অর্থনীতির জটিল বিষয়গুলো সহজে বোঝার জন্য ১০০টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টার্ম

অর্থনীতির জটিল বিষয়গুলো সহজে বোঝার জন্য ১০০টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টার্ম এবং সেগুলোর সহজ ব্যাখ্যা নিচে আলোচনা করা হলো

১. সামষ্টিক অর্থনীতি (Macroeconomics) – দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি সংক্রান্ত

১.জিডিপি (GDP - Gross Domestic Product): একটি দেশের অভ্যন্তরে এক বছরে উৎপাদিত মোট চূড়ান্ত পণ্য ও সেবার আর্থিক মূল্য। এটি দেশের অর্থনৈতিক আকারের প্রধান সূচক।

২.জিএনপি (GNP - Gross National Product): একটি দেশের নাগরিকরা (দেশে বা বিদেশে যেখানেই থাকুক) এক বছরে মোট যে পরিমাণ পণ্য ও সেবা উৎপাদন করে তার আর্থিক মূল্য।

৩.মাথাপিছু আয় (Per Capita Income): দেশের মোট জাতীয় আয়কে মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে যে আয় পাওয়া যায়।

৪.মুদ্রাস্ফীতি (Inflation): যখন বাজারে পণ্য ও সেবার দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকে এবং টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়।

৫.মুদ্রাসঙ্কোচন (Deflation): মুদ্রাস্ফীতির বিপরীত অবস্থা। যখন পণ্য ও সেবার দাম ক্রমাগত কমতে থাকে এবং অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি বাড়ে।

৬.স্ট্যাগফ্লেশন (Stagflation): অর্থনীতির এমন একটি খারাপ অবস্থা যখন একই সাথে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং উচ্চ বেকারত্ব বিরাজ করে, কিন্তু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থবির হয়ে পড়ে।

৭.অর্থনৈতিক মন্দা (Recession): যখন কোনো দেশের জিডিপি পর পর দুটি প্রান্তিক (৬ মাস) বা তার বেশি সময় ধরে কমতে থাকে বা নেতিবাচক হয়।

৮.অর্থনৈতিক বিষণ্নতা (Depression): অর্থনৈতিক মন্দার চরম ও দীর্ঘস্থায়ী রূপ (যেমন ১৯৩০ সালের গ্রেট ডিপ্রেশন)।

৯.আর্থিক নীতি (Monetary Policy): দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (যেমন: বাংলাদেশ ব্যাংক) দেশের মুদ্রা সরবরাহ এবং সুদের হার নিয়ন্ত্রণের জন্য যে নীতি প্রণয়ন করে।

১০.রাজস্ব নীতি (Fiscal Policy): সরকারের আয় (কর) এবং ব্যয় (উন্নয়নমূলক কাজ) সংক্রান্ত নীতি, যা দেশের অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবহৃত হয়।

১১.বাজেট ঘাটতি (Budget Deficit): সরকারের আয়ের চেয়ে ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হলে যে ঘাটতি তৈরি হয়।

১২.বাজেট উদ্বৃত্ত (Budget Surplus): সরকারের ব্যয়ের চেয়ে আয়ের পরিমাণ বেশি হলে তাকে বাজেট উদ্বৃত্ত বলে।

১৩.চলতি হিসাবের ঘাটতি (Current Account Deficit): একটি দেশের আমদানি ব্যয় যখন রপ্তানি আয় ও অন্যান্য বৈদেশিক আয়ের চেয়ে বেশি হয়।

১৪.বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ (Foreign Exchange Reserves): দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সঞ্চিত বৈদেশিক মুদ্রা (যেমন: ডলার, ইউরো), যা আন্তর্জাতিক লেনদেনে ব্যবহৃত হয়।

১৫.রেমিট্যান্স (Remittance): প্রবাসী শ্রমিকদের দেশে পাঠানো উপার্জিত অর্থ।

১৬.বেকারত্ব (Unemployment): কর্মক্ষম ও কাজ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি যখন প্রচলিত মজুরিতে কাজ পায় না।

