কোনো শীর্ষক নেই

মানবদেহে রোগ নির্ণয়ের জন্য আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে শত শত ল্যাবরেটরি টেস্ট রয়েছে। আপনার বোঝার সুবিধার্থে ৭০ টি গুরুত্বপূর্ণ টেস্টকে তাদের ধরণ ও রোগের বিভাগ অনুযায়ী নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:


১. রক্ত সংক্রান্ত সাধারণ টেস্ট (General Blood Tests)

১. CBC (Complete Blood Count): রক্তাল্পতা (Anemia) ও ইনফেকশন বুঝতে করা হয়। শিরার রক্ত নিয়ে রক্তকণিকার সংখ্যা মাপা হয়।

২. ESR (Erythrocyte Sedimentation Rate): শরীরে কোথাও দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ বা ইনফেকশন আছে কিনা তা বোঝা যায়।

৩. Blood Grouping & Rh Typing: রক্তের গ্রুপ (A, B, AB, O) এবং পজিটিভ না নেগেটিভ তা জানতে করা হয়।

৪. HBA1C: গত ৩ মাসের গড় ডায়াবেটিসের অবস্থা বুঝতে এই রক্ত পরীক্ষা করা হয়।

৫. FBS (Fasting Blood Sugar): খালি পেটে ডায়াবেটিস মাপার পরীক্ষা।

৬. RBS (Random Blood Sugar): দিনের যেকোনো সময় ডায়াবেটিসের মাত্রা দেখতে করা হয়।

৭. Lipid Profile: রক্তে চর্বি বা কোলেস্টেরল (HDL, LDL, Triglycerides) মাপতে ১২ ঘণ্টা না খেয়ে রক্ত দিতে হয়।

৮. Serum Bilirubin: জন্ডিস হয়েছে কিনা তা বুঝতে করা হয়।

৯. SGPT/ALT: লিভারের কার্যকারিতা বা লিভারে কোনো ক্ষতি হয়েছে কিনা দেখতে করা হয়।

১০. Serum Creatinine: কিডনির কার্যকারিতা বোঝার সবচেয়ে প্রধান পরীক্ষা।


২. হার্ট ও হৃদরোগের টেস্ট (Heart & Cardiology)

১১. ECG (Electrocardiogram): হৃদপিণ্ডের ইলেকট্রিক্যাল অ্যাক্টিভিটি এবং হার্ট বিট স্বাভাবিক কিনা তা দেখা হয়।

১২. ECHO (Echocardiogram): আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে হার্টের ভালভ ও চেম্বারের গঠন দেখা হয়।

১৩. ETT (Exercise Tolerance Test): ট্রেডমিলে হাঁটার মাধ্যমে চাপের মুখে হার্ট কেমন কাজ করে তা দেখা হয়।

১৪. Troponin-I: হার্ট অ্যাটাক হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে এই রক্ত পরীক্ষা করা হয়।

১৫. NT-proBNP: হার্ট ফেইলিউর বা হার্ট দুর্বল হয়ে গেছে কিনা তা বুঝতে করা হয়।

১৬. Coronary Angiogram: হার্টের ধমনীতে কোনো ব্লক আছে কিনা তা দেখার জন্য ইনজেকশনের মাধ্যমে ডাই দিয়ে এক্স-রে করা হয়।

১৭. Holter Monitoring: ২৪-৪৮ ঘণ্টা হার্ট বিট রেকর্ড করার জন্য একটি ডিভাইস শরীরে লাগিয়ে রাখা হয়।


৩. লিভার ও পাকস্থলী (Gastroenterology)

১৮. HBsAg: হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস আছে কিনা তা দেখতে করা হয়।

১৯. Anti-HCV: হেপাটাইটিস-সি ভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষা।

২০. Endoscopy: মুখের ভেতর দিয়ে ক্যামেরা ঢুকিয়ে পাকস্থলী বা খাদ্যনালীর আলসার/ক্যান্সার দেখা হয়।

২১. Colonoscopy: মলদ্বার দিয়ে ক্যামেরা ঢুকিয়ে বৃহদান্ত্রের সমস্যা দেখা হয়।

২২. Serum Amylase/Lipase: প্যানক্রিয়াটাইটিস বা অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ বুঝতে করা হয়।

২৩. Stool R/E: মলে কৃমি, রক্ত বা ইনফেকশন আছে কিনা দেখতে মল পরীক্ষা করা হয়।


৪. কিডনি ও মূত্রনালী (Nephrology & Urology)

