কোনো শীর্ষক নেই
SATKHIRA POLYTECHNIC INSTITUTE
Department of Electronics Techonology
COMPETENCY STANDARD MODULE
“Basic Computer Operation”
A Practical & Theoretical Guide for Students
Prepared By:
Pintu Kumar Mondal
Jr. Instructor (Electronics)
Satkhira Polytechnic Institute
Session: 2025–2026
Course Level: Level 4
Satkhira, Bangladesh
জব ১।
কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন ।
১. কম্পিউটার (Computer)
শব্দটির অর্থ কী?
'কম্পিউটার' শব্দটি গ্রিক শব্দ 'Compute'
থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো গণনা করা। তাই
আভিধানিক অর্থে কম্পিউটার একটি গণনাকারী যন্ত্র। তবে বর্তমানে এটি কেবল গণনার
মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি একটি বহুমুখী তথ্যপ্রযুক্তি
যন্ত্র।
২. আধুনিক কম্পিউটারের জনক কে?
আধুনিক
কম্পিউটারের জনক বলা হয় ব্রিটিশ গণিতবিদ চার্লস ব্যাবেজকে (Charles Babbage)। তিনি ১৮৩৩ সালে 'অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন' নামক একটি যান্ত্রিক
কম্পিউটারের নকশা তৈরি করেছিলেন, যা বর্তমান কম্পিউটারের
মূল ভিত্তি।
৩. হার্ডওয়্যার (Hardware)
ও সফটওয়্যার (Software) কী?
- হার্ডওয়্যার: কম্পিউটারের যেসব ভৌত অংশ
স্পর্শ করা যায়, তাকে হার্ডওয়্যার বলে। যেমন: মনিটর, কিবোর্ড,
মাদারবোর্ড।
- সফটওয়্যার: এটি হলো একগুচ্ছ প্রোগ্রাম বা
নির্দেশনাবলি যা হার্ডওয়্যারকে কাজ করার ক্ষমতা দেয়। যেমন: উইন্ডোজ, এমএস ওয়ার্ড, ফটোশপ।
৪. CPU কী এবং একে কেন 'মস্তিষ্ক' বলা হয়?
CPU-এর পূর্ণরূপ হলো Central Processing
Unit। কম্পিউটারের সমস্ত গাণিতিক
হিসাব-নিকাশ, নিয়ন্ত্রণ এবং
তথ্য প্রক্রিয়াকরণের কাজ এখানেই সম্পন্ন হয়। মানুষের মস্তিষ্ক যেমন শরীরের সব অঙ্গ
নিয়ন্ত্রণ করে, CPU-ও তেমনি কম্পিউটারের সব কার্যক্রম
নিয়ন্ত্রণ করে।
৫. RAM ও ROM-এর মূল পার্থক্য কী?
- RAM (Random Access Memory): এটি অস্থায়ী মেমোরি। কম্পিউটার
বন্ধ করলে এর ডেটা মুছে যায়। এটি কম্পিউটারের গতি বাড়াতে সাহায্য করে।
- ROM (Read Only Memory): এটি স্থায়ী মেমোরি। এতে
কম্পিউটারের প্রয়োজনীয় স্থায়ী নির্দেশনাবলি থাকে, যা
বিদ্যুৎ চলে গেলেও মুছে যায় না।
৬. অপারেটিং সিস্টেম (Operating System) কী?
অপারেটিং
সিস্টেম হলো এমন একটি সফটওয়্যার যা ব্যবহারকারী এবং কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারের
মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করে। যেমন: Windows 11, macOS, Linux এবং মোবাইলের জন্য Android।
৭. ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস কী?
- ইনপুট ডিভাইস: যার মাধ্যমে কম্পিউটারকে
নির্দেশ দেওয়া হয়। উদাহরণ: কিবোর্ড, মাউস, মাইক্রোফোন,
স্ক্যানার।
- আউটপুট ডিভাইস: যার মাধ্যমে কম্পিউটার ফলাফলা
প্রদর্শন করে। উদাহরণ: মনিটর, প্রিন্টার, স্পিকার।
৮. বিট (Bit) ও বাইট (Byte) কাকে বলে?
