জীবনকে উপভোগ করার জন্য এই খরচগুলোরও প্রয়োজন আছে, তবে এর সীমা লঙ্ঘন করা যাবে না।
  • ​২০% সঞ্চয় ও বিনিয়োগ: এটি হলো আপনার ভবিষ্যতের বীজ। এই ২০ শতাংশ টাকা সরাসরি আপনার সম্পদ বৃদ্ধিতে বা জরুরি তহবিলে জমা হবে।

​ক্যাশ ফ্লো ম্যানেজমেন্টের ব্যবহারিক উদাহরণ

​ধরে নেওয়া যাক, আপনার মাসিক নিট আয় (Net Income) বা হাতে আসা টাকা হলো ৬০,০০০ টাকা।

  • ​মৌলিক প্রয়োজন (৫০%): ৩০,০০০ টাকা। এর বাইরে যাওয়া যাবে না।
  • ​শৌখিন খরচ (৩০%): ১৮,০০০ টাকা। এর মধ্যে ঘুরতে যাওয়া বা শপিংয়ের বাজেট অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
  • ​সঞ্চয় ও বিনিয়োগ (২০%): ১২,০০০ টাকা। এই টাকাটি মাস শুরু হওয়ামাত্রই আলাদা অ্যাকাউন্টে সরিয়ে ফেলতে হবে—"Pay Yourself First" বা "প্রথমে নিজেকে পরিশোধ করুন" নীতির ভিত্তিতে।

​৩. ইমার্জেন্সি ফান্ড বা জরুরি তহবিল: আপনার আর্থিক সুরক্ষার দুর্গ

​জীবনের গতিপথ সবসময় সমান যায় না। হঠাৎ চাকরি চলে যাওয়া, গুরুতর অসুস্থতা, বা বিশ্বব্যাপী কোনো অর্থনৈতিক মন্দা—যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো দুর্যোগ আপনার দরজায় কড়া নাড়তে পারে। এই ধরনের অপ্রত্যাশিত ধাক্কা সামাল দেওয়ার একমাত্র অস্ত্র হলো একটি শক্তিশালী ইমার্জেন্সি ফান্ড বা জরুরি তহবিল।

​কত টাকা জমাতে হবে?

​সাধারণ নিয়মে, আপনার ন্যূনতম ৩ থেকে ৬ মাসের মৌলিক খরচ এই তহবিলে থাকা উচিত। যদি আপনার আয়ের উৎস অনিশ্চিত হয় (যেমন ফ্রিল্যান্সার বা ব্যবসায়ী), তবে এই তহবিলের আকার কমপক্ষে ৬ থেকে ৯ মাসের খরচের সমান হওয়া উচিত।

​কোথায় রাখবেন এই টাকা?

​জরুরি তহবিলের টাকা কখনোই শেয়ার বাজার বা উচ্চঝুঁকিপূর্ণ কোনো জায়গায় বিনিয়োগ করা যাবে না। কারণ যেকোনো মুহূর্তে এই টাকার প্রয়োজন হতে পারে। এই টাকা রাখতে হবে:

১. সহজে তোলার মতো সেভিংস অ্যাকাউন্টে।

২. বা এমন কোনো ফিক্সড ডিপোজিট (FDR) স্কিমে, যা ভাঙাতে গেলে খুব বেশি জরিমানা দিতে হয় না।

​৪. ডেট বা ঋণের দুষ্টচক্র থেকে মুক্তি এবং লিভারেজের সঠিক ব্যবহার

​ঋণ দুই প্রকারের হতে পারে: ভালো ঋণ এবং খারাপ ঋণ। এই পার্থক্য বুঝতে না পারলে সারাজীবন ঋণের কিস্তি শোধ করতেই জীবন পার হয়ে যাবে।

​খারাপ ঋণ বর্জন করুন

​ক্রেডিট কার্ডের বিল, পার্সোনাল লোন, বা শখের বশে কিস্তিতে আইফোন কেনার ঋণ হলো খারাপ ঋণ। এই ঋণগুলোতে সুদের হার অনেক বেশি থাকে (অনেক সময় ২০% থেকে ৩০% পর্যন্ত)। এগুলো আপনার ভবিষ্যতকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। আপনার যদি একাধিক ক্রেডিট কার্ডের লোন থাকে, তবে সবার আগে সেগুলোর সুদের হার কমানোর বা সম্পূর্ণ পরিশোধ করার পরিকল্পনা করুন। এক্ষেত্রে Debt Avalanche অথবা Debt Snowball পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন।

​ভালো ঋণের সঠিক ব্যবহার

​ব্যবসা বাড়ানোর জন্য বা এমন কোনো প্রপার্টি কেনার জন্য ঋণ নেওয়া যা থেকে পরবর্তীতে আয় আসবে (যেমন রিয়েল এস্টেট), তাকে ভালো ঋণ বলা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রেও আপনার ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

​৫. মুদ্রাস্ফীতি এবং টাকার ক্রমাবনতিশীল মূল্য

​আজ থেকে ১০ বছর আগে বাজারে যে পরিমাণ পণ্য বা সেবা আপনি ১০০ টাকায় পেতেন, আজ কি সেই একই পরিমাণ পণ্য একই টাকায় পাওয়া সম্ভব? উত্তরটি হলো—না। একেই অর্থনীতির ভাষায় মুদ্রাস্ফীতি বলা হয়। মুদ্রাস্ফীতি হলো একটি নীরব চোর, যা আপনার পকেটের টাকা থেকে প্রতিদিন একটু একটু করে মূল্য কেড়ে নিচ্ছে।

​ব্যাংকে টাকা রাখলেই কি আপনি নিরাপদ?

​আমাদের অনেকের মাঝেই একটি প্রাচীন ধারণা রয়েছে যে, ব্যাংকের সেভিংস অ্যাকাউন্টে বা ফিক্সড ডিপোজিটে টাকা রেখে দিলেই তা সম্পূর্ণ নিরাপদ। কিন্তু গাণিতিক সত্য হলো, যদি আপনার ব্যাংকের সুদের হার বা রিটার্ন মুদ্রাস্ফীতির হারের চেয়ে কম হয়, তবে প্রতি বছর আপনার জমানো টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ধরা যাক, মুদ্রাস্ফীতি ৭% আর আপনার ব্যাংক দিচ্ছে ৫% সুদ; এর মানে দাঁড়াল প্রতি বছর আপনার সম্পদের বাস্তব মূল্য ২% করে হ্রাস পাচ্ছে। তাই কেবল সঞ্চয় নয়, সম্পদ বাড়াতে হলে বিনিয়োগের বিকল্প নেই।

​৬. ইনভেস্টিং বা বিনিয়োগের জগত: কীভাবে কাজ করে কম্পাউন্ডিংয়ের জাদু?

​আলবার্ট আইনস্টাইন কম্পাউন্ড ইন্টারেস্ট বা চক্রবৃদ্ধি সুদকে "বিশ্বের অষ্টম আশ্চর্য" হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। আপনি যদি খুব সাধারণ বেতনেও চাকরি করেন এবং অল্প বয়স থেকে নিয়ম করে বিনিয়োগ শুরু করেন, তবে দীর্ঘমেয়াদে আপনি একজন বড় বিনিয়োগকারীর চেয়েও বেশি সম্পদের মালিক হতে পারেন কেবল সময়ের সুবিধার কারণে।

​কম্পাউন্ডিংয়ের চমৎকার একটি উদাহরণ

​ধরা যাক, দুই বন্ধু—করিম ও রহিম।

  • ​করিম বয়স ২৫ বছর থেকে প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা করে একটি ভালো ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডে জমাতে শুরু করলেন। তিনি এটি চালিয়ে গেলেন টানা ১০ বছর (অর্থাৎ ৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত)। এরপর তিনি আর নতুন করে কোনো টাকা জমা দিলেন না, কিন্তু আগের জমানো টাকাগুলো বিনিয়োগেই থেকে গেল।
  • ​রহিম কাজ শুরু করলেন একটু দেরিতে, অর্থাৎ ৩৫ বছর বয়স থেকে। তিনি প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা করে টানা ২৫ বছর ধরে জমাতে থাকলেন।

​আপনার কি মনে হয়, ৬০ বছর বয়সে কার ফান্ডে বেশি টাকা থাকবে?

