IIG (International Internet Gateway) কী?
IIG (International Internet Gateway) হলো কোনো দেশের আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ট্রাফিক আদান-প্রদানের প্রধান গেটওয়ে বা প্রবেশদ্বার।
সহজ কথায়, একটি দেশের ভেতরের সকল ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (ISP) এবং মোবাইল অপারেটরগুলোকে বিশ্বব্যাপী মূল ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত করার সেতু হিসেবে কাজ করে IIG।
নিচে IIG কী, এটি কীভাবে কাজ করে এবং এর সার্বিক প্রক্রিয়া বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
১. IIG কী?
IIG হলো একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত টেলিকমিউনিকেশন অবকাঠামো, যা সাবমেরিন ক্যাবল বা আন্তর্জাতিক টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবলের (ITC) মাধ্যমে আসা আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ গ্রহণ করে এবং তা দেশের ভেতরের স্থানীয় ইন্টারনেট প্রোভাইডারদের কাছে বিতরণ করে।
বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে বিটিআরসি (BTRC) বা নির্দিষ্ট সরকারি সংস্থা থেকে লাইসেন্স নিয়ে বিভিন্ন প্রাইভেট ও সরকারি প্রতিষ্ঠান IIG হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করে।
২. IIG কীভাবে কাজ করে?
আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগ সাধারণ ব্যবহারকারীর মোবাইলে বা কম্পিউটারে পৌঁছানোর পুরো ধাপটি নিচে দেওয়া হলো:
১. আন্তর্জাতিক সংযোগ গ্রহণ:
IIG কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল (যেমন: BSPLC-এর SEA-ME-WE ক্যাবল) বা ল্যান্ডভিত্তিক ITC ক্যাবলের সাথে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ফাইবার অপটিক্সের মাধ্যমে যুক্ত থাকে। সেখান থেকে তারা গ্লোবাল ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ক্রয় করে।
২. প্রসেসিং ও ব্যান্ডউইথ ম্যানেজমেন্ট:
বিদেশ থেকে আসা বিশাল ডাটা ট্রাফিককে IIG তাদের নিজস্ব শক্তিশালী রাউটার ও সুইচের মাধ্যমে ফিল্টার, প্রসেস এবং ব্যান্ডউইথ কন্ট্রোল করে।
৩. স্থানীয় প্রোভাইডারদের কাছে বণ্টন:
IIG সরাসরি সাধারণ মানুষকে ইন্টারনেট দেয় না। এরা B2B (Business-to-Business) মডেলে কাজ করে। এরা ব্যান্ডউইথ পাইকারি দরে বিক্রি করে:
- স্থানীয় আইএসপি (ISP - Internet Service Provider)
- মোবাইল ফোন অপারেটর (গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক, টেলিটক)
- এনটিটিএন (NTTN) কোম্পানিগুলোর ফাইবার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে স্থানীয় সংযোগস্থলে পাঠায়।
৪. গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো:
আইএসপি বা মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমেই শেষপর্যন্ত ফাইবার ক্যাবল বা ৪জি/৫জি নেটওয়ার্ক দিয়ে ইন্টারনেট ডাটা আপনার ডিভাইস পর্যন্ত পৌঁছায়।
৩. ইন্টারনেট সরবরাহের পুরো শৃঙ্খল (Chain)
ইন্টারনেট কীভাবে বিশ্ব থেকে আপনার কাছে আসে, তার সাধারণ ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো:
আন্তর্জাতিক ফাইবার/সাবমেরিন ক্যাবল
➔ IIG (International Internet Gateway)
➔ ISP / মোবাইল অপারেটর
➔ সাধারণ গ্রাহক (মোবাইল বা পিসি)
৪. IIG-এর প্রধান কাজ ও দায়িত্বসমূহ
- ব্যান্ডউইথ রাউটিং: আন্তর্জাতিক ডাটা ট্রাফিক দ্রুত ও সঠিকভাবে সঠিক গন্তব্যে পাঠানো।
- কোয়ালিটি অব সার্ভিস (QoS): ইন্টারনেটের গতি, লেটেন্সি (Latency) এবং পিং (Ping) যেন ভালো থাকে তা নিশ্চিত করা।
- নিরাপত্তা ও ক্যাশিং (Caching): জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো (যেমন: Google, Facebook, YouTube, Akamai) যেন দ্রুত লোড হয়, সেজন্য IIG ক্যাশ সার্ভার (Cache Server) লোকালি হোস্ট করতে সাহায্য করে। এতে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ খরচ কমে এবং সাইট দ্রুত লোড হয়।
- সাইবার নিরাপত্তা ও ব্লক করার কাজ: সরকারের বা টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশে কোনো ক্ষতিকর ওয়েবসাইট বা সাইবার হুমকি জাতীয় বিষয় ব্লক করা IIG লেভেলেই সম্পন্ন হয়।
IIG হলো আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট এবং আপনার স্থানীয় ইন্টারনেট প্রোভাইডারের মধ্যকার পাইকারি পাইপলাইন। এটি না থাকলে কোনো দেশের স্থানীয় আইএসপি বা মোবাইল কোম্পানিগুলো বিদেশের ওয়েবসাইট, সার্ভার ও ডাটা সেন্টারের সাথে সরাসরি যুক্ত হতে পারত না।