কম্পিউটার
ভাষার ক্ষুদ্রতম একক হলো বিট (০ অথবা ১)। ৮টি বিট একত্রিত হয়ে তৈরি হয় ১ বাইট। যেমন: ১টি ক্যারেক্টার (A বা B) লিখতে ১ বাইট জায়গা
লাগে।
৯. ১ গিগাবাইট (1 GB)
সমান কত মেগাবাইট (MB)?
প্রযুক্তির
হিসেবে ১ গিগাবাইট (1 GB)
= ১০২৪ মেগাবাইট (1024 MB)। একইভাবে ১ মেগাবাইট = ১০২৪ কিলোবাইট (KB)।
১০. মাদারবোর্ড (Motherboard)
কী?
মাদারবোর্ড
হলো কম্পিউটারের প্রধান সার্কিট বোর্ড। এর মাধ্যমে CPU, RAM, হার্ড ডিস্ক এবং অন্যান্য সব যন্ত্রাংশ একে
অপরের সাথে যুক্ত থাকে।
১১. হার্ড ডিস্ক (Hard
Disk) ও SSD-এর মধ্যে পার্থক্য কী?
- Hard Disk: এটি একটি পুরনো প্রযুক্তির স্টোরেজ যা ঘুরন্ত
ডিস্কের মাধ্যমে তথ্য জমা রাখে। এটি কিছুটা ধীরগতির।
- SSD (Solid State Drive): এটি নতুন প্রযুক্তির চিপ-ভিত্তিক
স্টোরেজ। এটি হার্ড ডিস্কের চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত এবং টেকসই।
১২. আইপি অ্যাড্রেস (IP Address) কী?
ইন্টারনেটে
যুক্ত প্রতিটি কম্পিউটারের একটি নির্দিষ্ট ও অনন্য ঠিকানা থাকে, যার মাধ্যমে সেটিকে চেনা যায়। একেই
বলা হয় Internet Protocol Address।
১৩. ভাইরাস (Virus)
কী?
কম্পিউটার
ভাইরাস হলো এক ধরনের ক্ষতিকারক সফটওয়্যার বা প্রোগ্রাম যা কম্পিউটারের ফাইল নষ্ট
করে দেয় বা সিস্টেমের ক্ষতি করে। এর পূর্ণরূপ হলো Vital Information Resources Under Seize।
১৪. অ্যান্টিভাইরাস (Antivirus) কেন প্রয়োজন?
অ্যান্টিভাইরাস
হলো এমন সফটওয়্যার যা কম্পিউটারকে ভাইরাস, ম্যালওয়্যার বা হ্যাকারদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং
কম্পিউটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
১৫. ইউআরএল (URL) বলতে কী বোঝায়?
URL-এর পূর্ণরূপ হলো Uniform
Resource Locator। এটি হলো ইন্টারনেটে কোনো নির্দিষ্ট
ওয়েবসাইট বা ফাইলের ঠিকানা। যেমন: https://www.google.com।
১৬. ডাটা প্রসেসিং (Data Processing) কী?
অগোছালো তথ্য
বা উপাত্তকে (Raw Data) কম্পিউটারের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করে অর্থবহ ফলাফলে রূপান্তর করার
পদ্ধতিকে ডাটা প্রসেসিং বলা হয়।
১৭. ক্লাউড কম্পিউটিং (Cloud Computing) কী?
নিজের
কম্পিউটারে তথ্য জমা না রেখে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোনো রিমোট সার্ভারে তথ্য জমা
রাখা এবং সেখান থেকে পরিষেবা গ্রহণ করাকেই ক্লাউড কম্পিউটিং বলে। যেমন: Google Drive বা iCloud।
১৮. মডেম (Modem) কী কাজ করে?
মডেম হলো এমন
একটি ডিভাইস যা অ্যানালগ সিগন্যালকে ডিজিটালে এবং ডিজিটাল সিগন্যালকে অ্যানালগ
সিগন্যালে রূপান্তর করে কম্পিউটারকে ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত করে।
১৯. কিবোর্ডে কয়টি ফাংশন কি (Function Keys) থাকে?
কিবোর্ডের
একদম উপরের সারিতে F1 থেকে F12 পর্যন্ত মোট ১২টি ফাংশন কি থাকে। এগুলোর প্রতিটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য
ব্যবহৃত হয়।
২০. বাইনারি পদ্ধতি (Binary System) কী?
