১০০টি গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির তালিকা
১০০টি গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির তালিকা এবং সেগুলোর সংক্ষিপ্ত কাজ নিচে দেওয়া হলো।
১. সেমিকন্ডাক্টর ও বেসিক ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্টস (১ - ২৫)
- ডায়োড (Diode): কারেন্টকে কেবল এক দিকে প্রবাহিত হতে দেয় এবং বিপরীত প্রবাহ রোধ করে।
- ট্রানজিস্টর (Transistor): সিগন্যাল বিবর্ধন (Amplification) বা সুইচিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়।
- রেজিস্টর (Resistor): সার্কিটে কারেন্টের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ বা সীমিত করে।
- ক্যাপাসিটর (Capacitor): বৈদ্যুতিক চার্জ সাময়িকভাবে জমা করে এবং ফিল্টারিংয়ের কাজ করে।
- ইনডাক্টর (Inductor): চৌম্বক ক্ষেত্রে শক্তি সঞ্চয় করে এবং এসি কারেন্ট ও নয়েজ বাধাগ্রস্ত করে।
- এলইডি (LED - Light Emitting Diode): বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে আলো উৎপন্ন করে।
- জেনডার ডায়োড (Zener Diode): ভোল্টেজ রেগুলেশন বা নির্দিষ্ট ভোল্টেজ স্থির রাখতে ব্যবহৃত হয়।
- ফটোডায়োড (Photodiode): আলোর উপস্থিতি টের পায় এবং আলোতে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে।
- শটকি ডায়োড (Schottky Diode): দ্রুত সুইচিং এবং কম ভোল্টেজ ড্রপের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- ভারাক্টর ডায়োড (Varactor Diode): ভোল্টেজের ওপর ভিত্তি করে এর ক্যাপাসিট্যান্স পরিবর্তিত হয় (টিউনিং সার্কিটে ব্যবহৃত)।
- মশফেট (MOSFET): হাই-স্পিড সুইচিং ও পাওয়ার কন্ট্রোলে ব্যবহৃত ট্রানজিস্টর।
- বিজেটি (BJT - Bipolar Junction Transistor): সাধারণ অ্যামপ্লিফায়ার ও সুইচিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়।
- আইজিবিটি (IGBT): পাওয়ার ইলেকট্রনিক্সে হাই-ভোল্টেজ ও কারেন্ট কন্ট্রোলে ব্যবহৃত হয়।
- থাইরিস্টর / এসসিআর (SCR): এসি পাওয়ার কন্ট্রোল এবং পাওয়ার সুইচিংয়ে ব্যবহৃত হয়।
- ট্রায়াক (TRIAC): উভয় দিকে এসি কারেন্ট কন্ট্রোল করতে ব্যবহৃত হয়।
- ডায়াক (DIAC): ট্রিগার ডিভাইস হিসেবে ট্রায়াকের সাথে ব্যবহৃত হয়।
- আইসি (IC - Integrated Circuit): হাজার হাজার ট্রানজিস্টর ও কম্পোনেন্টের সমন্বয়ে গঠিত মিনি সার্কিট (যেমন প্রসেসর, লজিক গেট)।
- মাইক্রোকন্ট্রোলার (Microcontroller): এম্বেডেড সিস্টেমে মস্তিষ্ক হিসেবে কাজ করে (যেমন Arduino চিপ)।
- মাইক্রোপ্রসেসর (Microprocessor): কম্পিউটারের প্রধান প্রসেসিং ইউনিট যা নির্দেশাবলী কার্যকর করে।
- অপ-অ্যাম্প (Operational Amplifier): অ্যানালগ সিগন্যাল বিবর্ধন ও গণিতীয় অপারেশনে ব্যবহৃত হয়।
- ক্রিস্টাল অসিলেটর (Crystal Oscillator): মাইক্রোকন্ট্রোলার বা ঘড়িতে নিখুঁত ফ্রিকোয়েন্সি বা ক্লক পালস তৈরি করে।
- রিলে (Relay): ইলেকট্রনিক সিগন্যাল দিয়ে বড় পাওয়ার সার্কিট নিয়ন্ত্রণ বা সুইচিং করে।
