মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং: চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চালিকাশক্তি

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আমাদের চারপাশের পৃথিবীটা প্রতিদিন বদলে যাচ্ছে। যান্ত্রিক যুগের অবসান ঘটিয়ে আমরা এখন প্রবেশ করেছি এমন এক সময়ে, যেখানে যন্ত্র, ইলেকট্রনিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একে অপরের পরিপূরক হয়ে কাজ করছে। আপনি কি এমন একজন কৌতূহলী মানুষ, যিনি রোবট দেখলে ভাবেন এর ভেতরের মেকানিজম কেমন? অথবা অটোমোবাইল থেকে শুরু করে আধুনিক শিল্প কারখানার স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে, তা আপনাকে টানে?

​তাহলে মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (Mechatronics Engineering) হতে পারে আপনার স্বপ্নের পেশাগত যাত্রার প্রথম ধাপ। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে চাহিদাপূর্ণ এই ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব আজ। পড়াশোনা থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র এবং উচ্চশিক্ষার রুটম্যাপ—সব কিছু থাকছে এখানে । 

​মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং আসলে কী এবং কেন এটি আলাদা?

​সহজ ভাষায় বলতে গেলে, মেকাট্রনিক্স হলো মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স এবং কন্ট্রোল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একটি চমৎকার সমন্বয়। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা একে শুধু রোবটিক্স মনে করে ভুল করেন। কিন্তু রোবটিক্স হলো মেকাট্রনিক্সের একটি অংশ মাত্র।

​একটি আধুনিক শিল্প কারখানার কথাই ধরুন। সেখানে একটি রোবোটিক আর্ম যখন সুনির্দিষ্ট মাপে কোনো যন্ত্রাংশ ঝালাই করে, তখন তার পেছনে কাজ করে মেকাট্রনিক্স সিস্টেম। এর মেকানিক্যাল বডি কাঠামো দেয়, মোটর ও সেন্সর ইলেকট্রনিক্স সিগন্যাল আদান-প্রদান করে এবং মাইক্রোকন্ট্রোলার বা কম্পিউটার প্রোগ্রাম পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করে।

​আজকের যুগে ট্র্যাডিশনাল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা একা খুব বেশি দূর এগোতে পারেন না, কারণ আধুনিক প্রায় সব যন্ত্রেই ইলেকট্রনিক্স ও কোডিংয়ের ছোঁয়া থাকে। এখানেই মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারদের মূল গুরুত্ব।

​মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা: কেমন হয় শিক্ষাজীবন?

​বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সিলেবাস বেশ বৈচিত্র্যময় ও চ্যালেঞ্জিং। চার বছরের বিএসসি (B.Sc.) কোর্সে শিক্ষার্থীদের যুগপৎভাবে কয়েকটি ভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী হতে হয়।

​মূল কোর্সসমূহ

  • ​মেকানিক্স ও ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স: স্ট্যাটিক্স, ডাইনামিকস, ফ্লুইড মেকানিক্স এবং উপাদানের শক্তি।
  • ​ইলেকট্রনিক্স ও সার্কিট: অ্যানালগ ও ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্স, মাইক্রোকন্ট্রোলার, পিএলসি (PLC) এবং সেন্সর টেকনোলজি।
  • ​প্রোগ্রামিং ও সফটওয়্যার: সি/সি++, পাইথন, ম্যাটল্যাব (MATLAB), এবং পাইথন-বেসড মাইক্রোকন্ট্রোলার প্রোগ্রামিং (যেমন আরডুইনো বা এসপিইসি)।
  • ​কন্ট্রোল সিস্টেম: লিনিয়ার কন্ট্রোল সিস্টেম, রোবোটিক্স এবং অটোমেশন থিওরি।

​ল্যাব ও প্র্যাকটিক্যাল কাজের গুরুত্ব

​ক্লাসরুমের থিওরিটিক্যাল পড়ার পাশাপাশি ল্যাবের কাজ এই সাবজেক্টের প্রাণ। সার্কিট ডিজাইন করা, অসিজোস্কোপ ব্যবহার করে সিগন্যাল মাপা, পিএলসি প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে মোটর কন্ট্রোল করা কিংবা থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে প্রোটোটাইপ তৈরি করা—এগুলো পড়াশোনার অংশ হিসেবেই করতে হয়। আমার নিজের পরিচিত অনেক শিক্ষার্থী প্রথম বর্ষে কোডিং আর মেকানিক্সের সমীকরণ দেখে একটু ঘাবড়ে যায়। কিন্তু নিয়মিত প্র্যাকটিস ও ছোটখাটো প্রোজেক্ট বানানোর মাধ্যমে এই ভীতি সহজেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

​কর্মক্ষেত্র: মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়াররা কোথায় কাজ করেন?