যে সংখ্যা
পদ্ধতিতে কেবল দুটি অঙ্ক ০ এবং ১ ব্যবহৃত হয়, তাকে বাইনারি পদ্ধতি বলে। কম্পিউটার তার সমস্ত কাজ এই ০
এবং ১-এর সংমিশ্রণে সম্পন্ন করে।
জব ২।
কম্পিউটার হার্ডওয়ার পরিচিতি।
১. সিস্টেম ইউনিট (System Unit)
এটি
কম্পিউটারের মূল কাঠামো, যার ভেতরে সব গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ থাকে। একে কম্পিউটারের
'শরীর' বলা যেতে পারে।
- মাদারবোর্ড (Motherboard): এটি কম্পিউটারের প্রধান সার্কিট
বোর্ড। কম্পিউটারের সব অংশ (CPU, RAM, Hard Disk) এই
বোর্ডের সাথেই যুক্ত থাকে।
- সিপিইউ (CPU - Central Processing Unit): একে কম্পিউটারের মস্তিষ্ক বলা
হয়। এটি সমস্ত গাণিতিক ও যুক্তিমূলক কাজ সম্পন্ন করে।
- র্যাম (RAM): এটি একটি অস্থায়ী মেমোরি। কম্পিউটার চলাকালীন
প্রয়োজনীয় তথ্য এখানে জমা থাকে। র্যাম যত বেশি হয়, কম্পিউটার
তত দ্রুত কাজ করতে পারে।
- পাওয়ার সাপ্লাই (PSU): এটি দেয়ালের বৈদ্যুতিক লাইন থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে
কম্পিউটারের প্রতিটি অংশে সঠিক পরিমাণে সরবরাহ করে।

২. ইনপুট ডিভাইস (Input
Devices)
যেসব
যন্ত্রের মাধ্যমে আমরা কম্পিউটারকে নির্দেশ দেই বা তথ্য পাঠাই, সেগুলোকে ইনপুট ডিভাইস বলে।
- কিবোর্ড (Keyboard): এটি প্রধান ইনপুট ডিভাইস। এর মাধ্যমে আমরা লেখালেখি
করি এবং বিভিন্ন কমান্ড দেই।
- মাউস (Mouse): এটি একটি পয়েন্টিং ডিভাইস। স্ক্রিনে কার্সর নাড়িয়ে
বিভিন্ন আইকন বা ফোল্ডার সিলেক্ট করতে এটি ব্যবহৃত হয়।
- স্ক্যানার (Scanner): কোনো কাগজ বা ছবিকে ডিজিটাল ফর্মে কম্পিউটারে সেভ
করার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।
৩. স্টোরেজ ডিভাইস (Storage Devices)
কম্পিউটারে
তথ্য স্থায়ীভাবে সেভ বা জমা রাখার জন্য এই অংশগুলো ব্যবহৃত হয়।
- হার্ড ডিস্ক (HDD) বা এসএসডি (SSD): এখানে আপনার সব ফাইল, গান, মুভি এবং সফটওয়্যার জমা থাকে।
বর্তমানে SSD অনেক বেশি জনপ্রিয় কারণ এটি হার্ড
ডিস্কের চেয়ে অনেক দ্রুত কাজ করে।
- পেনড্রাইভ বা মেমোরি কার্ড: এগুলো বহনযোগ্য স্টোরেজ, যা এক কম্পিউটার থেকে অন্য
কম্পিউটারে তথ্য নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়।
৪. আউটপুট ডিভাইস (Output Devices)
কম্পিউটার
প্রসেসিং করার পর যে যন্ত্রগুলোর মাধ্যমে আমাদের ফলাফল দেখায়, সেগুলোকে আউটপুট ডিভাইস বলে।
- মনিটর (Monitor): এটি কম্পিউটারের প্রধান ডিসপ্লে ইউনিট। আমরা যা
কিছু করি তা মনিটরের পর্দায় দেখতে পাই।

- প্রিন্টার (Printer): কম্পিউটারের কোনো ডকুমেন্ট বা ছবি কাগজে ছাপানোর
জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।
- স্পিকার (Speaker): কম্পিউটারের শব্দ বা গান শোনার জন্য এটি ব্যবহৃত
হয়।
৫. গ্রাফিক্স কার্ড (Graphics Card / GPU)
ভিডিও দেখা, গেম খেলা বা এডিটিংয়ের মতো ভারী
কাজগুলো সুন্দরভাবে করার জন্য গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহৃত হয়। এটি মাদারবোর্ডের সাথে
যুক্ত থাকে এবং উন্নত মানের ছবি বা ভিডিও প্রসেস করতে সাহায্য করে।

সংক্ষেপে
কম্পিউটার কীভাবে কাজ করে?
