GSM মোবাইল কমিউনিকেশন কিভাবে কাজ করে ppp

GSM (Global System for Mobile Communications) হলো বিশ্বের সবচেয়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ডিজিটাল মোবাইল টেলিফোনি স্ট্যান্ডার্ড। এটি ২জি (2G) মোবাইল নেটওয়ার্কের ভিত্তিতে আত্মপ্রকাশ করেছিল।

​আগে যে এনালগ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতো (যেমন: 1G), তা সরিয়ে GSM সিগন্যালকে ডিজিটালাইজড এবং এনক্রিপ্ট করে ভয়েস কল ও তথ্য (SMS, Data) আদান-প্রদানকে আরও নিরাপদ ও স্পষ্ট করে তুলেছিল।

​১. GSM নেটওয়ার্কের মূল কাঠামো

​একটি GSM নেটওয়ার্ক মূলত ৪টি প্রধান ভাগে বিভক্ত হয়ে কাজ করে:

​মোবাইল সেট + SIM

➔ বিটিএস টাওয়ার + BSC (BSS)

➔ সুইচিং সেন্টার MSC + HLR/VLR (NSS)

➔ নেটওয়ার্ক মনিটরিং (OSS)

উপাদানগুলোর কাজের বিবরণ:

  • মোবাইল স্টেশন (MS): আপনার মোবাইল হ্যান্ডসেট এবং হ্যান্ডসেটের ভেতরে থাকা SIM (Subscriber Identity Module) কার্ড।
  • বেস স্টেশন সাবসিস্টেম (BSS):
    • BTS (Base Transceiver Station): আমাদের আশেপাশে থাকা উঁচু টাওয়ারগুলো, যা মোবাইলের সাথে রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে সংযোগ তৈরি করে।
    • BSC (Base Station Controller): একাধিক টাওয়ারের ফ্রিকোয়েন্সি এবং এক টাওয়ার থেকে অন্য টাওয়ারে কল স্থানান্তর (Handover) পরিচালনা করে।
  • নেটওয়ার্ক অ্যান্ড সুইচিং সাবসিস্টেম (NSS):
    • MSC (Mobile Switching Center): নেটওয়ার্কের মূল মস্তিস্ক। কল কাকে এবং কোথায় পাঠাতে হবে তা নির্ধারণ করে।
    • HLR ও VLR: গ্রাহকের তথ্য, ব্যালেন্স এবং বর্তমান লোকেশন জমা রাখার ডাটাবেজ।
    • AuC (Authentication Centre): সিমের নিরাপত্তা ও নেটওয়ার্কের বৈধতা যাচাই করে।
  • অপারেশন অ্যান্ড সাপোর্ট সাবসিস্টেম (OSS): পুরো নেটওয়ার্ক ঠিকঠাক চলছে কি না তা ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করে।

​২. GSM প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে?

  • TDMA ও FDMA প্রযুক্তি: GSM মূলত FDMA (Frequency Division Multiple Access) এবং TDMA (Time Division Multiple Access) প্রযুক্তির সংমিশ্রণে কাজ করে। একটি ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডকে ছোট ছোট টাইম স্লটে ভাগ করে একই সাথে একাধিক গ্রাহককে কল করার সুযোগ দেয়।
  • ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড: বিশ্বব্যাপী GSM সাধারণত 900 MHz এবং 1800 MHz ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডে কাজ করে।

​৩. বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটরদের উদাহরণ

​বাংলাদেশে মোবাইল প্রযুক্তির প্রসারে GSM প্রযুক্তির ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।

  • গ্রামীণফোন (Grameenphone):
    • ​ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড: 900 MHz / 1800 MHz
    • ​তথ্য ও ভূমিকা: ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে সফল GSM সার্ভিস চালু করে।
  • রবি আজিয়াটা (Robi Axiata):
    • ​ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড: 900 MHz / 1800 MHz
    • ​তথ্য ও ভূমিকা: শুরুতে 'একেটেল' (Aktel) নামে GSM সেবা দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল।
  • বাংলালিংক (Banglalink):
    • ​ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড: 900 MHz / 1800 MHz
    • ​তথ্য ও ভূমিকা: সাশ্রয়ী মূল্যে কল ও সিম দিয়ে বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের কাছে GSM পৌঁছাতে বড় ভূমিকা রাখে।
  • টেলিটক (Teletalk):
    • ​ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড: 900 MHz / 1800 MHz
    • ​তথ্য ও ভূমিকা: একমাত্র সরকারি মোবাইল অপারেটর হিসেবে GSM প্রযুক্তিতে সেবা প্রদান করে আসছে।


বাংলাদেশের প্রথম মোবাইল অপারেটর 'সিটিসেল' (Citycell) কাজ করত CDMA প্রযুক্তিতে, যাতে সহজে সিম বদলানো যেত না। কিন্তু গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক GSM প্রযুক্তি নিয়ে আসার পর সিম কার্ড সহজে খুলে অন্য মোবাইলে ব্যবহারের সুবিধার কারণে এটি বাংলাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

​৪. GSM-এর বর্তমান অবস্থান

​যদিও বর্তমানে বাংলাদেশে 4G এবং 5G প্রযুক্তির প্রসার ঘটেছে, তবুও গ্রামীণ অঞ্চলে শক্তিশালী কভারেজ, সাধারণ ফিচার ফোনের সংযোগ, সাশ্রয়ী ভয়েস কল এবং SMS আদান-প্রদানের মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যাকগ্রাউন্ডে GSM (2G) নেটওয়ার্ক এখনো নিরবচ্ছিন্নভাবে সচল রয়েছে।