১৭.প্রচ্ছন্ন বেকারত্ব (Disguised Unemployment): এমন অবস্থা যেখানে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি শ্রমিক নিয়োজিত থাকে (যেমন: কৃষিক্ষেত্রে), ফলে কিছু শ্রমিককে সরিয়ে নিলেও মোট উৎপাদনে কোনো প্রভাব পড়ে না।

১৮.কাঠামোগত বেকারত্ব (Structural Unemployment): প্রযুক্তির পরিবর্তন বা অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের কারণে শ্রমিকদের দক্ষতার সাথে কর্মসংস্থানের চাহিদার অমিল হলে এই বেকারত্ব তৈরি হয়।

১৯.ঘর্ষণজনিত বেকারত্ব (Frictional Unemployment): একজন কর্মী যখন এক চাকরি ছেড়ে অন্য ভালো চাকরির সন্ধান করে, তখন মধ্যবর্তী সময়ে যে সাময়িক বেকারত্ব তৈরি হয়।

২০.জিডিপি প্রবৃদ্ধি (GDP Growth Rate): পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় বর্তমান বছরে জিডিপি শতকরা কত ভাগ বাড়ল তার হার।

### ২. ব্যষ্টিক অর্থনীতি (Microeconomics) – ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত

২১.চাহিদা (Demand): কোনো পণ্য কেনার ইচ্ছা, সামর্থ্য এবং অর্থ ব্যয় করার মানসিকতার সমষ্টি।

২২.যোগান (Supply): বিক্রেতারা একটি নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট মূল্যে যে পরিমাণ পণ্য বাজারে বিক্রি করতে প্রস্তুত থাকে।

২৩.বাজার ভারসাম্য (Market Equilibrium): বাজারে পণ্যের চাহিদা এবং যোগান যখন সমান হয়, তখন যে মূল্য ও পরিমাপ নির্ধারিত হয়।

২৪.চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা (Elasticity of Demand): পণ্যের দাম পরিবর্তনের ফলে চাহিদার পরিমাণের যে পরিবর্তন হয়, তার অনুপাত বা সংবেদনশীলতা।

২৫.উপযোগ (Utility): কোনো পণ্য বা সেবার মানুষের অভাব পূরণের ক্ষমতা।

২৬.ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধি (Law of Diminishing Marginal Utility): কোনো পণ্য যত বেশি ভোগ করা হয়, তার পরবর্তী এককগুলো থেকে পাওয়া উপযোগ বা তৃপ্তি ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে।

২৭.সুযোগ ব্যয় (Opportunity Cost): একটি বিকল্প বেছে নেওয়ার জন্য অন্য সেরা বিকল্পটি ত্যাগ করার যে মূল্য বা ক্ষতি।

২৮.স্থির ব্যয় (Fixed Cost): উৎপাদন বাড়ুক বা কমুক, যে ব্যয় অপরিবর্তিত থাকে (যেমন: কারখানার ভাড়া)।

২৯.পরিবর্তনশীল ব্যয় (Variable Cost): উৎপাদনের পরিমাণের সাথে যে ব্যয় পরিবর্তিত হয় (যেমন: কাঁচামাল বা শ্রমিকের মজুরি)।

৩০.প্রান্তিক ব্যয় (Marginal Cost): অতিরিক্ত এক একক পণ্য উৎপাদনের জন্য যে অতিরিক্ত খরচ হয়।

৩১.প্রান্তিক আয় (Marginal Revenue): অতিরিক্ত এক একক পণ্য বিক্রি করে যে অতিরিক্ত আয় হয়।

৩২.পূর্ণাঙ্গ প্রতিযোগিতা (Perfect Competition): এমন এক বাজার ব্যবস্থা যেখানে অসংখ্য ক্রেতা-বিক্রেতা থাকে এবং সমজাতীয় পণ্য একই দামে বিক্রি হয়।

৩৩.একচেটিয়া বাজার (Monopoly): এমন বাজার যেখানে একজন মাত্র বিক্রেতা বা উৎপাদক থাকে এবং কোনো বিকল্প পণ্য থাকে না।

৩৪.অলিগোপলি (Oligopoly): এমন বাজার ব্যবস্থা যেখানে অল্প কয়েকজন বড় বিক্রেতা বা প্রতিষ্ঠান পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করে (যেমন: মোবাইল অপারেটরসমূহ)।