আপনি ইনপুট (কিবোর্ড/মাউস) দিয়ে তথ্য দেন CPU
সেই তথ্য প্রসেস করে ফলাফল আউটপুট (মনিটর/প্রিন্টার) হিসেবে দেখায় এবং প্রয়োজনে স্টোরেজ-এ (Hard Disk) জমা রাখে।
জব
৩। মাইক্রোসফট অফিস সম্পর্কে সাধারণ
ধারণা।
মাইক্রোসফট
অফিস (Microsoft Office) হলো
দাপ্তরিক বা অফিসের কাজের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সফটওয়্যার প্যাকেজ।
প্রাথমিক জ্ঞান ও সাধারণ কাজের দক্ষতা অর্জনের জন্য আপনাকে প্রধানত তিনটি
সফটওয়্যারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে: MS Word, MS Excel, এবং MS PowerPoint।

নিচে এই
তিনটি সফটওয়্যারের প্রাথমিক কাজ ও দক্ষতা অর্জনের ধাপগুলো আলোচনা করা হলো:
১. মাইক্রোসফট ওয়ার্ড (MS Word) — লেখালেখির জন্য
এটি মূলত
ডকুমেন্ট তৈরি, টাইপিং এবং ফরম্যাটিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়।
প্রাথমিক
দক্ষতা:
- Text Formatting: ফন্ট পরিবর্তন করা, সাইজ বড়-ছোট করা, বোল্ড (B),
ইটালিক (I), এবং আন্ডারলাইন
(U) করা।
- Alignment: লেখাকে বামে, ডানে বা
মাঝখানে (Center) সাজানো।
- Insert Table: ডাটা সাজানোর জন্য টেবিল তৈরি
করা।
- Page Layout: কাগজের সাইজ (A4, Letter)
এবং মার্জিন ঠিক করা।
- Save & Print: ফাইল সেভ করা এবং প্রিন্ট
প্রিভিউ দেখে প্রিন্ট দেওয়া।
২. মাইক্রোসফট এক্সেল (MS Excel) — হিসাব-নিকাশের জন্য
গাণিতিক
হিসাব, বাজেট তৈরি এবং
ডাটা এন্ট্রির জন্য এটি অপরিহার্য। এটি রো (Row) এবং কলাম
(Column) আকারে সাজানো থাকে।
প্রাথমিক
দক্ষতা:
- Basic Formula: যোগ, বিয়োগ,
গুণ ও ভাগের সাধারণ সূত্র ব্যবহার করা। যেমন:
=SUM(A1:A10) দিয়ে যোগ করা।
- Cell Formatting: সেলের বর্ডার দেওয়া, রঙ পরিবর্তন করা এবং কারেন্সি বা পার্সেন্টেজ ফরম্যাট করা।
- Sort & Filter: বড় ডাটা থেকে নির্দিষ্ট তথ্য
খুঁজে বের করা বা ছোট-বড় হিসেবে সাজানো।
- AutoFill: সিরিয়াল নম্বর বা তারিখ টেনে দ্রুত পূরণ করা।
৩. মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট (MS PowerPoint) — প্রেজেন্টেশনের জন্য
সভা, সেমিনার বা ক্লাসে কোনো বিষয়
স্লাইডের মাধ্যমে উপস্থাপন করার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।
প্রাথমিক
দক্ষতা:
- Slide Creation: নতুন স্লাইড নেওয়া এবং লেআউট
পছন্দ করা।
- Insert Media: স্লাইডে ছবি, ভিডিও, চার্ট বা শেইপ যুক্ত করা।
- Design & Theme: সুন্দর ব্যাকগ্রাউন্ড এবং থিম
ব্যবহার করে প্রেজেন্টেশন আকর্ষণীয় করা।
- Transitions & Animation: এক স্লাইড থেকে অন্য স্লাইডে
যাওয়ার স্টাইল (Transition) এবং লেখার নড়াচড়া (Animation)
সেট করা।
- Slide Show: F5 চেপে ফুল স্ক্রিনে প্রেজেন্টেশন
প্রদর্শন করা।
সাধারণ দক্ষতা অর্জনের ৫টি টিপস:
১. কিবোর্ড
