বৃহস্পতিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৪

স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারের সিদ্ধান্ত

 এরইমধ্যে কাজ করা শুরু করেছে। এলক্ষ্যে সবার ঢাকা অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে করা ১ লক্ষ ২৮ হাজার ৭৬৭টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ডিএনসিসিতে ৪৮ হাজার স্মার্ট লাইট স্থাপন করা হয়েছে যা মোবাইল ফোন থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এসব লাইটের আলো প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা হচ্ছে। অনলাইনে ট্যাক্স আদায় শুরু করা হয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে ১ লক্ষ ২৮ হাজার বাসা-বাড়িকে সার্ভের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বায়োমেট্রিক হাজিরা, অনলাইনে ট্রেড লাইসেন্স এবং আইওটি এর মাধ্যমে ২,৩৫০টি স্থানে ডিজিটাল কার পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নাগরিক সেবার সকল কার্যক্রমকে পর্যায়ক্রমে আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে। এখন ৩৩৩ এর মাধ্যমে নাগরিকরা কোনো অভিযোগ করলে সাথে সাথে এর সামাধান করা সম্ভব হচ্ছে।


চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের বিভিন্ন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করার জন্য বুয়েট-এ এরই মধ্যে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার ফর সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং স্থাপন করা হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত গ্রামের উন্নয়নের জন্য এগ্রিকালচার, পাওয়ার এবং অন্যান্য সেক্টরের উপযোগী প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করা হচ্ছে। দেশের প্রেক্ষাপটে স্মার্ট এগ্রিকালচার তৈরিতে বুয়েট এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একসাথে কাজ করছে। স্মার্ট ভিলেজের অন্যতম উপাদান স্মার্ট এগ্রিকালচার। স্মার্ট এগ্রিকালচার-এর জন্য আইওটি ডিভাইস ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


স্মার্ট এগ্রিকালচারের জন্য ন্যানো টেকনোলজি এবং এআই ব্যবহার করে পরিকল্পনামাফিক কতটুকু সার ও ওষুধ দেওয়া লাগবে তা নির্ধারণ করা সম্ভব। প্রযুক্তি ব্যবহারে আগামী দুই বছরে কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি সাধন করা সম্ভব হবে। উচ্চফলনশীল ধান চাষাবাদের মাধ্যমে আগামীতে ধানের উৎপাদন বহুগুণে বাড়াবে। ধানে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলে এবং আমদানি না করতে হলে আমাদেরকে কোনো দুঃচিন্তা করতে হবে না।


২০৪১ সালের স্মার্ট বাংলাদেশ হবে সাশ্রয়ী, টেকসই, বুদ্ধিভিত্তিক, জ্ঞানভিত্তিক এবং উদ্ভাবনী বাংলাদেশ। ২০৪১ সালের স্মার্ট বাংলাদেশের কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালা থেকে পাওয়া সংশ্লিষ্টদের সুচিন্তিত মতামত, উপদেশ ও সুপারিশ ভবিষ্যতে আমাদের পথ দেখাবে। স্মার্ট সিটি ও স্মার্ট ভিলেজ বাস্তবায়নের জন্য স্মার্ট স্বাস্থ্যসেবা, স্মার্ট ট্রান্সর্পোটেশন, স্মার্ট ইউটিলিটিজ, নগর প্রশাসন, জননিরাপত্তা, কৃষি, ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স, রোবটিক্স, মাইক্রোচিপ ডিজাইনিং অ্যান্ড ম্যানুফেকচারিং ও সাইবার সিকিউরিটি এই চারটি প্রযুক্তিতে আমাদের মনোযোগী হতে হবে।


উল্লেখ্য, স্মার্ট সিটি বলতে এমন এক নগরায়নকে বুঝায় যেখানে ন্যূনতম পরিবেশগত প্রভাব নিশ্চিত করে কোনো একটি শহরের সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য উন্নততর জনবান্ধব সেবা প্রদানে আধুনিক প্রযুক্তিগুলোকে কাজে লাগানো হবে। স্মার্ট সিটিতে অনেকগুলো উপাদান থাকলেও বাংলাদেশের জন্য প্রস্তাবিত স্মার্ট সিটি কাঠামোতে স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন, জননিরাপত্তা, ইউটিলিটি এবং নগর প্রশাসনসহ মোট ৫টি উপাদান এবং পরিষেবাকে মোটাদাগে চিহ্নিত করা হয়েছে।