- ফিউজ (Fuse): অতিরিক্ত কারেন্ট প্রবাহিত হলে গলে গিয়ে সার্কিট রক্ষা করে।
- সার্কিট ব্র্রেকার (Circuit Breaker): ওভারলোড বা শর্ট সার্কিটে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে।
- থার্মিস্টর (Thermistor): তাপমাত্রার পরিবর্তনের সাথে সাথে এর রেজিস্ট্যান্স পরিবর্তিত হয়।
২. ট্রান্সফরমার ও পাওয়ার কম্পোনেন্টস (২৬ - ৫০)
- ট্রান্সফরমার (Transformer): তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশের মাধ্যমে এসি ভোল্টেজ বাড়ায় বা কমায়।
- স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার (Step-up Transformer): নিম্ন ভোল্টেজকে উচ্চ ভোল্টেজে রূপান্তর করে।
- স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমার (Step-down Transformer): উচ্চ ভোল্টেজকে নিরাপদ নিম্ন ভোল্টেজে রূপান্তর করে।
- অটো ট্রান্সফরমার (Auto Transformer): একক ওয়াইন্ডিং বিশিষ্ট ট্রান্সফরমার যা ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়।
- আইসোলেশন ট্রান্সফরমার (Isolation Transformer): প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি ওয়াইন্ডিং সম্পূর্ণ আলাদা রেখে বৈদ্যুতিক শক থেকে রক্ষা করে।
- রেক্টিফায়ার (Rectifier): এসি (AC) কারেন্টকে ডিসি (DC)-তে রূপান্তর করে।
- ইনভার্টার (Inverter): ডিসি (DC) কারেন্টকে এসি (AC) কারেন্টে রূপান্তর করে।
- কনভার্টার (DC-DC Converter): এক ডিসি ভোল্টেজ স্তর থেকে অন্য ডিসি ভোল্টেজ স্তরে রূপান্তর করে।
- ব্যাটারি (Battery): রাসায়নিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে জমা রাখে।
- সোলার প্যানেল (Solar Panel): সূর্যালোক সরাসরি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
- অল্টারনেটর (Alternator): যান্ত্রিক শক্তিকে এসি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- ডিসি জেনারেটর (DC Generator): যান্ত্রিক শক্তিকে ডিসি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- এসি মোটর (AC Motor): এসি বিদ্যুৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
- ডিসি মোটর (DC Motor): ডিসি বিদ্যুৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
- স্টেপার মোটর (Stepper Motor): নির্দিষ্ট কোণ বা ধাপে নিখুঁতভাবে ঘোরে (প্রিন্টার বা সিএনসিতে ব্যবহৃত)।
- সার্ভো মোটর (Servo Motor): ফিডব্যাক সিস্টেমের মাধ্যমে নিখুঁত পজিশন ও গতি নিয়ন্ত্রণ করে।
- সুইচ মোড পাওয়ার সাপ্লাই (SMPS): দক্ষভাবে এসি থেকে স্থিতিশীল ডিসি ভোল্টেজ সরবরাহ করে।
- ভোল্টেজ স্টেবিলাইজার (Voltage Stabilizer): ইনপুট ভোল্টেজ ওঠানামা করলেও আউটপুট ভোল্টেজ স্থির রাখে।
- ইউপিএস (UPS - Uninterruptible Power Supply): বিদ্যুৎ চলে গেলে কম্পিউটার বা ডিভাইসে তাৎক্ষণিক ব্যাকআপ পাওয়ার দেয়।
- ইনডাকশন কয়েল (Induction Coil): তড়িৎ চুম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়।
- সুপারক্যাপাসিটর (Supercapacitor): সাধারণ ক্যাপাসিটরের চেয়ে বহুগুণ বেশি চার্জ ধারণ করে।