শর্টকাট শিখুন: কাজ দ্রুত করার জন্য নিচের শর্টকাটগুলো মুখস্থ করে ফেলুন:
- Ctrl + C (Copy), Ctrl + V (Paste), Ctrl + X (Cut)
- Ctrl + S (Save), Ctrl + Z (Undo), Ctrl + P
(Print)
- Ctrl + A (Select All)
২. টেমপ্লেট
ব্যবহার করুন: নতুন ফাইল খোলার সময় এমএস অফিসের বিল্ট-ইন 'Templates' (যেমন: Resume,
Budget, Calendar) দেখুন। এগুলো দেখলে কাজের আইডিয়া পাওয়া যায়।
৩. মেনু
বার বা রিবন পরিচিতি: উপরে থাকা Home, Insert, Page Layout ট্যাবগুলোর ভেতরে কী কী অপশন
আছে তা বারবার ক্লিক করে দেখুন।
৪. প্র্যাকটিস
প্রজেক্ট: নিজে একটি জীবনবৃত্তান্ত (CV) তৈরি করুন (Word-এ), মাসের খরচের হিসাব করুন (Excel-এ) এবং নিজের
শখ নিয়ে ৫টি স্লাইড তৈরি করুন (PowerPoint-এ)।
৫. হেল্প
অপশন: কাজ করতে গিয়ে আটকে গেলে সফটওয়্যারের ভেতর 'Tell me what you want to do' বক্সে
সার্চ করুন।

জব ৪।
কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সম্পর্কে সাধারণ ধারণা।
কম্পিউটার
নেটওয়ার্ক হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে দুই বা ততোধিক কম্পিউটার একে অপরের সাথে
যুক্ত হয়ে তথ্য, ফাইল এবং হার্ডওয়্যার রিসোর্স (যেমন: প্রিন্টার) শেয়ার করে। নেটওয়ার্ক
সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আপনাকে নিচের মূল বিষয়গুলো বুঝতে হবে:

১. নেটওয়ার্কের ধরন (Types of Network)
ভৌগোলিক
বিস্তৃতি বা সীমানার ওপর ভিত্তি করে নেটওয়ার্ককে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা হয়:
- PAN (Personal Area Network): খুব ছোট পরিসরে (যেমন: ব্লুটুথের
মাধ্যমে ফোন ও ল্যাপটপের সংযোগ)। এর ব্যাপ্তি সাধারণত ১০ মিটারের মধ্যে।
- LAN (Local Area Network): একটি নির্দিষ্ট ভবন, অফিস বা বাড়ির ভেতরের নেটওয়ার্ক। এটি সবচেয়ে দ্রুতগতির নেটওয়ার্ক।
- MAN (Metropolitan Area Network): একটি পুরো শহর জুড়ে বিস্তৃত
নেটওয়ার্ক। যেমন: একটি শহরের বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা বা ক্যাবল টিভি
নেটওয়ার্ক।
- WAN (Wide Area Network): বিশাল ভৌগোলিক এলাকা বা
বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক। ইন্টারনেট হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় WAN।
২. নেটওয়ার্ক টপোলজি (Network Topology)
নেটওয়ার্কের
কম্পিউটারগুলো একে অপরের সাথে কীভাবে শারীরিকভাবে যুক্ত থাকে, তাকেই টপোলজি বলে। প্রধান কিছু
টপোলজি হলো:
- Bus Topology: একটি মূল তারের (Backbone)
সাথে সব কম্পিউটার যুক্ত থাকে।
- Star Topology: একটি কেন্দ্রীয় ডিভাইসের (Hub
বা Switch) সাথে সব কম্পিউটার
যুক্ত থাকে। এটি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত
হয়।
- Ring Topology: প্রতিটি কম্পিউটার তার পাশের