হিসাব করলে দেখা যাবে, করিম মাত্র ১০ বছর টাকা জমা দিয়েও রহিমের চেয়ে অনেক বেশি ফান্ড ভ্যালু তৈরি করেছেন! কারণ করিমের টাকা দীর্ঘ সময় ধরে চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

​৭. আধুনিক বিনিয়োগের খাতসমূহ: ঝুঁকি ও সম্ভাবনার হিসাব

​আপনার টাকা কোথায় রাখবেন, তার একটি পরিষ্কার রূপরেখা নিচে দেওয়া হলো। মনে রাখবেন, সব ডিম এক ঝুড়িতে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

  • ​স্টক মার্কেট ও মিউচুয়াল ফান্ড: দীর্ঘমেয়াদে সর্বোচ্চ রিটার্নের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শেয়ার বাজারে সরাসরি বিনিয়োগ করার জন্য প্রচুর জ্ঞান, সময় এবং ধৈর্যের প্রয়োজন হয়। আপনার যদি সেই সময় বা অভিজ্ঞতা না থাকে, তবে প্রফেশনাল ফান্ড ম্যানেজারদের পরিচালিত মিউচুয়াল ফান্ড বা ইটিএফ-এ এসআইপি এর মাধ্যমে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করতে পারেন।
  • ​গভঃ সিকিউরিটিজ বা ট্রেজারি বন্ড: এটি স্থিতিশীল ও নিশ্চিত আয়ের উৎস। যারা কম ঝুঁকিতে নিরাপদ রিটার্ন চান, তাদের জন্য সরকারি ট্রেজারি বন্ড বা সঞ্চয়পত্র একটি চমৎকার অপশন। এতে মূলধন হারানোর ঝুঁকি প্রায় শূন্যের কোঠায় থাকে।
  • ​রিয়েল এস্টেট: এটি বাস্তব সম্পদ ও প্যাসিভ ইনকামের একটি বড় মাধ্যম। একটি ফ্ল্যাট বা প্রপার্টি কিনে তা ভাড়ায় খাটিয়ে নিয়মিত ক্যাশ ফ্লো তৈরি করা যায়।
  • ​সোনা (Gold): এটি মুদ্রাস্ফীতি ও মন্দার বিরুদ্ধে শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করে। ঐতিহ্যে সোনার প্রতি আমাদের সমাজে আলাদা দুর্বলতা রয়েছে, যা অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বেশ যৌক্তিক। মোট পোর্টফোলিওর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ সোনা বা গোল্ড বন্ডে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

​৮. প্যাসিভ ইনকাম গড়ার কৌশল

​আপনার ৯-থেকে-৫টার চাকরিটি হয়তো আপনার মৌলিক চাহিদা মেtaচ্ছে, কিন্তু সত্যিকার অর্থে ধনী হতে হলে বা আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন করতে হলে আপনাকে এমন সব আয়ের উৎস তৈরি করতে হবে যা আপনি ঘুমালেও আপনার জন্য টাকা কামাতে থাকবে।

  • ​ডিজিটাল প্রোডাক্ট তৈরি: ই-বুক, অনলাইন কোর্স, বা স্টক ফটোগ্রাফি বিক্রি করে চমৎকার প্যাসিভ ইনকাম জেনারেট করা সম্ভব।
  • ​ব্লগিং বা কন্টেন্ট ক্রিয়েশন: আপনার শখ বা দক্ষতার বিষয় নিয়ে একটি ব্লগ বা ইউটিউব চ্যানেল শুরু করতে পারেন। দীর্ঘমেয়াদে গুগল এডসেন্স, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা স্পন্সরশিপ থেকে এটি একটি বড় আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে।
  • ​রিয়েল এস্টেট রেন্টাল ইনকাম: প্রপার্টি ভাড়ার মাধ্যমে প্রতি মাসে নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা করা যায়।

​৯. দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক পরিকল্পনা এবং গোল সেটআপ

​অর্থনৈতিক মুক্তি কোনো একদিনে অর্জিত হয় না। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী ম্যারাথন। আপনার আর্থিক লক্ষ্যগুলোকে মূলত তিন ভাগে ভাগ করতে হবে:

​১. স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্য (১ থেকে ৩ বছর): ইমার্জেন্সি ফান্ড তৈরি করা, ক্রেডিট কার্ডের ঋণ শোধ করা, বা একটি ছোট ট্রিপে যাওয়ার টাকা জমানো।

২. মধ্যমেয়াদী লক্ষ্য (৩ থেকে ৭ বছর): গাড়ি কেনা, নিজের ফ্ল্যাটের জন্য ডাউন পেমেন্ট জমানো, বা উচ্চশিক্ষার খরচ জোগাড় করা।

৩. দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য (৭ থেকে ২০+ বছর): সন্তানের উচ্চশিক্ষা ও বিয়ের খরচ, নিজের অবসর জীবন বা রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানিং।

​আপনার প্রতিটি লক্ষ্যের জন্য আলাদা আলাদা অ্যাকাউন্ট বা পোর্টফোলিও ট্র্যাকিং শিট থাকা উচিত। কোন লক্ষ্য থেকে কত টাকা আসছে এবং কত দূরে আপনি আছেন, তার প্রতি প্রতি তিন মাস পর পর একটি রিভিউ করুন

​অর্থনীতি এবং ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনা কোনো জটিল মহাকাশ বিজ্ঞান নয়। এটি মূলত সচেতনতা, ধারাবাহিকতা এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার একটি শৈল্পিক প্রক্রিয়া। আমাদের সবার জীবনেই কমবেশি অর্থনৈতিক সংকট কিংবা সীমাবদ্ধতা থাকে, কিন্তু সেই সীমাবদ্ধতাগুলোকে অজুহাত হিসেবে না নিয়ে যদি একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে জীবনকে পরিচালিত করা যায়, তবে অচিরেই একটি নিরাপদ ও স্বাবলম্বী ভবিষ্যতের দেখা মিলবে।

​আজ রাতেই আপনার গত মাসের খরচের হিসাবটা একবার খাতা কলমে মেলাতে শুরু করুন। ছোট ছোট পরিবর্তন, যেমন অপ্রয়োজনীয় সাবস্ক্রিপশন বাতিল করা, প্রতি মাসে আয়ের একটি অংশ সবার আগে সঞ্চয় করা এবং সেটিকে বুদ্ধিমত্তার সাথে সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করা—আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে যথেষ্ট। মনে রাখবেন, আপনার আর্থিক ভবিষ্যতের লাগাম কেবল এবং কেবল আপনার নিজের হাতেই রয়েছে। আজই আপনার সেই সফল যাত্রার প্রথম পদক্ষেপটি ফেলুন।


নিচে অর্থনীতি বিষয়ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং সেগুলোর উত্তর দেওয়া হলো 

১. প্রশ্ন : অর্থনীতি (Economics) কাকে বলে?