৩৫.মনোপসনি (Monopsony): এমন এক বাজার যেখানে বিক্রেতা অনেক কিন্তু ক্রেতা মাত্র একজন (যেমন: চিনি কলের জন্য আখ চাষী)।

৩৬.বাহ্যিকতা (Externality): কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজের ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব যা তৃতীয় কোনো পক্ষের ওপর পড়ে, কিন্তু তার জন্য কোনো মূল্য দিতে বা পেতে হয় না (যেমন: দূষণ)।

৩৭.গণদ্রব্য (Public Goods): এমন সব সেবা বা পণ্য যা সবাই সমানভাবে ভোগ করতে পারে এবং একজনের ভোগে অন্য কারোর অধিকার কমে না (যেমন: রাস্তার আলো, জাতীয় প্রতিরক্ষা)।

৩৮.জিফেন দ্রব্য (Giffen Goods): এমন কিছু নিকৃষ্ট পণ্য যার দাম বাড়লে চাহিদাও বাড়ে এবং দাম কমলে চাহিদাও কমে (সাধারণ চাহিদার নিয়মের ব্যতিক্রম)।

৩৯.ভেবলেন দ্রব্য (Veblen Goods): এমন বিলাসবহুল পণ্য যা আভিজাত্য প্রকাশ করে, ফলে এর দাম যত বাড়ে, ধনীদের কাছে এর চাহিদাও তত বাড়ে (যেমন: আইফোন বা দামি গাড়ি)।

৪০.ভোক্তার উদ্বৃত্ত (Consumer Surplus): একজন ভোক্তা কোনো পণ্যের জন্য সর্বোচ্চ যে দাম দিতে প্রস্তুত থাকে এবং প্রকৃতপক্ষে যে দাম দেয়, তার মধ্যকার পার্থক্য।

### ৩. ব্যাংকিং ও ফিন্যান্স (Banking & Finance)

৪১.রেপো রেট (Repo Rate): বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যখন টাকার সংকটে পড়ে, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে যে সুদের হারে ঋণ নেয়।

৪২.রিভার্স রেট (Reverse Repo Rate): বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের উদ্বৃত্ত টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের যে হারে সুদ দেয়।

৪৩.ব্যাংক রেট (Bank Rate): দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে সুদের হারে ঋণ দেয়।

৪৪.সিআরআর (CRR - Cash Reserve Ratio): বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মোট আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ যা বাধ্যতামূলকভাবে নগদ আকারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে হয়।

৪৫.এসএলআর (SLR - Statutory Liquidity Ratio): বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আমানতের যে অংশ নগদ, স্বর্ণ বা সরকারি সিকিউরিটিজ আকারে নিজেদের কাছে তরল সম্পদ হিসেবে রাখতে হয়।

৪৬.এনপিএল (NPL - Non-Performing Loan): খেলাপি ঋণ। যে ঋণের কিস্তি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদায় হয় না এবং আদায়ের সম্ভাবনা কমে যায়।

৪৭.তারল্য (Liquidity): কোনো সম্পদকে কত দ্রুত ও সহজে মূল্যের ক্ষতি না করে নগদে রূপান্তর করা যায় (নগদ টাকা সবচেয়ে তরল সম্পদ)।

৪৮.বুল মার্কেট (Bull Market): শেয়ার বাজারের এমন পরিস্থিতি যখন শেয়ারের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্দীপনা দেখা যায়।

৪৯.বিয়ার মার্কেট (Bear Market): শেয়ার বাজারের এমন মন্দা পরিস্থিতি যখন শেয়ারের দাম ক্রমাগত কমতে থাকে এবং বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে দেয়।

৫০.বন্ড (Bond): সরকার বা বড় কোনো প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তহবিল সংগ্রহের জন্য ইস্যু করা একটি ঋণপত্র, যা নির্দিষ্ট সময় পর সুদে-আসলে ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

৫১.মিউচুয়াল ফান্ড (Mutual Fund): অনেক বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে একটি তহবিল গঠন করা, যা পেশাদার ফান্ড ম্যানেজাররা বিভিন্ন শেয়ার বা বন্ডে বিনিয়োগ করেন।