দুটির সাথে যুক্ত হয়ে একটি বৃত্ত তৈরি করে।
- Mesh Topology: প্রতিটি কম্পিউটার নেটওয়ার্কের
অন্য সব কম্পিউটারের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে। এটি সবচেয়ে শক্তিশালী কিন্তু
ব্যয়বহুল।
৩. নেটওয়ার্কিং ডিভাইস (Networking Devices)
নেটওয়ার্ক
তৈরি করতে কিছু বিশেষ যন্ত্রের প্রয়োজন হয়:
- Router (রাউটার): এটি দুটি ভিন্ন নেটওয়ার্কের
মধ্যে ডাটা আদান-প্রদান করে এবং ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হতে সাহায্য করে।
- Switch (সুইচ): একটি নির্দিষ্ট নেটওয়ার্কের (LAN) ভেতরে থাকা কম্পিউটারগুলোর
মধ্যে ডাটা আদান-প্রদান করে।
- Modem (মডেম): ডিজিটাল সিগন্যালকে অ্যানালগ
এবং অ্যানালগ সিগন্যালকে ডিজিটালে রূপান্তর করে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়।
- NIC (Network Interface Card): কম্পিউটারের ভেতরে থাকা একটি
কার্ড যা কম্পিউটারকে নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হতে সাহায্য করে।
৪. আইপি অ্যাড্রেস ও প্রোটোকল (IP Address & Protocol)
- IP Address: নেটওয়ার্কে থাকা প্রতিটি
কম্পিউটারের একটি অনন্য পরিচয় বা ঠিকানা থাকে, যাকে
আইপি অ্যাড্রেস বলে। যেমন: 192.168.1.1।
- Protocol: এটি হলো তথ্য আদান-প্রদানের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম।
যেমন: HTTP (ওয়েবসাইট দেখার জন্য), FTP
(ফাইল ট্রান্সফারের জন্য), TCP/IP (ইন্টারনেট যোগাযোগের মূল ভিত্তি)।
৫. ওএসআই মডেল (OSI
Model)
নেটওয়ার্কিংয়ের
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক বিষয় হলো OSI Model। এটি ৭টি স্তরে বা লেয়ারে ভাগ করা, যা বর্ণনা করে কীভাবে একটি কম্পিউটার
থেকে অন্য কম্পিউটারে ডাটা পৌঁছায়: ১. Physical, ২. Data
Link, ৩. Network, ৪. Transport,
৫. Session, ৬. Presentation, এবং ৭. Application Layer।
জব ৫।
কম্পিউটারের কিছু সাধারণ সমস্যা ও তার সমাধান।
কম্পিউটার
ব্যবহার করতে গিয়ে আমরা প্রায়ই কিছু সাধারণ সমস্যার সম্মুখীন হই। নিচে এ
ধরনের কিছু সাধারণ সমস্যা এবং সেগুলোর সহজ
সমাধান দেওয়া হলো:

১. কম্পিউটার চালু হচ্ছে না
- সমাধান: পাওয়ার কেবল ঠিকমতো লাগানো আছে
কি না চেক করুন। ল্যাপটপ হলে ব্যাটারি চার্জ আছে কি না বা অ্যাডাপ্টার কাজ
করছে কি না দেখুন।
২. কম্পিউটার খুব ধীরগতিতে (Slow) কাজ করছে
- সমাধান: অনেকগুলো প্রোগ্রাম একসাথে খুলে
রাখবেন না। Task
Manager থেকে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ করুন এবং নিয়মিত Temp
Files ডিলিট করুন।
৩. কম্পিউটার হঠাৎ হ্যাং (Hang) হয়ে যাওয়া
- সমাধান: কিবোর্ড থেকে Ctrl + Alt + Delete চেপে টাস্ক
ম্যানেজার ওপেন করে যে প্রোগ্রামটি আটকে গেছে সেটি 'End Task' করে দিন।
৪. ইন্টারনেট কানেকশন কাজ করছে না