উত্তর : অর্থনীতি হলো সমাজবিজ্ঞানের একটি শাখা, যা সীমিত সম্পদের দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের অসীম অভাব পূরণের উপায় নিয়ে আলোচনা করে। বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথের মতে, এটি "সম্পদের বিজ্ঞান"। অন্যদিকে আলফ্রেড মার্শালের মতে, অর্থনীতি হলো মানুষের দৈনন্দিন সাধারণ জীবনের কার্যাবলীর আলোচনা।

২. প্রশ্ন : ব্যষ্টিগত অর্থনীতি (Microeconomics) এবং সমষ্টিগত অর্থনীতি (Macroeconomics)-র মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর : ব্যষ্টিগত অর্থনীতিতে ব্যক্তিগত পর্যায়, যেমন—একজন ভোক্তা, একটি প্রতিষ্ঠান বা একটি নির্দিষ্ট পণ্যের বাজার ও দাম নিয়ে পৃথকভাবে আলোচনা করা হয়। অপরদিকে, সমষ্টিগত অর্থনীতিতে পুরো দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যেমন—জাতীয় আয়, মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব ও মোট উৎপাদন নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করা হয়।

৩. প্রশ্ন : সুযোগ ব্যয় (Opportunity Cost) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : সীমিত সম্পদের কারণে একটি বিকল্প চয়ন করতে গিয়ে অন্য সেরা বিকল্পটি ত্যাগ করতে হয়। যে সুযোগটি ত্যাগ করা হলো, তার আর্থিক বা ব্যবহারিক মূল্যকেই প্রথম বিকল্পের 'সুযোগ ব্যয়' বলা হয়। যেমন—একখণ্ড জমিতে ধান না চাষ করে গম চাষ করলে, হারিয়ে যাওয়া ধানের উৎপাদনই হলো গমের সুযোগ ব্যয়।

৪. প্রশ্ন : চাহিদার বিধি (Law of Demand) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : অন্যান্য বিষয় (যেমন—ক্রেতার আয়, পছন্দ ইত্যাদি) অপরিবর্তিত থাকলে, কোনো পণ্যের দাম বাড়লে তার চাহিদার পরিমাণ কমে এবং দাম কমলে চাহিদার পরিমাণ বাড়ে। পণ্যের দাম ও চাহিদার পরিমাণের এই বিপরীতমুখী সম্পর্ককেই চাহিদার বিধি বলা হয়।

৫. প্রশ্ন : যোগানের বিধি (Law of Supply) কী?

উত্তর : অন্যান্য পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে, কোনো দ্রব্যের দাম বাড়লে বিক্রেতা বা উৎপাদকের যোগানের পরিমাণ বাড়ায় এবং দাম কমলে যোগানের পরিমাণ কমায়। দাম ও যোগানের মধ্যে এই সমমুখী সম্পর্ককে যোগানের বিধি বলা হয়।

৬. প্রশ্ন : বাজার ভারসাম্য (Market Equilibrium) কীভাবে নির্ধারিত হয়?

উত্তর : বাজারে যখন কোনো নির্দিষ্ট দামে কোনো দ্রব্যের মোট চাহিদার পরিমাণ এবং মোট যোগানের পরিমাণ পরস্পর সমান হয়, তখন বাজার ভারসাম্য অর্জিত হয়। উক্ত দামকে 'ভারসাম্য দাম' এবং পরিমাণকে 'ভারসাম্য পরিমাণ' বলা হয়।

৭. প্রশ্ন : চাহিদার স্থীতিস্থাপকতা (Price Elasticity of Demand) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : দ্রব্যের দামের শতকরা পরিবর্তনের ফলে চাহিদার পরিমাণের যে শতকরা পরিবর্তন ঘটে, তার অনুপাতকে চাহিদার স্থীতিস্থাপকতা বলে। এর মাধ্যমে বোঝা যায় কোনো দ্রব্যের দাম সামান্য পরিবর্তন হলে ক্রেতা তার চাহিদা কতটা বাড়াবে বা কমাবে।

৮. প্রশ্ন : জিডিপি (GDP - Gross Domestic Product) বা মোট দেশজ উৎপাদন কী?

উত্তর : একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) কোনো দেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে উৎপাদিত সমস্ত চূড়ান্ত পণ্য ও সেবার মোট বাজারমূল্যকে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি (GDP) বলা হয়। এতে বিদেশি নাগরিকদের দেশে অর্জিত আয় অন্তর্ভুক্ত থাকে, তবে প্রবাসী নাগরিকদের বিদেশে অর্জিত আয় অন্তর্ভুক্ত হয় না।

৯. প্রশ্ন : জিএনপি (GNP - Gross National Product) বা মোট জাতীয় উৎপাদন কী?

উত্তর : একটি নির্দিষ্ট বছরে কোনো দেশের নাগরিকদের দ্বারা দেশ বা বিদেশের যেকোনো স্থানে উৎপাদিত মোট চূড়ান্ত পণ্য ও সেবার মূল্যকে মোট জাতীয় উৎপাদন বা জিএনপি বলে। এতে প্রবাসীদের আয় যুক্ত হয়, কিন্তু দেশের ভেতরে থাকা বিদেশিদের আয় বাদ যায়।

১০. প্রশ্ন : এনডিপি (NDP - Net Domestic Product) কী?

উত্তর : জিডিপি (GDP) থেকে মূলধনী সামগ্রীর ক্ষয়ক্ষতিজনিত ব্যয় বা অবচয় খরচ (Depreciation/Capital Consumption Allowance) বাদ দিলে যা অবশিষ্ট থাকে, তাকে নিট দেশজ উৎপাদন বা এনডিপি (NDP) বলে। সূত্র: NDP = GDP - Depreciation।

১১. প্রশ্ন : মাথা পিছু আয় (Per Capita Income) কীভাবে হিসাব করা হয়?

উত্তর : কোনো দেশের মোট জাতীয় আয়কে (বা জিডিপিকে) সেই দেশের মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে যে গড় আয় পাওয়া যায়, তাকে মাথাপিছু আয় বলে। মাথাপিছু আয় বাড়লে সাধারণভাবে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।

১২. প্রশ্ন : মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : যখন বাজারে পণ্য ও সেবার সার্বিক দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পায় এবং অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়, তখন সেই অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে মুদ্রাস্ফীতি বলা হয়। এতে কম দ্রব্য কিনতে বেশি টাকা খরচ করতে হয়।

১৩. প্রশ্ন : মুদ্রাসঙ্কোচন (Deflation) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : যখন বাজারে পণ্য ও সেবার সার্বিক মূল্যস্তর ক্রমাগত হ্রাস পায় এবং অর্থের ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে যায়, তখন তাকে মুদ্রাসঙ্কোচন বলা হয়। এটি ব্যবসায়িক মন্দা ও বেকারত্ব বাড়াতে পারে।

১৪. প্রশ্ন : স্ট্যাগফ্লেশন (Stagflation) কী?

উত্তর : যখন কোনো অর্থনীতিতে একদিকে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি থাকে এবং অন্যদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থবির হয়ে বেকারত্ব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়, তখন সেই চরম অস্বাভাবিক পরিস্থিতিকে স্ট্যাগফ্লেশন বলে।

১৫. প্রশ্ন : চাহিদা-বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি (Demand-Pull Inflation) কী?

উত্তর : যখন বাজারে মোট যোগানের তুলনায় মোট চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পায় (অর্থাৎ "অধিক অর্থ কম পণ্যকে তাড়া করে"), তখন পণ্যের দাম বেড়ে যে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয়, তাকে চাহিদা-বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি বলে।

১৬. প্রশ্ন : উৎপাদন খরচ-বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি (Cost-Push Inflation) কী?

উত্তর : কাঁচামাল, শ্রমিকের মজুরি বা জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলে উৎপাদকরা পণ্যের মূল বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে যে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে, তাকে খরচ-বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি বলা হয়।

১৭. প্রশ্ন : অর্থ বা মুদ্রা (Money)-র প্রধান কাজগুলো কী কী?