৫২.ডিবেঞ্চার (Debenture): জামানতবিহীন এক ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ঋণপত্র, যা কোম্পানির সুনামের ওপর ভিত্তি করে ইস্যু করা হয়।

৫৩.আইপিও (IPO - Initial Public Offering): একটি কোম্পানি যখন প্রথমবারের মতো সাধারণ জনগণের কাছে শেয়ার বিক্রি করে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

৫৪.ইনসাইডার ট্রেডিং (Insider Trading): কোম্পানির ভেতরের কোনো গোপন বা অপ্রকাশিত তথ্য ব্যবহার করে শেয়ার বাজারে অবৈধভাবে লাভবান হওয়া।

৫৫.লিকুইডেশন (Liquidation): কোনো কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে গেলে তার সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করে পাওনাদারদের ঋণ পরিশোধ করার প্রক্রিয়া।

৫৬.ক্রেডিট রেটিং (Credit Rating): কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা দেশের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বা যোগ্যতার মূল্যায়ন।

৫৭.অ্যামোর্টাইজেশন (Amortization): সময়ের সাথে সাথে ঋণের কিস্তি পরিশোধের মাধ্যমে ঋণের আসল বা অদৃশ্য সম্পদের মূল্য ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনা।

৫৮.ডেপপ্রিসিয়েশন (Depreciation): অবচয়। ব্যবহারের ফলে স্থায়ী সম্পত্তির (যেমন: যন্ত্রপাতি, গাড়ি) মূল্য হ্রাস পাওয়া।

৫৯.ভেঞ্চার ক্যাপিটাল (Venture Capital): নতুন এবং উচ্চ সম্ভাবনাময় স্টার্টআপ বা ছোট ব্যবসায় বড় ধরনের বিনিয়োগ করা তহবিল।

৬০.সোভারেন ওয়েলথ ফান্ড (Sovereign Wealth Fund): কোনো দেশের সরকারের মালিকানাধীন রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিল, যা উদ্বৃত্ত অর্থ দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করে।

### ৪. আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন (International Trade & Development)

৬১.বাণিজ্য ঘাটতি (Trade Deficit): একটি দেশের মোট রপ্তানি আয়ের চেয়ে মোট আমদানি ব্যয় বেশি হলে তাকে বাণিজ্য ঘাটতি বলে।

৬২.মুক্ত বাণিজ্য (Free Trade): দেশগুলোর মধ্যে কোনো শুল্ক বা কোটা ছাড়া পণ্য ও সেবা অবাধে আমদানি-রপ্তানি করার ব্যবস্থা।

৬৩.শুল্ক (Tariff): আমদানিকৃত বা রপ্তানিকৃত পণ্যের ওপর সরকার কর্তৃক আরোপিত কর।

৬৪.কোটা (Quota): কোনো নির্দিষ্ট পণ্য আমদানির ওপর পরিমাণের দিক থেকে সরকার কর্তৃক আরোপিত সর্বোচ্চ সীমা।

৬৫.ডাম্পিং (Dumping): কোনো দেশ যখন তার নিজস্ব বাজারের চেয়ে অনেক কম মূল্যে বিদেশে পণ্য রপ্তানি করে প্রতিযোগীদের বাজার থেকে তাড়িয়ে দিতে চায়।

৬৬.ক্রয়ক্ষমতার সমতা (PPP - Purchasing Power Parity): বিভিন্ন দেশের মুদ্রার প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা তুলনা করার একটি পদ্ধতি (যেমন: এক ডলার দিয়ে আমেরিকায় যা কেনা যায়, বাংলাদেশে তা কিনতে কত টাকা লাগবে)।

৬৭.এফডিআই (FDI - Foreign Direct Investment): কোনো বিদেশী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরাসরি অন্য দেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠা বা কারখানায় বিনিয়োগ করা।

৬৮.মুদ্রার অবমূল্যায়ন (Devaluation): আন্তর্জাতিক বাজারে নিজের দেশের পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে সরকার কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে নিজস্ব মুদ্রার মান কমিয়ে দেওয়া।