- সমাধান: রাউটার রিস্টার্ট দিন।
কম্পিউটারের Wi-Fi বা Ethernet ড্রাইভার চেক করুন এবং
নিশ্চিত করুন যে 'Airplane Mode' বন্ধ আছে।
৫. নীল স্ক্রিন আসা (Blue Screen of Death)
- সমাধান: এটি সাধারণত হার্ডওয়্যার বা
ড্রাইভারের সমস্যার কারণে হয়। কম্পিউটার রিস্টার্ট দিন। সমস্যা না মিটলে
সাম্প্রতিক ইনস্টল করা সফটওয়্যার আনইনস্টল করুন।
৬. বারবার কম্পিউটার রিস্টার্ট হওয়া
- সমাধান: প্রসেসর অতিরিক্ত গরম (Overheating) হচ্ছে কি না চেক
করুন। কুলিং ফ্যান পরিষ্কার করুন।
৭. কিবোর্ড কাজ করছে না
- সমাধান: USB কেবলটি খুলে অন্য পোর্টে
লাগিয়ে দেখুন। ড্রাইভার আপডেট করুন। ওয়্যারলেস কিবোর্ড হলে ব্যাটারি চেক
করুন।
৮. মাউস কাজ করছে না
- সমাধান: মাউসের সেন্সর পরিষ্কার করুন।
ওয়্যারলেস মাউসের ক্ষেত্রে রিসিভারটি পুনরায় কানেক্ট করুন।
৯. শব্দ (Sound) শোনা যাচ্ছে না
- সমাধান: স্পিকারের ভলিউম এবং মিউট অপশন
চেক করুন। অডিও ড্রাইভারটি আপডেট বা রি-ইনস্টল করুন।
১০. মনিটরে ছবি আসছে না
- সমাধান: মনিটরের পাওয়ার এবং ভিডিও
ক্যাবল (VGA/HDMI)
ঠিকমতো লাগানো আছে কি না দেখুন।
১১. পেনড্রাইভ বা USB ডিভাইস পাচ্ছে না
- সমাধান: অন্য পোর্টে লাগিয়ে দেখুন। Device Manager থেকে USB ড্রাইভার আপডেট করুন।
১২. কম্পিউটার খুব বেশি গরম হওয়া
- সমাধান: সিপিইউ ফ্যান পরিষ্কার করুন এবং
কম্পিউটারের চারপাশে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের জায়গা রাখুন।
১৩. ব্রাউজার খুব স্লো কাজ করা
- সমাধান: ব্রাউজারের ক্যাশ (Cache) এবং কুকিজ (Cookies)
ক্লিয়ার করুন। অপ্রয়োজনীয় এক্সটেনশন ডিলিট করুন।
১৪. ফাইল ওপেন হচ্ছে না
- সমাধান: ফাইলটি ওপেন করার জন্য সঠিক
সফটওয়্যার ইনস্টল করা আছে কি না নিশ্চিত করুন।
১৫. উইন্ডোজ আপডেট জনিত সমস্যা
- সমাধান: সেটিংস থেকে Windows Update চেক করুন এবং
ম্যানুয়ালি আপডেট দেওয়ার চেষ্টা করুন।
১৬. রিসাইকেল বিন থেকে ফাইল ডিলিট হচ্ছে না
- সমাধান: কম্পিউটার রিস্টার্ট দিয়ে আবার
চেষ্টা করুন। অথবা অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হিসেবে লগইন করুন।
১৭. প্রিন্ট হচ্ছে না
- সমাধান: প্রিন্টারের সংযোগ, কাগজ এবং কালির কার্টিজ চেক
করুন। প্রিন্টার ড্রাইভার রি-ইনস্টল করুন।
১৮. কোনো অ্যাপ ওপেন হতে অনেক সময় নেওয়া
- সমাধান: আপনার কম্পিউটারের RAM কম হলে এমন হতে পারে। ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা অন্যান্য অ্যাপ
বন্ধ রাখুন।
১৯. সময় এবং তারিখ ভুল দেখানো
- সমাধান: মাদারবোর্ডের CMOS Battery নষ্ট হয়ে গেলে এমন হয়।
ব্যাটারিটি পরিবর্তন করুন।
২০. ভাইরাস বা ম্যালওয়্যারের আক্রমণ
- সমাধান: একটি ভালো মানের অ্যান্টিভাইরাস
দিয়ে ফুল সিস্টেম স্ক্যান করুন এবং সন্দেহজনক কোনো লিঙ্কে ক্লিক করবেন না।