২৪. Urine R/M/E: প্রস্রাবে প্রোটিন, সুগার বা পুঁজ আছে কিনা তা দেখতে করা হয়।

২৫. Urine Culture: প্রস্রাবে কোনো ব্যাকটেরিয়া আছে কিনা এবং কোন অ্যান্টিবায়োটিকে কাজ হবে তা দেখা হয়।

২৬. Serum Electrolytes: রক্তে সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের ভারসাম্য দেখতে করা হয়।

২৭. BUN (Blood Urea Nitrogen): কিডনির ছাঁকন ক্ষমতা মাপার আরেকটি রক্ত পরীক্ষা।

২৮. Uroflowmetry: প্রস্রাবের গতিবেগ মাপার পরীক্ষা।


৫. হরমোন ও থাইরয়েড (Endocrinology)

২৯. TSH: থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন নিয়ন্ত্রণ ঠিক আছে কিনা দেখা হয়।

৩০. FT4 (Free Thyroxine): থাইরয়েডের কার্যকারিতা বাড়া বা কমা (Hyper/Hypo) দেখতে করা হয়।

৩১. Serum Prolactin: প্রজনন স্বাস্থ্য বা পিটুইটারি গ্ল্যান্ডের সমস্যা দেখতে করা হয়।

৩২. Testosterone: পুরুষের হরমোনের মাত্রা দেখতে করা হয়।

৩৩. FSH & LH: বন্ধ্যাত্ব বা মাসিকের সমস্যা বুঝতে মহিলাদের করা হয়।


৬. ফুসফুস ও বক্ষব্যাধি (Respiratory)

৩৪. Chest X-Ray: ফুসফুসে নিউমোনিয়া, টিবি বা জল জমেছে কিনা দেখতে করা হয়।

৩৫. Sputum for AFB: কফ পরীক্ষার মাধ্যমে যক্ষ্মা (TB) শনাক্ত করা হয়।

৩৬. Spirometry/PFT: ফুসফুসের বাতাস ধারণ ক্ষমতা ও শ্বাসকষ্টের ধরন বুঝতে করা হয়।

৩৭. CT Scan Chest: ফুসফুসের আরও সূক্ষ্ম সমস্যা বা টিউমার দেখতে করা হয়।


৭. ক্যান্সার শনাক্তকরণ (Oncology)

৩৮. Biopsy: আক্রান্ত স্থানের মাংসের টুকরো নিয়ে টিস্যু পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যান্সার নিশ্চিত করা হয়।

৩৯. FNAC (Fine Needle Aspiration): সুই দিয়ে টিউমার থেকে কোষ নিয়ে পরীক্ষা।

৪০. PSA (Prostate Specific Antigen): প্রোস্টেট ক্যান্সার শনাক্ত করতে রক্ত পরীক্ষা।

৪১. Pap Smear: মহিলাদের জরায়ু মুখের ক্যান্সার শনাক্তকরণের স্ক্রিনিং টেস্ট।

৪২. CA-125: ওভারিয়ান ক্যান্সার শনাক্ত করতে করা হয়।

৪৩. AFP: লিভার ক্যান্সার বা ভ্রূণের সমস্যা দেখতে করা হয়।

৪৪. Mammography: স্তন ক্যান্সার শনাক্ত করতে বিশেষ ধরনের এক্স-রে।


৮. বোন ও জয়েন্ট (Orthopedics)

৪৫. Bone Densitometry (BMD): হাড়ের ঘনত্ব বা ক্যালসিয়াম কমে হাড় ভঙ্গুর হয়েছে কিনা দেখতে করা হয়।

৪৬. Serum Uric Acid: গেঁটে বাত বা ইউরিক অ্যাসিডের ব্যথা বুঝতে রক্ত পরীক্ষা।

৪৭. RA Test: রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা বাতজ্বর শনাক্তকরণ।

৪৮. ASO Titre: রক্তে স্ট্রেপ্টোকক্কাল ইনফেকশন (বাতজ্বরের ঝুঁকি) বুঝতে করা হয়।

৪৯. X-Ray Joint: হাড় ভাঙা বা হাড়ের ক্ষয় দেখতে করা হয়।


৯. নিউরোলজি ও মস্তিষ্ক (Neurology)