৬৯.ফরেন এক্সচেঞ্জ রেট (Exchange Rate): এক দেশের মুদ্রার বিপরীতে অন্য দেশের মুদ্রার বিনিময় মূল্য (যেমন: ১ ডলার = ১২০ টাকা)।

৭০.ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট (BOP - Balance of Payments): একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) একটি দেশের সাথে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সমস্ত অর্থনৈতিক লেনদেনের পদ্ধতিগত রেকর্ড।

৭১.মানব উন্নয়ন সূচক (HDI - Human Development Index): জাতিসংঘের একটি সূচক যা গড় আয়ু, শিক্ষা এবং মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে দেশের সার্বিক জীবনযাত্রার মান পরিমাপ করে।

৭২.টেকসই উন্নয়ন (Sustainable Development): বর্তমান প্রজন্মের চাহিদা পূরণ করার এমন এক প্রক্রিয়া যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদা পূরণের ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করে না।

৭৩.সুরক্ষাবাদ (Protectionism): দেশীয় শিল্পকে বিদেশী প্রতিযোগিতা থেকে রক্ষা করার জন্য আমদানি শুল্ক বা কোটা আরোপ করার সরকারি নীতি।

৭৪.গিনি সহগ (Gini Coefficient): কোনো দেশের আয় বা সম্পদের বৈষম্য পরিমাপের সূচক। এর মান ০ (পূর্ণ সমতা) থেকে ১ (পূর্ণ বৈষম্য) পর্যন্ত হয়।

৭৫.দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র (Vicious Circle of Poverty): স্বল্প আয়ের কারণে স্বল্প সঞ্চয়, স্বল্প সঞ্চয়ের কারণে স্বল্প বিনিয়োগ এবং তার ফলে পুনরায় স্বল্প আয়—এই চক্রাকার পরিস্থিতি।

৭৬.ব্রিকস (BRICS): উদীয়মান পাঁচটি প্রধান অর্থনীতির দেশ (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা) নিয়ে গঠিত একটি জোট (বর্তমানে এর সদস্য আরও বেড়েছে)।

৭৭.বিশ্বব্যাংক (World Bank): সদস্য দেশগুলোর দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য ঋণ ও অনুদান প্রদানকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা।

৭৮.আইএমএফ (IMF - International Monetary Fund): আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, যা বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সদস্য দেশগুলোর পেমেন্ট সংকটে সাময়িক ঋণ দেয়।

৭৯.ডব্লিউটিও (WTO - World Trade Organization): বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিয়মকানুন নির্ধারণ এবং দেশগুলোর মধ্যকার বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তি করে।

৮০.অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা (Sanctions): কোনো দেশের ওপর রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক কারণে অন্য দেশ বা আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক আরোপিত বাণিজ্যিক ও আর্থিক নিষেধাজ্ঞা।

### ৫. অন্যান্য আধুনিক ও আচরণগত অর্থনৈতিক টার্ম (Modern & Behavioral Economics)

৮১.আচরণগত অর্থনীতি (Behavioral Economics): অর্থনীতি ও মনস্তত্ত্বের মিশ্রণ, যা আলোচনা করে কীভাবে মানুষের আবেগ ও মনস্তাত্ত্বিক ঘাটতি তার অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।

৮২.ক্রিপ্টোকারেন্সি (Cryptocurrency): ব্লকচেইন প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি বিকেন্দ্রীভূত ডিজিটাল মুদ্রা (যেমন: বিটকয়েন)।

৮৩.ব্লকচেইন (Blockchain): একটি সুরক্ষিত, বিকেন্দ্রীভূত ডিজিটাল লেজার বা খতিয়ান প্রযুক্তি যা ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং অন্যান্য লেনদেন ট্র্যাক করতে ব্যবহৃত হয়।

৮৪.শেয়ারিং ইকোনমি (Sharing Economy): এমন অর্থনৈতিক মডেল যেখানে প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যক্তিরা একে অপরের সাথে সম্পদ বা সেবা ভাগাভাগি করে (যেমন: উবার, এয়ারবিএনবি)।