উত্তর : অর্থের প্রধান চারটিকাজ হলো—বিনিময়ের মাধ্যম (Medium of Exchange), মূল্য পরিমাপক (Measure of Value), সঞ্চয়ের বাহন (Store of Value) এবং স্থগিত দেনা-পাওনা পরিশোধের মানদণ্ড (Standard of Deferred Payment)।

১৮. প্রশ্ন : কেন্দ্রীয় ব্যাংক (Central Bank) কী এবং এর প্রধান কাজ কী?

উত্তর : কেন্দ্রীয় ব্যাংক হলো দেশের সর্বোচ্চ অর্থ ও ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান, যা পুরো দেশের মুদ্রা ব্যবস্থা ও ব্যাংক খাতকে নিয়ন্ত্রণ করে। এর প্রধান কাজ নোট ইস্যু করা, মুদ্রানীতি প্রণয়ন, বাণিজ্যিক ব্যাংকের শেষ আশ্রয়েরস্থল হিসেবে কাজ করা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষণাবেক্ষণ।

১৯. প্রশ্ন : বাণিজ্যিক ব্যাংক (Commercial Bank) কী?

উত্তর : বাণিজ্যিক ব্যাংক হলো মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যা জনগণের কাছ থেকে আমানত গ্রহণ করে, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী ঋণ প্রদান করে এবং বিভিন্ন আর্থিক সেবা দেয়।

২০. প্রশ্ন : সিআরআর (CRR - Cash Reserve Ratio) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের মোট আমানতের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ নগদ অর্থ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বাধ্যতামূলকভাবে জমা রাখতে হয়। এই নির্দিষ্ট অনুপাতকে ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও বা সিআরআর বলা হয়।

২১. প্রশ্ন : এসএলআর (SLR - Statutory Liquidity Ratio) কী?

উত্তর : বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ নগদ টাকা, সোনা বা অনুমোদিত সরকারি সিকিউরিটিজ আকারে নিজেদের কাছে বা নির্দিষ্ট তহবিলে রাখা বাধ্যতামূলক। একে এসএলআর বলে।

২২. প্রশ্ন : রেপো রেট (Repo Rate) কী?

উত্তর : কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে সুদের হারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে স্বল্পমেয়াদী ঋণ প্রদান করে, তাকে রেপো রেট (Repo Rate) বলা হয়। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো অর্থের টানাটানিতে পড়লে এই সুবিধা নেয়।

২৩. প্রশ্ন : রিভার্স রেপো রেট (Reverse Repo Rate) কী?

উত্তর : বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের উদ্বৃত্ত অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের যে হারে সুদ প্রদান করে, তাকে রিভার্স রেপো রেট বলে। বাজারে অর্থের তারল্য কমানোর জন্য এটি ব্যবহার করা হয়।

২৪. প্রশ্ন : মুদ্রানীতি (Monetary Policy) কী?

উত্তর : কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের অর্থনীতিতে অর্থের সরবরাহ (Money Supply), সুদের হার এবং ঋণের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য যে নীতি প্রণয়ন করে, তাকে মুদ্রানীতি বলে।

২৫. প্রশ্ন : রাজস্ব নীতি (Fiscal Policy) কী?

উত্তর : সরকার তার আয় (কর ও অ-কর রাজস্ব) এবং ব্যয় সংক্রান্ত যে নীতিমালা প্রণয়ন করে দেশের মোট চাহিদা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে, তাকে রাজস্ব নীতি বা ফিসকাল পলিসি বলে।

২৬. প্রশ্ন : প্রত্যক্ষ কর (Direct Tax) কাকে বলে?

উত্তর : যে করের প্রাথমিক চাপ এবং শেষ আইনি দায়ভার (Tax Burden) একই ব্যক্তির ওপর পড়ে এবং যা অন্য কারো ওপর স্থানান্তরিত করা যায় না, তাকে প্রত্যক্ষ কর বলে। যেমন—আয়কর (Income Tax) এবং কর্পোরেট কর।

২৭. প্রশ্ন : পরোক্ষ কর (Indirect Tax) কাকে বলে?

উত্তর : যে করের দায়ভার আইনিভাবে একজনের ওপর আরোপিত হলেও সে তা পণ্যের দামের মাধ্যমে অন্য কারো (সাধারণত ভোক্তাদের) ওপর চাপিয়ে দিতে পারে, তাকে পরোক্ষ কর বলে। যেমন—মূল্যসংযোজন কর (ভ্যাট) ও আবগারি শুল্ক।

২৮. প্রশ্ন : মূল্যসংযোজন কর (VAT - Value Added Tax) কী?

উত্তর : একটি পণ্যের উৎপাদন বা বন্টনের প্রতিটি স্তরে যে পরিমাণ মূল্য যুক্ত হয় (Value Addition), কেবল সেই নতুন যুক্ত মূল্যের ওপর যে কর ধার্য করা হয়, তাকে মূল্যসংযোজন কর বা ভ্যাট বলে।

২৯. প্রশ্ন : প্রগতিশীল কর (Progressive Tax) কী?

উত্তর : যে কর ব্যবস্থায় করদাতার আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে করের হারও (Tax Rate) বৃদ্ধি পায়, তাকে প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা বলে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার বৈষম্য কমানো।

৩০. প্রশ্ন : অধোগামী বা অপোঘাতী কর (Regressive Tax) কী?

উত্তর : আয় বাড়ার সাথে সাথে যে করের কার্যকর হার কমতে থাকে, তাকে অপোঘাতী কর বলে। পরোক্ষ কর (যেমন—ভ্যাট) মূলত অপোঘাতী, কারণ ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাইকে সমপরিমাণ কর দিতে হয়, যা দরিদ্রের ওপর বেশি চাপ সৃষ্টি করে।

৩১. প্রশ্ন : ঘাটতি বাজেট (Deficit Budget) কী?

উত্তর : কোনো অর্থবছরে সরকারের প্রত্যাশিত আয় বা রাজস্ব অপেক্ষা প্রত্যাশিত ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হলে সেই বাজেটকে ঘাটতি বাজেট বলা হয়। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করতে ঘাটতি বাজেট করা হয়।

৩২. প্রশ্ন : উদ্বৃত্ত বাজেট (Surplus Budget) কী?

উত্তর : কোনো অর্থবছরে সরকারের অনুমিত মোট রাজস্ব আয়ের পরিমাণ অনুমিত মোট ব্যয়ের চেয়ে বেশি হলে তাকে উদ্বৃত্ত বাজেট বলে। প্রচণ্ড মুদ্রাস্ফীতি কমানোর জন্য এই বাজেট উপযোগী।

৩৩. প্রশ্ন : সুষম বাজেট (Balanced Budget) কী?

উত্তর : যে বাজেটে সরকারের আনুমানিক আয়ের পরিমাণ এবং আনুমানিক ব্যয়ের পরিমাণ সমান থাকে, তাকে সুষম বাজেট বলা হয়।

৩৪. প্রশ্ন : এডিপি (ADP - Annual Development Program) কী?

উত্তর : বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP) হলো একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরে দেশের অবকাঠামোগত ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য সরকার কর্তৃক গৃহীত প্রকল্পসমূহের তালিকা ও আর্থিক বরাদ্দের বিবরণী।

৩৫. প্রশ্ন : বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ (Foreign Exchange Reserves) কী?

উত্তর : কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সংরক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) বিশেষ সম্পদ (SDR), যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য লেনদেন ও ঋণের দায় মেটাতে ব্যবহৃত হয়, তাকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বলে।

৩৬. প্রশ্ন : রেমিট্যান্স (Remittance) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : বিদেশে বসবাসকারী বা কর্মরত প্রবাসীরা নিজ দেশে পরিবার বা ব্যাংকের মাধ্যমে যে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠান, তাকে রেমিট্যান্স বলে। এটি উন্নয়নশীল দেশের জাতীয় আয় ও রিজার্ভের বড় উৎস।

৩৭. প্রশ্ন : বাণিজ্য ঘাটতি (Trade Deficit) কী?