​মেকাট্রনিক্স গ্র্যাজুয়েটদের কাজের ক্ষেত্র অত্যন্ত বিস্তৃত। যেহেতু তাদের বহুমুখী জ্ঞান থাকে, তাই তারা একাধিক সেক্টরে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পান।

​১. শিল্প কারখানার অটোমেশন ও প্রোডাকশন

​আধুনিক টেক্সটাইল, সিমেন্ট, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কিংবা ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিগুলো এখন সম্পূর্ণ অটোমেটেড। প্ল্যান্টে ব্যবহৃত পিএলসি (Programmable Logic Controller) এবং এসকাডা (SCADA) সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা আকাশচুম্বী।

​২. রোবোটিক্স এবং এআই বেসড ইন্ডাস্ট্রি

​স্বয়ংক্রিয় ওয়্যারহাউস, এজিভি (Automated Guided Vehicles) এবং রোবটিক ম্যানুফ্যাকচারিং লাইনে ডিজাইন ও ইমপ্লিমেন্টেশনের কাজ করতে হয়। আপনি যদি কোডিংয়ের পাশাপাশি হার্ডওয়্যার ভালোবাসেন, তবে এই সেক্টরটি আপনার জন্য দারুণ রোমাঞ্চকর হবে।

​৩. অটোমোবাইল ও ইভি (Electric Vehicle) সেক্টর

​গাড়ি এখন আর কেবল তেলের ওপর চলে না। টেসলা থেকে শুরু করে প্রচলিত অটোমোবাইল ব্র্যান্ডগুলো এখন ইলেকট্রিক ভেহিকেল এবং সেলফ-ড্রাইভিং কার নিয়ে কাজ করছে। এই গাড়িগুলোর ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, মোটর কন্ট্রোল এবং সেন্সর নেটওয়ার্ক তৈরিতে মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারদের কোনো বিকল্প নেই।

​৪. বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং

​অ্যাডভান্সড প্রোসথেটিকস (কৃত্রিম অঙ্গপ্রত্যঙ্গ), এমআরআই বা সিটি স্ক্যান মেশিনের মতো জটিল মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ডিজাইন ও ট্রাবলশুটিংয়েও এই বিষয়ের গ্র্যাজুয়েটরা কাজ করছেন।

​উচ্চশিক্ষা ও স্কলারশিপের সুযোগ

​স্নাতক শেষ করার পর অনেকেই উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। মেকাট্রনিক্স বা রোবোটিক্স নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বজুড়ে দারুণ সুযোগ রয়েছে।

​জনপ্রিয় দেশসমূহ

  • ​জার্মানি: ইউরোপের টেকনিক্যাল এডুকেশনের রাজধানী বলা চলে জার্মানিকে। দেশটির অনেক স্বনামধন্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেসে মেকাট্রনিক্স ও রোবোটিক্স বিষয়ে সম্পূর্ণ টিউশন ফি-মুক্ত মাস্টার্স প্রোগ্রাম রয়েছে।
  • ​যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা: অত্যাধুনিক গবেষণা এবং ফান্ডিংয়ের জন্য উত্তর আমেরিকা সেরা। বিশেষ করে মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্রস-ডিসিপ্লিনারি রিসার্চ ল্যাবগুলোতে প্রচুর স্কলারশিপ পাওয়া যায়।
  • ​জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া: রোবোটিক্স প্রযুক্তিতে এই দুই দেশ বিশ্বসেরা। এশিয়া অঞ্চলের মধ্যে জাপানের মনবুশোকশো (MEXT) স্কলারশিপ বা কোরিয়ান গভমেন্ট স্কলারশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা নিতে পারেন।

​উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত?

  • ​আন্ডারগ্র্যাজুয়েট লেভেলে সিজিপিএ (CGPA) ভালো রাখার পাশাপাশি একটি ভালো মানের থিসিস বা ফাইনাল ইয়ার প্রোজেক্ট থাকা জরুরি।
  • ​আইইএলটিএস (IELTS) বা টোয়েফেল (TOEFL)-এ ভালো স্কোর তুলতে হবে।
  • ​গবেষণামুখী মানসিকতা থাকলে আন্তর্জাতিক জার্নালে পেপার পাবলিশ করার চেষ্টা করতে পারেন, যা স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

​ক্যারিয়ার গড়ার কিছু ব্যবহারিক টিপস

​ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি চাকরির বাজারে টিকে থাকতে হলে কিছু অতিরিক্ত দক্ষতা বা স্কিল অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি। কেবল সিজিপিএ দিয়ে এখন ভালো চাকরি পাওয়া কঠিন।

  • ​সফটওয়্যার দক্ষতায় জোর দিন: সলিডওয়ার্কস (SolidWorks) বা ক্যাটিয়া (CATIA) এর মতো থ্রিডি ডিজাইনিং সফটওয়্যারে দক্ষ হন। পাশাপাশি পাইথন ও সি প্লাস প্লাস প্রোগ্রামিংয়ের হাত পাকা করুন।
  • ​হ্যান্ডস-অন প্রজেক্ট করুন: নিজে নিজে আরডুইনো বা Raspberry Pi নিয়ে ছোটখাটো প্রজেক্ট তৈরি করুন। প্রোজেক্ট পোর্টফোলিও ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনার গুরুত্ব অনেক বাড়িয়ে দেবে।
  • ​সমস্যা সমাধান করার মানসিকতা: ইঞ্জিনিয়ার মানেই প্রবলেম সলভার। যেকোনো জটিল যান্ত্রিক বা লজিক্যাল সমস্যা ঠান্ডা মাথায় বিশ্লেষণ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

​মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং কেবল একটি ডিগ্রি নয়, এটি ভবিষ্যতের প্রযুক্তির সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার একটি দারুণ মাধ্যম। পথচলাটা শুরুতে কিছুটা কঠিন মনে হতে পারে, কারণ এখানে আপনাকে একসাথে অনেকগুলো বিষয় সামলাতে হয়। তবে আপনার যদি প্রযুক্তি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করার নেশা থাকে এবং নতুন কিছু তৈরি করার আনন্দ উপভোগ করতে চান, তবে এই ক্ষেত্রটি আপনাকে নিরাশ করবে না। সঠিক পরিকল্পনা, কঠোর পরিশ্রম এবং নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে আপনিও হতে পারেন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের একজন সফল কারিগর।

নিচে মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং-এ বহুল ব্যবহৃত ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা বাংলা অর্থসহ 
1. Actuator
চালক যন্ত্র (যা নিয়ন্ত্রণ সংকেত পেয়ে কোনো মেকানিক্যাল ক্রিয়া সম্পন্ন করে)
2. Sensor
সংবেদক (যন্ত্র যা পরিবেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে)
3. End Effector
প্রান্তচালক (রোবট বাহুর শেষাংশে থাকা যন্ত্রাংশ যা কাজ সম্পন্ন করে)
4. Degrees of Freedom (DoF)
স্বাধীনতার মাত্রা (একটি বস্তু কতভাবে চলতে পারে তা বোঝায়)
5. Kinematics
গতি বিজ্ঞান (বস্তুর গতি বিশ্লেষণ করে, বল বিবেচনা না করে)
6. Dynamics
গতিশক্তি (বল ও ভরের মাধ্যমে গতির পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে)
7. Servo Motor
সার্ভো মোটর (নিয়ন্ত্রিত ঘূর্ণনক্ষম মোটর)
8. Stepper Motor
স্টেপার মোটর (নির্দিষ্ট ধাপে ঘূর্ণায়মান মোটর)
9. Pneumatics
বায়ুচালিত প্রযুক্তি (সংকুচিত বায়ুর মাধ্যমে কাজ করানো হয়)
10. Hydraulics
তরলচালিত প্রযুক্তি (তরলের মাধ্যমে শক্তি সঞ্চালন)
11. Gear Ratio
গিয়ার অনুপাত (দুই গিয়ারের দাঁতের সংখ্যার অনুপাত)
12. Linkage
সংযোগ কাঠামো (যন্ত্রাংশগুলোর যান্ত্রিক সংযোগ ব্যবস্থা)
13. Robot Arm
রোবট বাহু (বহু জোড়া ও সংযোগে গঠিত যান্ত্রিক বাহু)
14. Chassis
কাঠামো (যন্ত্রের মূল ফ্রেম বা ভিত্তি)
15. Payload
বোঝা বহনের ক্ষমতা (রোবট বা ড্রোন কত ওজন বহন করতে পারে)
16. Inverse Kinematics
উল্টো গতি বিশ্লেষণ (রোবটের প্রান্ত অবস্থান জানিয়ে জোড়াগুলোর অবস্থান নির্ণয়)
17. Forward Kinematics
সরাসরি গতি বিশ্লেষণ (জোড়ার মান দিয়ে রোবটের প্রান্ত অবস্থান নির্ণয়)
18. Manipulator
চালক বাহু (রোবটিক বাহু যা বস্তু স্থানান্তর করে)
19. Workspace
কার্যপরিসর (রোবট বা যন্ত্রাংশের কার্যক্ষম এলাকা)
20. Encoder
সংকেত রূপান্তরক (যন্ত্রাংশের অবস্থান বা গতি ডিজিটাল সংকেতে পরিণত করে)
21. Microcontroller
মাইক্রোকন্ট্রোলার (একক চিপে সম্পূর্ণ কম্পিউটার সিস্টেম)
22. Microprocessor
মাইক্রোপ্রসেসর (সিপিইউ হিসেবে ব্যবহৃত চিপ)
23. PLC (Programmable Logic Controller)
প্রোগ্রামযোগ্য যৌক্তিক নিয়ন্ত্রক (শিল্প কারখানায় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত)
24. H-Bridge
এইচ-ব্রিজ (ডিসি মোটরের দিক পরিবর্তনে ব্যবহৃত সার্কিট)
25. PWM (Pulse Width Modulation)
পালস প্রস্থ পরিবর্তন (ডিভাইস নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত সিগনাল টেকনিক)
26. ADC (Analog to Digital Converter)
এনালগ থেকে ডিজিটাল রূপান্তরক
27. DAC (Digital to Analog Converter)
ডিজিটাল থেকে এনালগ রূপান্তরক
28. Feedback
প্রতিসংযোগ (সিস্টেমের ফলাফল আবার ইনপুটে দেওয়া হয়)
29. Control System
নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (ইনপুট অনুযায়ী আউটপুট নিয়ন্ত্রণ করে)
30. Open Loop
খোলা লুপ (প্রতিসংযোগবিহীন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা)
31. Closed Loop
বন্ধ লুপ (ফিডব্যাকযুক্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা)
32. PID Controller
পিআইডি নিয়ন্ত্রক (Proportional, Integral, Derivative নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা)
33. IR Sensor
আইআর সেন্সর (ইনফ্রারেড ভিত্তিক প্রতিবন্ধকতা শনাক্তকরণ)
34. Ultrasonic Sensor
অতিস্বনক সেন্সর (দূরত্ব মাপার সেন্সর)
35. Gyroscope
জাইরোস্কোপ (ঘূর্ণন বা কোণের পরিবর্তন শনাক্ত করে)
36. Accelerometer
ত্বরণমাপক (গতি বা নড়াচড়া শনাক্ত করে)
37. Magnetic Sensor
চৌম্বক সেন্সর (চৌম্বক ক্ষেত্র শনাক্ত করতে ব্যবহৃত)
38. Proximity Sensor
সান্নিধ্য সেন্সর (কোনো বস্তু কাছাকাছি এলেই সংকেত দেয়)
39. Limit Switch
সীমা সুইচ (যন্ত্রাংশ নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছালে সক্রিয় হয়)
40. Buzzer
বাজার (শব্দ সংকেত দেয়ার ডিভাইস)
41. Embedded System
এমবেডেড সিস্টেম (নির্দিষ্ট কাজের জন্য ব্যবহৃত প্রোগ্রামযোগ্য যন্ত্র)
42. Firmware
ফার্মওয়্যার (হার্ডওয়্যারের ভেতরে স্থায়ী সফটওয়্যার)
43. Real-Time System
রিয়েল-টাইম সিস্টেম (সময়সীমার মধ্যে প্রতিক্রিয়া প্রদান করে এমন সিস্টেম)
44. Algorithm
অ্যালগরিদম (সমস্যা সমাধানের ধাপে ধাপে নির্দেশনা)
45. Flowchart
প্রবাহচিত্র (প্রোগ্রামের ধাপসমূহ চিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন)
46. Debugging
ত্রুটি সংশোধন (প্রোগ্রামে ভুল শনাক্ত ও সংশোধন)
47. IDE (Integrated Development Environment)
সমন্বিত উন্নয়ন পরিবেশ (প্রোগ্রামিং এর জন্য সফটওয়্যার টুল)
48. Simulation
সিমুলেশন (বাস্তব পরিস্থিতির মডেল তৈরি করে পরীক্ষা চালানো)
49. GUI (Graphical User Interface)
গ্রাফিকাল ব্যবহারকারী ইন্টারফেস
50. Serial Communication
ধারাবাহিক যোগাযোগ (একটি ডেটা একসাথে আদানপ্রদান)
51. Parallel Communication
সমান্তরাল যোগাযোগ (একাধিক ডেটা একসাথে আদানপ্রদান)
52. Interrupt
বাধা সংকেত (মাইক্রোকন্ট্রোলারকে কাজ থামিয়ে জরুরি কাজ করাতে সাহায্য করে)
53. Bitwise Operation
বিটভিত্তিক অপারেশন (বিট নিয়ে সরাসরি গাণিতিক কাজ করা)
54. Bootloader
বুটলোডার (মাইক্রোকন্ট্রোলারে কোড আপলোড করার সিস্টেম)
55. Memory Mapping
মেমোরি ম্যাপিং (ডেটা মেমোরিতে কীভাবে সংরক্ষিত তা নির্ধারণ)
56. Bus System
বাস সিস্টেম (ডেটা আদান-প্রদানের পথ)
57. I/O Port
ইনপুট/আউটপুট পোর্ট (ডিভাইসের বাহ্যিক সংযোগ পোর্ট)
58. Compiler
কম্পাইলার (উচ্চস্তরের প্রোগ্রামিং ভাষা অনুবাদ করে)
59. Hex Code
হেক্স কোড (হেক্সাডেসিমাল ফরম্যাটে সফটওয়্যারের বাইনারি রূপ)
60. Baud Rate
বাউড রেট (প্রতি সেকেন্ডে কত বিট ট্রান্সমিট হয় তা নির্দেশ করে)
61. DC Motor
ডিসি মোটর (ডাইরেক্ট কারেন্টে চলে এমন মোটর)
62. AC Motor
এসি মোটর (অল্টারনেটিং কারেন্টে চলে এমন মোটর)
63. Induction Motor
ইন্ডাকশন মোটর (চৌম্বকীয় ইন্ডাকশনের মাধ্যমে চালিত মোটর)
64. Brushless DC Motor (BLDC)
ব্রাশলেস ডিসি মোটর (ব্রাশ ছাড়া কম ঘর্ষণে চলা মোটর)
65. Servo Drive
সার্ভো ড্রাইভ (সার্ভো মোটর চালানোর জন্য নিয়ন্ত্রণ ইউনিট)
66. Motor Driver
মোটর ড্রাইভার (মোটরের গতি ও দিক নিয়ন্ত্রণের সার্কিট)
67. Inverter
ইনভার্টার (ডিসি থেকে এসি রূপান্তরকারী)
68. Rectifier
রেক্টিফায়ার (এসি থেকে ডিসি রূপান্তরকারী)
69. Power Supply
বিদ্যুৎ সরবরাহ (ডিভাইস চালাতে প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস)
70. Voltage Regulator
ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রক (নির্দিষ্ট ভোল্টেজ বজায় রাখে)
71. Current Sensor
কারেন্ট সেন্সর (বিদ্যুৎ প্রবাহ পরিমাপ করে)
72. Overload Protection
অতিভার সুরক্ষা (বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় রক্ষাকবচ)
73. Circuit Breaker
সার্কিট ব্রেকার (অস্বাভাবিক স্রোত প্রবাহে সার্কিট বন্ধ করে দেয়)
74. Transformer
ট্রান্সফরমার (ভোল্টেজ পরিবর্তনের যন্ত্র)
75. Capacitance
ধারকত্ব (ক্যাপাসিটরের চার্জ ধারণ ক্ষমতা)
76. Inductance
আবেশনত্ব (কয়েল কতটা চৌম্বক প্রবাহ তৈরি করতে পারে)
77. Resistance
রোধ (সার্কিটে প্রবাহ বাধা সৃষ্টি করে)
78. Power Rating
বিদ্যুৎ মান (যন্ত্রাংশ কত বিদ্যুৎ ধারণ করতে পারে)
79. Efficiency
দক্ষতা (ইনপুট শক্তির কতটা আউটপুটে রূপান্তর হয়)
80. Load Torque
লোড টর্ক (মোটরের ঘূর্ণন শক্তি কোন লোডে প্রয়োগ হয় তা)
81. UART (Universal Asynchronous Receiver Transmitter)
সার্বজনীন অ্যাসিনক্রোনাস গ্রহণকারী-প্রেরক (ডেটা সিরিয়ালভাবে আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহৃত)
82. SPI (Serial Peripheral Interface)
সিরিয়াল পেরিফেরাল ইন্টারফেস (মাস্টার-স্লেভ ভিত্তিক ডেটা আদান-প্রদানের পদ্ধতি)
83. I2C (Inter-Integrated Circuit)
ইন্টার-ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (সাধারণ দুটি তারে একাধিক ডিভাইস যোগাযোগ করতে পারে)
84. CAN Bus
ক্যান বাস (গাড়ি ও ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবহৃত নির্ভরযোগ্য ডেটা বাস)
85. Modbus
মোডবাস (শিল্পে ব্যবহৃত যোগাযোগ প্রোটোকল)
86. Ethernet
ইথারনেট (লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত)
87. Wi-Fi
ওয়াই-ফাই (বেতার নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি)
88. Bluetooth
ব্লুটুথ (স্বল্প দূরত্বে বেতার যোগাযোগ প্রযুক্তি)
89. Zigbee
জিগবি (কম শক্তি ব্যবহার করে নেটওয়ার্কিং এর জন্য ব্যবহৃত)
90. RF Module
আরএফ মডিউল (রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ট্রান্সমিটার ও রিসিভার)
91. IoT (Internet of Things)
বস্তুজগতের ইন্টারনেট (স্মার্ট ডিভাইসগুলোর ইন্টারনেট সংযুক্তি)
92. Sensor Fusion
সেন্সর ফিউশন (একাধিক সেন্সরের তথ্য একত্রে বিশ্লেষণ)
93. Data Logging
তথ্য সংরক্ষণ (সময়ক্রমে সেন্সর ডেটা সংগ্রহ করা)
94. Cloud Communication
ক্লাউড যোগাযোগ (ইন্টারনেটের মাধ্যমে ডেটা প্রেরণ/গ্রহণ)
95. Edge Computing
এজ কম্পিউটিং (তথ্য উৎসের কাছাকাছি প্রক্রিয়াকরণ)
96. Node
নোড (নেটওয়ার্কে যুক্ত একক সেন্সর বা যন্ত্র)
97. Gateway
গেটওয়ে (নেটওয়ার্কের বিভিন্ন অংশের সংযোগকারী)
98. API (Application Programming Interface)
অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (সফটওয়্যার যোগাযোগের মাধ্যম)
99. MQTT (Message Queuing Telemetry Transport)
মেসেজ আদান-প্রদানের জন্য হালকা প্রোটোকল (IoT-তে বহুল ব্যবহৃত)
100. Protocol
প্রোটোকল (ডেটা আদান-প্রদানের নিয়মাবলি)

Engineering