৮৫.গিগ ইকোনমি (Gig Economy): প্রথাগত স্থায়ী চাকরির বাইরে ফ্রিল্যান্স বা খণ্ডকালীন (পার্ট-টাইম) চুক্তির ভিত্তিতে কাজ করার বাজার ব্যবস্থা।

৮৬.অপ্রতিসম তথ্য (Asymmetric Information): লেনদেনের সময় এক পক্ষের কাছে অন্য পক্ষের চেয়ে বেশি বা উন্নত তথ্য থাকার পরিস্থিতি (যেমন: সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি বিক্রেতা ক্রেতার চেয়ে গাড়ির ত্রুটি ভালো জানে)।

৮৭.নৈতিক ঝুঁকি (Moral Hazard): যখন কোনো পক্ষ চুক্তি বা বীমা করার পর এই ভেবে বেশি ঝুঁকি নেয় যে, কোনো ক্ষতি হলে তার মাশুল অন্য পক্ষ দেবে।

৮৮.প্রতিকূল নির্বাচন (Adverse Selection): অপ্রতিসম তথ্যের কারণে বাজারে খারাপ মানের পণ্য বা ক্রেতা চলে আসার প্রবণতা (যেমন: অসুস্থ ব্যক্তিরাই বেশি স্বাস্থ্য বীমা কেনে)।

৮৯.নন-পারফর্মিং অ্যাসেট (NPA): ব্যাংকের এমন সম্পদ বা ঋণ যা থেকে কোনো আয় বা সুদ আসছে না।

৯০.ছায়া অর্থনীতি (Shadow Economy/Black Economy): সরকারের কর ও নজরদারির বাইরে পরিচালিত সমস্ত অবৈধ বা অলিখিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।

৯১.সার্কুলার ইকোনমি (Circular Economy): এমন একটি অর্থনৈতিক মডেল যেখানে বর্জ্য কমিয়ে কাঁচামাল বা পণ্যকে পুনর্ব্যবহার (Recycle) ও পুনরুৎপাদন করা হয়।

৯২.সবুজ অর্থনীতি (Green Economy): পরিবেশের ঝুঁকি হ্রাস এবং পরিবেশগত বিপর্যয় রোধ করে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।

৯৩.বাজার মূলধন (Market Capitalization): একটি কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যাকে একটি শেয়ারের বর্তমান বাজার মূল্য দিয়ে গুণ করলে যে মোট মূল্য পাওয়া যায়।

৯৪.ক্রেডিট ডিফল্ট সোয়াপ (CDS): এক ধরনের আর্থিক চুক্তি বা বীমা যা বিনিয়োগকারীদের ঋণ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে।

৯৫.হেজ ফান্ড (Hedge Fund): ধনী ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নেওয়া একটি আগ্রাসী তহবিল যা উচ্চ মুনাফার আশায় জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় বিনিয়োগ করা হয়।

৯৬.লিকুইডিটি ট্র্যাপ (Liquidity Trap): এমন এক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যেখানে সুদের হার অত্যন্ত কম থাকা সত্ত্বেও মানুষ বিনিয়োগ না করে টাকা নগদ ধরে রাখে, ফলে আর্থিক নীতি কাজ করে না।

৯৭.ফিফোর অ্যাকাউন্টিং (FIFO - First In, First Out): হিসাববিজ্ঞানের পদ্ধতি যেখানে ধরে নেওয়া হয় যে পণ্যটি প্রথমে কেনা হয়েছে, সেটিই প্রথমে বিক্রি হবে।

৯৮.লিফো অ্যাকাউন্টিং (LIFO - Last In, First Out): এমন পদ্ধতি যেখানে ধরে নেওয়া হয় যে পণ্যটি সবশেষে কেনা হয়েছে, সেটিই প্রথমে বিক্রি হবে।

৯৯.রিয়েল জিডিপি (Real GDP): মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব বাদ দিয়ে কোনো একটি নির্দিষ্ট ভিত্তি বছরের (Base Year) মূল্যের ওপর ভিত্তি করে হিসাবকৃত প্রকৃত জিডিপি।

১০০.নমিনাল জিডিপি (Nominal GDP): মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবসহ চলতি বাজারের মূল্যে হিসাবকৃত জিডিপি।