উত্তর : কোনো দেশের একটি নির্দিষ্ট সময়ে মোট দৃশ্যমান পণ্যের আমদানি ব্যয় যদি মোট রপ্তানি আয়ের চেয়ে বেশি হয়, তবে সেই ঋণাত্মক ব্যবধানকে বাণিজ্য ঘাটতি বা ট্রেড ডেফিসিট বলে।

৩৮. প্রশ্ন : লেনদেন ভারসাম্য (Balance of Payments - BOP) কী?

উত্তর : একটি নির্দিষ্ট বছরে কোনো দেশের অধিবাসীদের সাথে পৃথিবীর অপরাপর দেশের সকল প্রকার দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান অর্থনৈতিক লেনদেনের হিসাবের বিবরণীকে লেনদেন ভারসাম্য (BOP) বলে।

৩৯. প্রশ্ন : বিনিময় হার (Exchange Rate) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : দেশীয় মুদ্রার সাপেক্ষে কোনো বিদেশি মুদ্রার যে মূল্য নির্ধারিত হয়, তাকে বৈদেশিক বিনিময় হার বলে। যেমন: ১ মার্কিন ডলার = ১২০ টাকা।

৪০. প্রশ্ন : ভাসমান বিনিময় হার (Floating Exchange Rate) কী?

উত্তর : যখন কোনো দেশীয় মুদ্রার বৈদেশিক বিনিময় হার আন্তর্জাতিক বাজারে কেবল মুদ্রাটির চাহিদা ও যোগানের ওপর ভিত্তি করে নিজে নিজেই নির্ধারিত হয় (কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া), তাকে ভাসমান বা মুক্ত বিনিময় হার বলে।

৪১. প্রশ্ন : অবমূল্যায়ন (Devaluation) কী?

উত্তর : স্থায়ী বা নির্দিষ্ট বিনিময় হার ব্যবস্থায় সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে বৈদেশিক মুদ্রার সাপেক্ষে দেশীয় মুদ্রার মান কমিয়ে দেওয়াকে মুদ্রার অবমূল্যায়ন বলে। এর ফলে রপ্তানি উৎসাহিত হয় এবং আমদানি নিরুৎসাহিত হয়।

৪২. প্রশ্ন : প্রসাধনমূল্যায়ন বা পুনঃমূল্যায়ন (Revaluation) কী?

উত্তর : কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে যখন বিদেশি মুদ্রার সাপেক্ষে নিজের মুদ্রার মান বাড়িয়ে দেয়, তখন তাকে মুদ্রার পুনঃমূল্যায়ন বা রেভ্যালুয়েশন বলা হয়।

৪৩. প্রশ্ন : মানব উন্নয়ন সূচক (HDI - Human Development Index) কী?

উত্তর : জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) কর্তৃক প্রকাশিত এমন একটি সূচক, যা কেবল জিডিপি নয়—বরং মানুষের গড় আয়ু, শিক্ষার হার ও জীবনযাত্রার মানের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের দেশগুলোর সামগ্রিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল্যায়ন করে।

৪৪. প্রশ্ন : মানব মূলধন (Human Capital) কী?

উত্তর : প্রশিক্ষণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে একজন মানুষের যে জ্ঞান, কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়, তাকে অর্থনীতিতে 'মানব মূলধন' বলা হয়।

৪৫. প্রশ্ন : পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজার (Perfect Competition) কী?

উত্তর : যে বাজারে অসংখ্য ক্রেতা ও বিক্রেতা থাকে, সমজাতীয় (homogeneous) পণ্য কেনাবেচা হয় এবং কোনো একক ক্রেতা বা বিক্রেতা বাজার দরকে প্রভাবিত করতে পারে না, তাকে পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজার বলে।

৪৬. প্রশ্ন : একচেটিয়া বাজার (Monopoly Market) কাকে বলে?

উত্তর : যে বাজারে একটি পণ্যের কেবল একজনই বিক্রেতা বা উৎপাদক থাকে এবং বাজারে ওই পণ্যের কোনো নিকট বিকল্প দ্রব্য থাকে না, তাকে একচেটিয়া বাজার বলে। এতে বিক্রেতার দামের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে।

৪৭. প্রশ্ন : অলিগোপলি বাজার (Oligopoly Market) কী?

উত্তর : যে বাজারে কোনো নির্দিষ্ট পণ্যের কেবল অল্প কয়েকজন বড় বিক্রেতা বা সরবরাহকারী থাকে এবং তাদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা বজায় থাকে, তাকে অলিগোপলি বাজার বলে। যেমন—টেলিকম খাত।

৪৮. প্রশ্ন : মনোপসনি বাজার (Monopsony Market) কী?

উত্তর : যে বাজারে কোনো পণ্য বা সেবার অসংখ্য বিক্রেতা বা সরবরাহকারী থাকা সত্ত্বেও কেবল 'একজনই ক্রেতা' থাকে, তাকে মনোপসনি বাজার বলা হয়। যেমন—সরকার এককভাবে কোনো অস্ত্র বা নির্দিষ্ট সামরিক সামগ্রী ক্রয় করলে।

৪৯. প্রশ্ন : প্রান্তিক উপযোগ (Marginal Utility) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : কোনো দ্রব্যের অতিরিক্ত এক একক ভোগের ফলে ভোক্তা যে অতিরিক্ত উপযোগ বা তৃপ্তি লাভ করে, তাকে প্রান্তিক উপযোগ বলে।

৫০. প্রশ্ন : ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধি (Law of Diminishing Marginal Utility) কী?

উত্তর : অন্যান্য বিষয় অপরিবর্তিত থাকলে, কোনো ভোক্তা একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দ্রব্য যত বেশি ভোগ করতে থাকে, ওই দ্রব্যের অতিরিক্ত এককগুলো থেকে প্রাপ্ত প্রান্তিক উপযোগ তত কমতে থাকে। এটিকে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধি বলে।

৫১. প্রশ্ন : গিন্নি সহগ (Gini Coefficient) কী কাজে ব্যবহৃত হয়?

উত্তর : গিন্নি সহগ হলো একটি পরিসংখ্যানগত পরিমাপ, যা কোনো সমাজের আয় বৈষম্য বা সম্পদ বন্টনের অসমতা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়। এর মান ০ (সম্পূর্ণ সমতা) থেকে ১ (সম্পূর্ণ বৈষম্য)-এর মধ্যে থাকে।

৫২. প্রশ্ন : পভার্টি গ্যাপ (Poverty Gap) বা দারিদ্র্যের ব্যবধান কী?

উত্তর : চরম দরিদ্র জনগোষ্ঠী আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমা (যেমন দৈনিক ২.১৫ ডলার) থেকে কতটা নিচে বাস করছে, সেই গড়ের ব্যবধানকে দারিদ্র্যের ব্যবধান বা পভার্টি গ্যাপ বলা হয়।

৫৩. প্রশ্ন : টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG - Sustainable Development Goals) কী?

উত্তর : জাতিসংঘ ঘোষিত ১৭টি বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রার একটি সেট, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে দারিদ্র্য দূরীকরণ, সমতা প্রতিষ্ঠা ও ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের সকল মানুষের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে।

৫৪. প্রশ্ন : মুক্ত বাজার অর্থনীতি (Free Market Economy) কী?