৫০. MRI (Brain): মস্তিষ্কের টিউমার, স্ট্রোক বা সূক্ষ্ম সমস্যা দেখতে ম্যাগনেটিক ফিল্ড ব্যবহার করা হয়।

৫১. CT Scan (Head): মাথায় আঘাত বা রক্তক্ষরণ দেখতে দ্রুত করা হয়।

৫২. EEG: মৃগী রোগ বা মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক তরঙ্গ দেখতে মাথায় ইলেকট্রোড লাগানো হয়।

৫৩. NCV (Nerve Conduction Velocity): স্নায়ুর কার্যকারিতা বা অবশ হয়ে যাওয়ার কারণ দেখতে করা হয়।


১০. অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট (Miscellaneous)

৫৪. Widal Test: টাইফয়েড জ্বর শনাক্ত করতে করা হয়।

৫৫. MP (Malarial Parasite): ম্যালেরিয়া শনাক্তকরণ।

৫৬. Dengue NS1/IgG/IgM: ডেঙ্গু শনাক্ত করতে করা হয়।

৫৭. VDRL: সিফিলিস নামক যৌনরোগ শনাক্তকরণ।

৫৮. HIV I & II: এইডস ভাইরাস শনাক্তকরণ।

৫৯. USG of Whole Abdomen: পেটের সব অঙ্গের (লিভার, পিত্তথলি, কিডনি) অবস্থা আল্ট্রাসাউন্ডে দেখা।

৬০. Pregnancy Test (Urine): প্রস্রাবে HCG হরমোন দেখে গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করা।

৬১. Serum Iron & Ferritin: আয়রনের অভাবজনিত রক্তাল্পতা দেখতে করা হয়।

৬২. Vitamin D Test: শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি-এর মাত্রা দেখা।

৬৩. Vitamin B12: স্নায়বিক দুর্বলতার কারণ দেখতে এই ভিটামিন পরীক্ষা করা হয়।

৬৪. ASAT (AST): লিভার ও হার্টের টিস্যু ড্যামেজ দেখতে করা হয়।

৬৫. GTT (Glucose Tolerance Test): গর্ভাবস্থায় বা সুপ্ত ডায়াবেটিস ধরতে করা হয়।

৬৬. Skin Scraping: চর্মরোগের কারণ (ফাঙ্গাস) দেখতে চামড়ার উপরিভাগ থেকে নমুনা নেওয়া।

৬৭. Audiometry: কানের শোনার ক্ষমতা কতটুকু তা মাপার পরীক্ষা।

৬৮. Refraction Test: চোখের পাওয়ার বা চশমা লাগবে কিনা তা পরীক্ষা।

৬৯. Semen Analysis: পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণাগুণ দেখা।

৭০. TORCH Panel: গর্ভাবস্থায় বিশেষ কিছু ইনফেকশন শনাক্ত করতে করা হয়।




কিভাবে করা হয় (সাধারণ পদ্ধতি): * রক্ত পরীক্ষা: সাধারণত হাতের বাহুর শিরা থেকে সিরিঞ্জের মাধ্যমে রক্ত নেওয়া হয়। কিছু টেস্টের জন্য খালি পেটে থাকা জরুরি।

  • ইমেজিং (X-Ray/MRI/CT): বিশেষ মেশিনের নিচে বা ভেতরে রোগীকে স্থিরভাবে শুয়ে থাকতে হয়।

  • ইউরিন/মল: ল্যাব থেকে দেওয়া পরিষ্কার কৌটায় নির্দিষ্ট নমুনা সংগ্রহ করে জমা দিতে হয়।

  • ক্যামেরা টেস্ট (Endoscopy): রোগীকে সামান্য অবশ বা ঘুম পাড়িয়ে সূক্ষ্ম টিউব শরীরে প্রবেশ করানো হয়।