- ফিউজ রেজিস্টর (Fusible Resistor): অতিরিক্ত কারেন্টে ফিউজের মতো কেটে যায়।
- পিইসি সেল (Photocell / LDR): আলোর তীব্রতা অনুযায়ী রেজিস্ট্যান্স পরিবর্তন করে।
- পাইজোইলেকট্রিক সেন্সর (Piezoelectric Sensor): চাপ বা কম্পনকে বৈদ্যুতিক সিগন্যালে রূপান্তর করে।
- সোলেনয়েড (Solenoid): তড়িৎ চুম্বকের সাহায্যে যান্ত্রিক ধাক্কা বা টান তৈরি করে (যেমন লক বা ভালভ খুলতে)।
৩. পরিমাপক ও টেস্টিং যন্ত্র (৫১ - ৭৫)
- মাল্টিমিটার (Multimeter): ভোল্টেজ, কারেন্ট ও রেজিস্ট্যান্স নিখুঁতভাবে পরিমাপ করে।
- অসিলোস্কোপ (Oscilloscope): বৈদ্যুতিক সিগন্যালের ওয়েভফর্ম ও ফ্রিকোয়েন্সি স্ক্রিনে প্রদর্শন করে।
- ক্ল্যাম্প মিটার (Clamp Meter): সার্কিট না কেটে সরাসরি তারের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত কারেন্ট পরিমাপ করে।
- ওয়াটমিটার (Wattmeter): বৈদ্যুতিক পাওয়ার বা শক্তি খরচ পরিমাপ করে।
- এনার্জি মিটার (Energy Meter): বাড়িতে ব্যবহৃত মোট বিদ্যুৎ খরচ (kWh) মাপে।
- ফ্রিকোয়েন্সি কাউন্টার (Frequency Counter): সিগন্যালের ফ্রিকোয়েন্সি মাপে।
- সিগন্যাল জেনারেটর (Signal Generator): বিভিন্ন ধরনের টেস্ট সিগন্যাল বা ওয়েভ তৈরি করে।
- মেগার (Megger): হাই-ভোল্টেজ দিয়ে ক্যাবল বা মোটরের ইনসুলেশন রেজিস্ট্যান্স পরীক্ষা করে।
- লজিক অ্যানালাইজার (Logic Analyzer): ডিজিটাল সার্কিটের লজিক স্টেট ও ডেটা পরীক্ষা করে।
- ক্যাপাসিট্যান্স মিটার (Capacitance Meter): ক্যাপাসিটরের মান পরিমাপ করে।
- ট্যাকিং টেস্টার (LAN Tester): নেটওয়ার্ক ক্যাবলের সংযোগ ঠিক আছে কি না পরীক্ষা করে।
- টেস্টার (Test Pen): লাইভ তারে বিদ্যুৎ আছে কি না তা প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে।
- টেম্পারেচার গান (IR Thermometer): স্পর্শ না করে দূর থেকে কোনো যন্ত্রের তাপমাত্রা মাপে।
- টর্ক রেঞ্চ (Torque Wrench): নাট-বল্ট নির্দিষ্ট মাপে টাইট দিতে ব্যবহৃত হয়।
- ট্যাকোমিটার (Tachometer): মোটরের ঘূর্ণন গতি (RPM) পরিমাপ করে।
- লাক্স মিটার (Lux Meter): আলোর তীব্রতা পরিমাপ করে।
- সাউন্ড লেভেল মিটার (Sound Level Meter): শব্দের মাত্রা (dB) মাপে।
- পিএইচ মিটার (pH Meter): তরলের অম্লতা ও ক্ষারত্ব মাপে।
- গ্যালভানোমিটার (Galvanometer): সার্কিটে অতি ক্ষুদ্র কারেন্টের উপস্থিতি ও দিক শনাক্ত করে।
- অ্যামিটার (Ammeter): বৈদ্যুতিক কারেন্ট পরিমাপ করে।
- ভোল্টমিটার (Voltmeter): দুটি বিন্দুর মধ্যকার বিভব পার্থক্য বা ভোল্টেজ মাপে।
- স্পেকট্রাম অ্যানালাইজার (Spectrum Analyzer): ফ্রিকোয়েন্সি স্পেকট্রামে সিগন্যালের শক্তি বিশ্লেষণ করে।
- এলসিআর মিটার (LCR Meter): ইনডাক্টর, ক্যাপাসিটর ও রেজিস্টরের মান নিখুঁতভাবে মাপে।
- আর্থ টেস্টার (Earth Tester): বৈদ্যুতিক আর্থিংয়ের রেজিস্ট্যান্স পরীক্ষা করে।
- হিট গান (Heat Gun): সোল্ডারিং টিউব বা হিট শ্রিংক গলাতে এবং কম্পোনেন্ট সরাতে উচ্চ তাপ উৎপন্ন করে।