উত্তর : যে অর্থব্যবস্থায় সরকারের কোনো সরাসরি হস্তক্ষেপ থাকে না এবং চাহিদা ও যোগানের স্বাভাবিক মিথস্ক্রিয়া বা মূল্য প্রক্রিয়ার (Price Mechanism) মাধ্যমে পণ্যের উৎপাদন, বণ্টন ও দাম নির্ধারিত হয়, তাকে মুক্ত বাজার অর্থনীতি বলে।

৫৫. প্রশ্ন : নির্দেশমূলক বা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা (Command Economy) কী?

উত্তর : যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় উৎপাদনের সমস্ত উপায়ের মালিক সরকার বা রাষ্ট্র এবং অর্থনীতি সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত (কী উৎপাদিত হবে, কীভাবে ও কার জন্য) কেন্দ্রীয়ভাবে সরকার গ্রহণ করে, তাকে নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থা বলে।

৫৬. প্রশ্ন : মিশ্র অর্থব্যবস্থা (Mixed Economy) কী?

উত্তর : যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা বা ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং সরকারি উদ্যোগ পাশাপাশি অবস্থান করে এবং বাজার ব্যবস্থার সাথে সরকারের নিয়ন্ত্রণ বিদ্যমান থাকে, তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে। বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে বেশিরভাগ দেশই মিশ্র অর্থনীতি মেনে চলে।

৫৭. প্রশ্ন : ইসলামি অর্থব্যবস্থা (Islamic Economic System) কী?

উত্তর : যে অর্থব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক পরিচালিত হয়—যেখানে সুদের (রিবা) আদান-প্রদান নিষিদ্ধ, জাকাত ব্যবস্থা চালু থাকে এবং হালাল উপায়ে ব্যবসা-বাণিজ্য ও লাভ-ক্ষতির অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অর্থ পরিচালিত হয়।

৫৮. প্রশ্ন : অদৃশ্য হাত (Invisible Hand) ধারণাটি কার এবং এর অর্থ কী?

উত্তর : ধারণাটি আধুনিক অর্থনীতির জনক অ্যাডাম স্মিথের। এর অর্থ হলো মুক্ত বাজারে ব্যক্তিস্বার্থের তাগিদে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো অলক্ষ্যে এক 'অদৃশ্য শক্তির' মতো পুরো সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

৫৯. প্রশ্ন : উৎপাদনের উপাদান (Factors of Production) কয়টি ও কী কী?

উত্তর : অর্থনীতিতে উৎপাদনের উপাদান ৪টি। যথা:

১. ভূমি (Land) - যার প্রতিদান খাজনা

২. শ্রম (Labor) - যার প্রতিদান মজুরি

৩. মূলধন (Capital) - যার প্রতিদান সুদ

৪. সংগঠন (Organization) - যার প্রতিদান মুনাফা।

৬০. প্রশ্ন : প্রান্তিক উৎপাদনশীলতা (Marginal Productivity) কী?

উত্তর : উৎপাদনের অন্যান্য উপাদান স্থির রেখে নির্দিষ্ট একটি উপাদান (যেমন শ্রম) অতিরিক্ত এক একক বৃদ্ধি করলে মোট উৎপাদনে যে অতিরিক্ত বৃদ্ধি ঘটে, তাকে ওই উপাদানের প্রান্তিক উৎপাদনশীলতা বলে।

৬১. প্রশ্ন : ফিলিপস কার্ভ (Phillips Curve) কী নির্দেশ করে?

উত্তর : ফিলিপস কার্ভ হলো এমন একটি অর্থনৈতিক রেখা, যা অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির হার এবং বেকারত্বের হারের মধ্যে একটি বিপরীতমুখী (Inverse) সম্পর্ক প্রদর্শন করে।

৬২. প্রশ্ন : কেইনসীয় অর্থনীতি (Keynesian Economics) কী?

উত্তর : অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কেইনসের প্রবর্তিত তত্ত্ব, যা বলে—মন্দাবস্থায় বাজার নিজে নিজে পুনরুদ্ধার হতে পারে না। ফলে মন্দা ও বেকারত্ব কাটাতে সরকারি ব্যয় বাড়ানো এবং সক্রিয় রাজস্ব নীতির প্রয়োগ আবশ্যক।

৬৩. প্রশ্ন : মুদ্রার তারল্য (Liquidity) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : কোনো সম্পদকে মূল্যের বড় ধরনের ক্ষতি না করে কত দ্রুত ও সহজে নগদে রূপান্তর করা যায়, সেই ক্ষমতাকে ওই সম্পদের তারল্য বলা হয়। ক্যাশ টাকা হলো সবচেয়ে বেশি তরল সম্পদ।

৬৪. প্রশ্ন : তারল্য ফাঁদ (Liquidity Trap) কী?

উত্তর : এটি এমন একটি অর্থনৈতিক অবস্থা যখন সুদের হার অত্যন্ত নিচে নেমে যায়, কিন্তু মানুষ ভবিষ্যতে সুদের হার বা ঝুঁকি বাড়ার ভয়ে ঋণ না নিয়ে বা বিনিয়োগ না করে সব অর্থ নগদ হিসেবে ধরে রাখে। ফলে মুদ্রানীতি অকার্যকর হয়ে পড়ে।

৬৫. প্রশ্ন : ক্রাউডিং আউট ইফেক্ট (Crowding Out Effect) কী?

উত্তর : সরকার যখন অতিরিক্ত ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক খাত থেকে প্রচুর ঋণ গ্রহণ করে, তখন বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের প্রাপ্যতা কমে যায় বা সুদের হার বেড়ে যায়। বেসরকারি বিনিয়োগ কমে যাওয়ার এই ঘটনাকে ক্রাউডিং আউট ইফেক্ট বলে।

৬৬. প্রশ্ন : এঞ্জেল-এর বিধি (Engel's Law) কী?

উত্তর : অর্থনীতিবিদ আর্নস্ট এঞ্জেলের মতে, পরিবারের আয় বাড়লে মোট ব্যয়ের মধ্যে খাদ্যের পেছনে অনুপাতিক ব্যয়ের শতাংশ কমতে থাকে, অন্যদিকে শিক্ষা, বিনোদন ও অন্যান্য বিলাসী পণ্যে ব্যয়ের অনুপাত বাড়তে থাকে।

৬৭. প্রশ্ন : প্যারাডক্স অব থ্রিফট (Paradox of Thrift) বা সঞ্চয়ের বিরোধাভাস কী?

উত্তর : ব্যক্তিগতভাবে সঞ্চয় করা ইতিবাচক হলেও, সমাজ বা দেশের সব মানুষ যদি মন্দার ভয়ে একসাথে অতিরিক্ত সঞ্চয় করতে শুরু করে, তবে বাজারে সামগ্রিক চাহিদা ও ব্যবহার কমে যায়। এতে আয় ও মোট উৎপাদন হ্রাস পেয়ে শেষ পর্যন্ত মোট সঞ্চয় আরও কমে যায়।

৬৮. প্রশ্ন : হট মানি (Hot Money) কাকে বলে?

উত্তর : যে স্বল্পমেয়াদী অর্থ বা বিনিয়োগ লাভের আশায় এবং উচ্চ সুদের হার বা অনুকূল বিনিময় হারের খোঁজে এক দেশের আর্থিক বাজার থেকে খুব দ্রুত অন্য দেশে স্থানান্তরিত হয়, তাকে হট মানি বলা হয়।

৬৯. প্রশ্ন : ডাম্পিং (Dumping) কী?

উত্তর : আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কোনো দেশ যদি নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের চেয়ে অনেক কম দামে (এমনকি উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে) বিদেশে কোনো পণ্য বিক্রি করে প্রতিযোগী দেশের শিল্প ধ্বংসের চেষ্টা করে, তবে তাকে ডাম্পিং বলে।

৭০. প্রশ্ন : শুল্ক (Tariff) এবং কোটা (Quota)-র মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর : শুল্ক হলো আমদানিকৃত পণ্যের ওপর আরোপিত প্রত্যক্ষ কর; পক্ষান্তরে, কোটা হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ে সর্বোচ্চ কী পরিমাণ পণ্য আমদানি বা রপ্তানি করা যাবে তার ভৌত পরিমাণের সীমা (Physical Limit)।

৭১. প্রশ্ন : ট্রিপস (TRIPS) চুক্তি কী?

উত্তর : বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) অধীনে 'বাণিজ্য সম্পর্কিত বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ অধিকার সংক্রান্ত চুক্তি' হলো TRIPS (Trade-Related Aspects of Intellectual Property Rights)। এটি পেটেন্ট, কপিরাইট, ট্রেডমার্ক ইত্যাদি সুরক্ষা দেয়।

৭২. প্রশ্ন : ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপ (World Bank Group) এবং আইএমএফ (IMF)-এর মৌলিক পার্থক্য কী?

উত্তর : বিশ্বব্যাংক মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দীর্ঘমেয়াদী অবকাঠামোগত ও দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্পে অর্থায়ন ও ঋণ দেয়। পক্ষান্তরে, আইএমএফ (IMF) সদস্য দেশগুলোর লেনদেন ভারসাম্য (BOP) ঠিক রাখা ও স্বল্পমেয়াদী আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য ঋণ প্রদান করে।

৭৩. প্রশ্ন : স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (SDR) কী?

উত্তর : এসডিআর (SDR) হলো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) কর্তৃক সৃষ্ট একটি কৃত্রিম পরিপূরক আন্তর্জাতিক রিজার্ভ সম্পদ, যা পাঁচটি প্রধান আন্তর্জাতিক মুদ্রার (মার্কিন ডলার, ইউরো, চীনা ইউয়ান, জাপানি ইয়েন, পাউন্ড স্টার্লিং) ঝুড়ির ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়িত হয়।

৭৪. প্রশ্ন : প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI - Foreign Direct Investment) কী?

উত্তর : কোনো বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যখন অন্য দেশের কোনো ব্যবসায় বা কারখানায় সরাসরি অর্থ বিনিয়োগ করে এবং সেটির ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় অংশ নেয়, তাকে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বা এফডিআই বলে।

৭৫. প্রশ্ন : পোর্টফোলিও বিনিয়োগ (Foreign Portfolio Investment) কী?

উত্তর : এটি এমন এক ধরণের বৈদেশিক বিনিয়োগ যেখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সরাসরি কারখানা স্থাপন না করে দেশের শেয়ার বাজার, সরকারি বন্ড বা সিকিউরিটিজে নিষ্ক্রিয়ভাবে অর্থ বিনিয়োগ করে।

৭৬. প্রশ্ন : ছায়া অর্থনীতি (Shadow/Black Economy) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : দেশের অর্থনীতিতে যেসব আর্থিক কর্মকাণ্ড, উৎপাদন বা লেনদেন সরকারি নজরদারি, আইনি বাধ্যবাধকতা বা কর ব্যবস্থার বাইরে অবৈধভাবে গোপনে পরিচালিত হয়, তাকে ছায়া বা অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতি বলে।

৭৭. প্রশ্ন : সার্কুলার ফ্লো অব ইনকাম (Circular Flow of Income) কী?

উত্তর : অর্থনীতিতে পরিবার (Households) ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের (Firms) মধ্যে অর্থ, পণ্য ও সেবার পারস্পরিক প্রবাহের চিত্রকে আয়ের চক্রাকার প্রবাহ বলে। পরিবারের ব্যয় প্রতিষ্ঠানের আয় গঠন করে, আর প্রতিষ্ঠানের দেওয়া মজুরি/খাজনা পরিবারের আয় গঠন করে।

৭৮. প্রশ্ন : প্রাইস সেলিং (Price Ceiling) এবং প্রাইস ফ্লোর (Price Floor) কী?

উত্তর : ভোক্তাদের সুবিধার্থে সরকার যখন আইনের মাধ্যমে কোনো পণ্যের সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য বেঁধে দেয়, তাকে প্রাইস সেলিং বলে। আর উৎপাদকদের (যেমন কৃষক) স্বার্থ রক্ষায় কোনো পণ্যের সর্বনিম্ন বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে দিলে তাকে প্রাইস ফ্লোর বলে।

৭৯. প্রশ্ন : অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা (PPC - Production Possibility Curve) কী?

উত্তর : এটি এমন একটি রেখা যা উপলব্ধ প্রযুক্তি ও সীমিত সম্পদের পূর্ণ ব্যবহারে দুটি ভিন্ন পণ্যের উৎপাদনে প্রাপ্ত সর্বোচ্চ সম্ভাব্য সমন্বয়গুলোকে উপস্থাপন করে।

৮০. প্রশ্ন : নিকৃষ্ট দ্রব্য (Inferior Goods) কাকে বলে?

উত্তর : যে সকল দ্রব্যের ক্ষেত্রে ভোক্তার আয় বৃদ্ধি পেলে চাহিদা বাড়ার বদলে উল্টো কমে যায়, সেগুলোকে নিকৃষ্ট বা নিম্নমানের দ্রব্য বলে। (যেমন—আয় বাড়লে মানুষ মোটা চালের ভাত খাওয়া কমিয়ে সরু চাল কেনা শুরু করে)।

৮১. প্রশ্ন : গিফেন দ্রব্য (Giffen Goods) কী?

উত্তর : গিফেন দ্রব্য হলো এক বিশেষ ধরণের নিকৃষ্ট দ্রব্য, যার দাম বাড়লে চাহিদার সাধারণ বিধি লঙ্ঘন করে এর চাহিদা উল্টো বেড়ে যায়। (যেমন আয়ারল্যান্ডের দুর্ভিক্ষে আলুর দাম বাড়লেও মানুষ এটি বেশি কিনেছিল কারণ মাংস কেনার সামর্থ্য তাদের ছিল না)।

৮২. প্রশ্ন : বিকল্প দ্রব্য (Substitute Goods) ও পরিপূরক দ্রব্য (Complementary Goods) কী?

উত্তর : একটির পরিবর্তে অন্যটি ব্যবহার করা গেলে তাকে বিকল্প দ্রব্য বলে (যেমন চা ও কফি)। আর একটি ভোগ করতে অন্যটির উপস্থিতি আবশ্যক হলে সেগুলোকে পরিপূরক দ্রব্য বলে (যেমন কলম ও কালি, অথবা গাড়ি ও পেট্রোল)।

৮৩. প্রশ্ন : সে-এর বাজারের বিধি (Say's Law of Markets) কী?

উত্তর : ক্লাসিক্যাল অর্থনীতিবিদ জাঁ ব্যাপ্তিস্ত সে-এর মতে, "যোগান নিজেই নিজের চাহিদা সৃষ্টি করে" (Supply creates its own demand)। অর্থাৎ বাজারে কোনো সার্বিক অতি-উৎপাদন বা স্থায়ী বেকারত্ব থাকতে পারে না।

৮৪. প্রশ্ন : ডেডওয়েট লস (Deadweight Loss) কী?

উত্তর : বাজার অদক্ষতার কারণে (যেমন কর আরোপ, মনোপলি বা প্রাইস সিলিংয়ের ফলে) ভোক্তা ও উৎপাদকের যে নীট অর্থনৈতিক কল্যাণের ক্ষতি হয় এবং যা কারো হস্তগত হয় না, তাকে ডেডওয়েট লস বলে।

৮৫. প্রশ্ন : জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-এর কাজ কী?

