উকিল (Advocate) এবং ব্যারিস্টার (Barrister)
আইন অঙ্গনে উকিল (Lawyer/Advocate) এবং ব্যারিস্টার (Barrister)—এই দুটি শব্দ আমরা অহরহ শুনে থাকি। পেশাগত দিক থেকে উভয়ই আইন পেশার সাথে জড়িত এবং আদালতে মক্কেলের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন। তবে এদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, ডিগ্রি অর্জন এবং কাজের পরিধিতে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. উকিল (Lawyer / Advocate)
সংজ্ঞা ও পরিচিতি
সহজ কথায়, যারা আইন নিয়ে পড়ালেখা করেছেন এবং সাধারণ অর্থে আইন চর্চা করেন, তাদের 'লইয়ার' (Lawyer) বলা হয়। তবে বাংলাদেশে যখন কোনো লইয়ার 'বার কাউন্সিল' (Bangladesh Bar Council)-এর অধীনে এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আদালতে মামলা পরিচালনার লাইসেন্স বা সনদ পান, তখন তাকে বলা হয় ‘অ্যাডভোকেট’ (Advocate) বা সাধারণ ভাষায় ‘উকিল’।
যোগ্যতা
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্বীকৃতিপ্রাপ্ত যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪ বছর মেয়াদি LL.B. (Honours) অথবা গ্র্যাজুয়েশনের পর ২ বছর মেয়াদি LL.B. (Pass) ডিগ্রি অর্জন করতে হয়।
- পেশাগত সনদ: পড়ালেখা শেষ করে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল (Bangladesh Bar Council) কর্তৃক আয়োজিত প্রিলিমিনারি, লিখিত এবং মৌখিক (Viva) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সনদের জন্য নিবন্ধিত হতে হয়।
- ইন্টার্নশিপ: কোনো সিনিয়র আইনজীবীর অধীনে নির্দিষ্ট সময় শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে হয়।
কাজের পরিধি
- বার কাউন্সিলের সনদ পাওয়ার পর তারা শুরুতে অধস্তন আদালত বা বিচারিক আদালতে (Lower Court/District Court) মামলা পরিচালনা করার সুযোগ পান।
- জেলা আদালতে টানা ৩ বছর ওকালতি করার পর এবং নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তারা হাইকোর্ট বিভাগে এবং পরবর্তীতে আপিল বিভাগে মামলা লড়ার অনুমতি পান।
২. ব্যারিস্টার (Barrister)
সংজ্ঞা ও পরিচিতি
যুক্তরাজ্য (UK) বা কমনওয়েলথ আইন ব্যবস্থার অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান হতে যারা আইনের বিশেষ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং দেশটির নির্দিষ্ট 'ইন্স অফ কোর্ট' (Inns of Court) থেকে 'বার-অ্যাট-ল' (Bar-at-Law) সনদপ্রাপ্ত হয়ে পেশাদার সদস্য হন, তাদের ব্যারিস্টার (Barrister) বলা হয়।
যোগ্যতা
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: যুক্তরাজ্য থেকে স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় হতে ৩ বছর মেয়াদি LL.B (Honours) সম্পন্ন করতে হয়। (বাংলাদেশ থেকে ভূঁইয়া একাডেমি বা অন্যান্য ডিস্টেন্স লার্নিং এর মাধ্যমেও UK-এর ডিগ্রি নেওয়া যায়)।
- বার কোর্ট: আইন পাসের পর বার প্র্যাক্টিস কোর্স—BTC (Bar Training Course) বা Bar Transfer Course সম্পন্ন করতে হবে।
- ইন্স অফ কোর্ট (Inns of Court): যুক্তরাজ্যের ৪টি বিখ্যাত ইন্স অফ কোর্টের (Lincoln's Inn, Inner Temple, Middle Temple, Gray's Inn) যেকোনো একটির সদস্য হতে হয় এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক 'ডিউটি ডিনার' বা ইভেন্টে অংশ নিয়ে 'কল টু দ্য বার' (Call to the Bar) লাভ করতে হয়।
কাজের পরিধি
- ইংল্যান্ডের আইন অনুযায়ী ব্যারিস্টাররা সাধারণত উচ্চ আদালতে মক্কেলের পক্ষে সরাসরি কথা বলা বা বিতর্ক করার (Plead) কাজ করেন।
- বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট: যুক্তরাজ্য থেকে 'ব্যারিস্টার' ডিগ্রি নিয়ে বাংলাদেশে এলেই তিনি সরাসরি এখানকার আদালতে মামলা লড়তে পারেন না। বাংলাদেশে ওকালতি করতে হলে তাদেরও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী অ্যাডভোকেট বা এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় পাস করতে হয়। পাস করার পরই তারা বাংলাদেশে 'ব্যারিস্টার অ্যাডভোকেট' হিসেবে আদালতে মামলা পরিচালনা করেন।
উকিল ও ব্যারিস্টারের পার্থক্য (এক নজরে)
|
বিষয় |
উকিল / অ্যাডভোকেট (Advocate) |
ব্যারিস্টার (Barrister) |
|---|---|---|
|
শিক্ষাগত ডিগ্রির স্থান |
প্রধানত দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা বার কাউন্সিল স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান। |
যুক্তরাজ্য (UK) বা এর আওতাধীন নির্দিষ্ট 'ইন্স অফ কোর্ট'। |
|
সনদ প্রদানকারী সংস্থা |
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল (Bangladesh Bar Council)। |
যুক্তরাজ্যের চারটি 'ইন্স অফ কোর্ট'-এর যেকোনো একটি। |
|
ডিগ্রির নাম |
LL.B (Honours / Pass) + Bar Council License. |
Bar-at-Law (Call to the Bar)। |
|
আদালতে অনুশীলনের অনুমতি |
বার কাউন্সিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে সরাসরি বাংলাদেশের জেলা আদালতে প্র্যাকটিস করতে পারেন। |
ইউকে-র ডিগ্রি হলেও বাংলাদেশে প্র্যাকটিস করতে বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষা দেওয়া বাধ্যতামূলক। |
|
সামাজিক উপাধি |
নামের পূর্বে অ্যাডভোকেট (Advocate) লেখেন। |
নামের পূর্বে ব্যারিস্টার (Barrister) লেখার অধিকার পান। |
.png)