৪. সুইচ, কানেক্টর ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক উপকরণ (৭৬ - ১০০)
- টোগল সুইচ (Toggle Switch): ম্যানুয়ালি সার্কিট চালু বা বন্ধ করে।
- পুশ বাটন সুইচ (Push Button Switch): চাপ দিলে সার্কিট সংযোগ করে বা বিচ্ছিন্ন করে।
- রিমোট কন্ট্রোল রিসিভার (IR Receiver): ইনফ্রারেড রিমোটের সিগন্যাল গ্রহণ করে।
- পটেনশিওমিটার (Potentiometer): ম্যানুয়ালি ঘুরিয়ে রেজিস্ট্যান্স বা ভলিউম নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
- বিউজকন্টাক্ট / টার্মিনাল ব্লক (Terminal Block): তার নিরাপদে সংযোগ করতে ব্যবহৃত হয়।
- ব্রেডবোর্ড (Breadboard): সোল্ডারিং ছাড়াই অস্থায়ীভাবে সার্কিট তৈরি ও পরীক্ষা করার বোর্ড।
- পিসিবি (PCB - Printed Circuit Board): স্থায়ী ইলেকট্রনিক সার্কিট তৈরির ফাইবার বা কপার বোর্ড।
- সোল্ডারিং আয়রন (Soldering Iron): টিন বা সোল্ডার গলিয়ে কম্পোনেন্ট জোড়া লাগায়।
- সোল্ডারিং ওয়্যার (Solder Wire): টিন ও সিসার সংকর যা দিয়ে যন্ত্রাংশ জোড়া দেওয়া হয়।
- ডি-সোল্ডারিং পাম্প (Desoldering Pump): গলিত সোল্ডারিং উপাদান টেনে পরিষ্কার করে।
- ইউএসবি পোর্ট (USB Port): ডেটা আদান-প্রদান ও পাওয়ার সরবরাহের কানেক্টর।
- এইচডিএমআই কেবল (HDMI Cable): উচ্চমানের এইচডি ভিডিও ও অডিও সিগন্যাল প্রেরণ করে।
- ইথারনেট কেবল (Ethernet Cable): ইন্টারনেট ও লোকাল নেটওয়ার্কে ডেটা সংযোগ দেয়।
- কোঅ্যাক্সিয়াল ক্যাবল (Coaxial Cable): কেবল টিভি বা ইন্টারনেট সিগন্যাল বহনে ব্যবহৃত হয়।
- ফাইবারের অপটিক ক্যাবল (Fiber Optic Cable): আলোর বেগে অত্যন্ত দ্রুত ডেটা ও ইন্টারনেট আদান-প্রদান করে।
- বাসবার (Busbar): ভারী ইলেকট্রিক্যাল প্যানেলে কারেন্ট বিতরণের মোটা তামা বা অ্যালুমিনিয়ামের বার।
- কন্টাক্টর (Contactor): ভারী বৈদ্যুতিক মোটর বা লোড স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালনা বা বন্ধ করার হেভি-ডিউটি সুইচ।
- ওভারলোড রিলে (Overload Relay): মোটরের অতিরিক্ত কারেন্ট ও গরম হওয়া রোধ করে।
- ক্যাপাসিটর ব্যাংক (Capacitor Bank): পাওয়ার ফ্যাক্টর উন্নত করতে একাধিক ক্যাপাসিটর একত্রে ব্যবহার করা হয়।
- লাইটনিং অ্যারেস্টার (Lightning Arrester): বজ্রপাত বা আকস্মিক হাই-ভোল্টেজ থেকে বিল্ডিং ও সাবস্টেশন রক্ষা করে।
- ইনসুলেটর (Insulator): বৈদ্যুতিক তার থেকে খুঁটিতে কারেন্ট যাতে না আসে তা রোধ করে (যেমন সিরামিক বা গ্লাস)।
- ইলেকট্রিক হিটার কয়েল (Heating Element): বিদ্যুৎ শক্তিকে তাপে রূপান্তর করে।
- থার্মোস্টেট (Thermostat): নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিটার বা কুলার নিয়ন্ত্রণ করে।
- ফিউজ হোল্ডার (Fuse Holder): ফিউজ সুরক্ষিতভাবে আটকে রাখতে ব্যবহৃত হয়।
- হিট সিংক (Heatsink): ট্রানজিস্টর বা প্রসেসরের অতিরিক্ত তাপ শুষে নিয়ে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
Tags:
ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজি