চলমান ডিপ্লোমা-বিএসসি সংকট: এক অযৌক্তিক দ্বন্দ্ব

বর্তমানে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ও বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে একটি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। বাস্তবে দেখা যায়, বিসিএস, ব্যাংক ও অন্যান্য সকল সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা অংশগ্রহণ করতে পারেন না, কারণ সেখানে প্রয়োজন হয় স্নাতক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা। অথচ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য নির্দিষ্টভাবে একমাত্র পদ হলো উপসহকারী প্রকৌশলী (১০ম গ্রেড)

এখানে প্রশ্ন হলো—
যেখানে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য কেবলমাত্র একটি পদই বরাদ্দ, সেখানে কেন তা নিয়েও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে?

বাস্তবতা হলো

  • বিসিএস, ব্যাংক বা অন্যান্য সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের যোগ্যতা ধরা হয় এইচএসসি সমমান হিসেবে।  
  • কেবলমাত্র উপসহকারী প্রকৌশলী পদটি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য স্বীকৃত ও নির্দিষ্ট তারা কেবল এই একটি পদেই চাকরির জন্য আবেদন করতে পারেন । আর এ একটি পদেই লক্ষ লক্ষ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার প্রতিযোগিতা করে একটি চাকরি পান। 




যখন বিএসসি ডিগ্রিধারীরা নিজেরা অন্যান্য অসংখ্য চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন, তখন কেন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের একমাত্র পদটিও কেড়ে নিতে চান? এটি শুধু অবিচারই নয়, শিক্ষার উদ্দেশ্য ও কাঠামোর সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

যদি মেধার প্রশ্ন তোলা হয়, তবে মেধা যাচাইয়ের সুযোগ তো বিসিএস, ব্যাংক, বা অন্যান্য সরকারি চাকরিতেই রয়েছে। সেখানে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন না। সুতরাং, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের নির্ধারিত এই একটিমাত্র পদে অন্য কোন পক্ষের হস্তক্ষেপ এক ধরনের বৈষম্য এবং কারিগরি শিক্ষা ও দেশের  ভবিষ্যৎকে সংকটে ফেলার সমান।


ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা দেশের কারিগরি শিক্ষার একটি বড় শক্তি। তাদের সঠিক সুযোগ না দিয়ে কেবল বাধা সৃষ্টি করলে তা দেশের উন্নয়নের জন্যও ক্ষতিকর হবে। তাই ন্যায্য দাবি হচ্ছে—ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য বরাদ্দ একমাত্র পদ উপসহকারী প্রকৌশলী সংরক্ষিত ও অবিচল রাখতে হবে। অন্যথায়, এটি কারিগরি শিক্ষা তথা দেশের জন্য এক মহাসংকট বয়ে আনবে ।