উত্তর : জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) হলো বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের আওতাধীন প্রধান কর্তৃপক্ষ, যা দেশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর সংগ্রাহক ও রাজস্ব নীতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করে।

৮৬. প্রশ্ন : মূল্যস্ফীতি সূচক বা সিপিআই (CPI - Consumer Price Index) কী?

উত্তর : ভোক্তা মূল্য সূচক হলো সাধারণ নগর বা গ্রামের পরিবারসমূহ কর্তৃক ক্রয়কৃত নির্দিষ্ট সংখ্যক পণ্য ও সেবার (Basket of goods) দামের গড়ের পরিবর্তন পরিমাপের একটি প্রধান পরিসংখ্যানগত সূচক।

৮৭. প্রশ্ন : রিয়েল জিডিপি (Real GDP) ও নামমাত্র জিডিপি (Nominal GDP)-র পার্থক্য কী?

উত্তর : নোমিনাল বা নামমাত্র জিডিপি বর্তমান বছরের প্রচলিত বাজারদামে হিসাব করা হয়। অপরদিকে, রিয়েল বা প্রকৃত জিডিপি একটি নির্দিষ্ট ভিত্তি বছরের (Base Year) স্থির মূল্যে হিসাব করা হয়, যা কেবল প্রকৃত উৎপাদনের পরিবর্তনকে নির্দেশ করে (মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব বাদ দিয়ে)।

৮৮. প্রশ্ন : জিডিপি ডিফ্লেটর (GDP Deflator) কী?

উত্তর : নামমাত্র জিডিপি (Nominal GDP)-কে প্রকৃত জিডিপি (Real GDP) দিয়ে ভাগ করে ১০০ দিয়ে গুণ করলে যে সূচকটি পাওয়া যায়, তাকে জিডিপি ডিফ্লেটর বলে। এটি অর্থনীতিতে সার্বিক মূল্যস্তরের পরিবর্তন নির্দেশ করে।

৮৯. প্রশ্ন : বাণিজ্য চক্র (Business Cycle) কী?

উত্তর : কোনো দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও আয়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমিক উত্থান-পতন (যেমন—সমৃদ্ধি, মন্দা, বিষণ্ণতা ও পুনরুত্থান) ঘটার ঘটনাকে বাণিজ্য চক্র বলা হয়।

৯০. প্রশ্ন : অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (Economic Growth) ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের (Economic Development) পার্থক্য কী?

উত্তর : অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বলতে কেবল জিডিপি বা জাতীয় আয়ের পরিমাণগত বৃদ্ধিকে বোঝায়। আর অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলতে প্রবৃদ্ধির সাথে সাথে সামাজিক কাঠামো, শিক্ষার হার, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও মানুষের জীবনযাত্রার গুণগত ইতিবাচক পরিবর্তনকে বোঝায়।

৯১. প্রশ্ন : মধ্যম আয়ের ফাঁদ (Middle-Income Trap) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : কোনো দেশ নিম্ন আয় থেকে মধ্যম আয়ে উন্নীত হওয়ার পর যদি নতুন উদ্ভাবন, উচ্চ দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ অর্জন করতে না পেরে উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হতে না পারে এবং দীর্ঘকাল ধরে একই আয়ের স্তরে স্থবির হয়ে থাকে, তবে তাকে মধ্যম আয়ের ফাঁদ বলে।

৯২. প্রশ্ন : সবুজ অর্থনীতি (Green Economy) কী?

উত্তর : যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সামাজিক সমতা ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশগত ঝুঁকি হ্রাস, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় রোধে কাজ করে, তাকে সবুজ অর্থনীতি বলে।

৯৩. প্রশ্ন : ব্লু ইকোনমি (Blue Economy) বা সমুদ্র অর্থনীতি কী?

উত্তর : সমুদ্র বা সামুদ্রিক সম্পদকে (যেমন—মৎস্য, খনিজ, বন্দর, টেকসই পর্যটন, সামুদ্রিক শক্তি) পরিবেশের ক্ষতি না করে পরিবেশবান্ধব উপায়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কাজে ব্যবহার করাকে ব্লু ইকোনমি বা সমুদ্র অর্থনীতি বলে।

৯৪. প্রশ্ন : অ-কর রাজস্ব (Non-Tax Revenue) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : কর ব্যতীত অন্য যেসব উৎস থেকে সরকার আয় লাভ করে, তাকে অ-কর রাজস্ব বলে। যেমন—সরকারি প্রতিষ্ঠানের মুনাফা, জরিমানা, সেবামূল্য, রেজিস্ট্রেশন ফি, ডাক ও রেলওয়ে থেকে প্রাপ্ত আয় ইত্যাদি।

৯৫. প্রশ্ন : বহিরাগত প্রভাব বা এক্সটার্নালিটি (Externality) কী?

উত্তর : কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক কার্যাবলীর ফলে যদি তৃতীয় কোনো পক্ষ লাভবান বা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তার জন্য যদি কোনো ক্ষতিপূরণ বা মূল্য দিতে না হয়, তাকে এক্সটার্নালিটি বলে। (যেমন—কারখানার বর্জ্য পরিবেশ দূষিত করলে তা নেতিবাচক এক্সটার্নালিটি)।

৯৬. প্রশ্ন : ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড (Demographic Dividend) বা জনসংখ্যাগত লভ্যাংশ কী?

উত্তর : কোনো দেশে যখন নির্ভরশীল জনসংখ্যার (শিশু ও বয়স্ক) তুলনায় কর্মক্ষম জনসংখ্যার (১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী) অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, তখন অর্থনীতির দ্রুত প্রবৃদ্ধির যে বিশেষ সুযোগ তৈরি হয়, তাকে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বলে।

৯৭. প্রশ্ন : ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স (Capital Gains Tax) কী?

উত্তর : কোনো মূলধনী সম্পদ (যেমন—জমি, দালানকোঠা, শেয়ার বা বন্ড) ক্রয়ের পর তা বর্ধিত দামে বিক্রি করে যে লাভ বা মুনাফা পাওয়া যায়, তার ওপর ধার্যকৃত করকে ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স বা মূলধনী লাভ কর বলা হয়।

৯৮. প্রশ্ন : ফিনটেক (FinTech) কী?

উত্তর : ফাইনান্সিয়াল টেকনোলজি (Financial Technology)-র সংক্ষিপ্ত রূপ হলো ফিনটেক। প্রথাগত আর্থিক ও ব্যাংকিং সেবাকে আরও দ্রুত, সহজ ও ডিজিটালি প্রদানের জন্য প্রযুক্তির যে ব্যবহার (যেমন—বিকাশ, রকেট, অনলাইন ব্যাংকিং) করা হয়, তাকে ফিনটেক বলে।

৯৯. প্রশ্ন : বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO - World Trade Organization)-র মূল কাজ কী?

উত্তর : আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে মুক্ত, সহজ ও বৈষম্যহীন করা, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের নিয়ম-কানুন নির্ধারণ করা এবং বাণিজ্য সংক্রান্ত নানা বিরোধ নিষ্পত্তি করাই হলো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্রধান কাজ।

১০০. প্রশ্ন : সার্কুলার ইকোনমি (Circular Economy) বা বৃত্তাকার অর্থনীতি কী?

উত্তর : যে আধুনিক অর্থনৈতিক মডেলে "তৈরি করো, ব্যবহার করো, ফেলে দাও" নীতির পরিবর্তে বর্জ্য হ্রাস, কাঁচামালের পুনঃব্যবহার (Reuse) এবং রিসাইক্লিং (Recycle)-এর মাধ্যমে সম্পদের স্থায়িত্ব ও আয়ু সর্বোচ্চ করা হয়, তাকে বৃত্তাকার বা সার্কুলার ইকোনমি বলে।


Mpintu