অন্যদিকে, স্মার্ট ভিলেজ বলতে এমন এক গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে বুঝায় যেখানে ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং উন্মুক্ত উদ্ভাবনী প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারের মাধ্যমে স্থানীয় নাগরিকরা বিশ্ব বাজারে সাথে যোগাযোগের সুযোগ পাবে। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের বিভিন্ন সেবা প্রদান ব্যবস্থাকে উন্নত করা, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস বিকাশে স্মার্ট ভিলেজ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

বুধবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৪

নিবর্তনমূলক আইন

 বিশেষ ক্ষমতা আইনের ৩(১) কোন ব্যক্তিকে ভবিষ্যতে  কোন আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজের ব্যাপারে নিবৃত্ত করার জন্যই নিবর্তনমূলক আইন। এক্ষেত্রে সরকার কাউকে আটক আদেশ দিতে পারে।বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় কোন ব্যক্তিকে বিনা বেচারে ৩০ দিন ৯০ দিন এমনকি ১২০ দিন আটকের বিধান রয়েছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্যই ‍অনেক ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিকে ভবিষ্যতে কোনো ক্ষতিকর কাজ করা থেকে নিবৃত্ত করার জন্য আটকাদেশ দেওয়া হয়। ‍জনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্যই এ বিধান।

জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি ১৭ টি লক্ষ্য

জাতিসংঘ ঘোষিত  টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDG) এর লক্ষ্যগুলো হলোঃ 


১. দারিদ্র্য নির্মূল; 


২. ক্ষুধামুক্তি; 


৩. সুস্বাস্থ্য; 


৪. মানসম্পন্ন শিক্ষা; 


৫. লিঙ্গ সমতা; 


৬. বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন; 


৭. সাশ্রয়ী ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি; 


৮. উপযুক্ত কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি; 


৯. শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো; 


১০. বৈষম্য হ্রাস; 


১১. টেকসই শহর ও জনগণ; 


১২. পরিমিত ভোগ; 


১৩. জলবায়ুবিষয়ক পদক্ষেপ; 


১৪. পানির নিচে প্রাণ; 


১৫. স্থলভাগের জীবন; 


১৬. শান্তি ও ন্যায়বিচার এবং 


১৭. লক্ষ্য অর্জনে অংশীদারত্ব।


মঙ্গলবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৪

নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রম

 জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ( সংক্ষিপ্ত )-২০২৩


২০২৩ সাল থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে । ২০২২ সালে প্রাথমিক পর্যায়ে ৬২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাইলট প্রকল্পের অংশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ করা হয়েছে । সেই সঙ্গে নতুন পাঠ্যক্রম অনুসারে এই সকল শিক্ষার্থী সপ্তাহে দুই দিন ছুটি পাবে । পরবর্তীতে ২০২৩ সাল থেকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সপ্তাহে দুই দিন ছুটি পাবে । ২০২৩ সালে ৬ষষ্ঠ-৭ম শ্রেণিতে শিক্ষাক্রম শুরু হবে । এরপর ২০২৪ সালে ৩য় , ৪র্থ , ৮ম ও ৯ম শ্রেণিতে চালু হবে । ২০২৫ সালে পঞ্চম ও দশম শ্রেণিতে , ২০২৬ সালে একাদশ শ্রেণিতে ২০২৭ সালে দ্বাদশ শ্রেণিতে চালু হবে নতুন শিক্ষাক্রম । ২০২৩ সাল থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন শিক্ষাক্রমের রূপরেখা অনুমোদন করা হয়েছে ।

জাতীয় শিক্ষাক্রমের মূল ভিত্তি হলো :


● মুক্তিযুদ্ধকালীন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত চেতনা 

● মানবিক মর্যাদা

•সামাজিক ন্যায়বিচার

● সাম্য


নতুন শিক্ষাক্রমের অভিলক্ষ

● সকল শিক্ষার্থীর অন্তর্নিহিত সম্ভাবনা বিকাশে কার্যকর ও নমনীয় শিক্ষাক্রম প্রণয়ন

● শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষার্থীর বিকাশ ও উৎকর্যের সামাজিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা

• প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশের বাইরেও বহুমাত্রিক শিখনের সুযোগ সৃষ্টি ও স্বীকৃতি প্রদান

সংবেদনশীল,জবাবদিহিমূলক,একীভূত ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ

● শিক্ষাব্যবস্থার সকল পর্যায়ে দায়িত্বশীল , স্ব - প্রণোদিত , দক্ষ ও সংবেদনশীল , জবাবদিহিমূলক , একীভূত ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নতুন শিক্ষাক্রমের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে ।

● শিক্ষার্থীর দৃষ্টিভঙ্গি , জ্ঞান , যোগ্যতা , মূল্যবোধ ও সক্ষতা বাড়াতে জাতীয় শিক্ষাক্রমের মূল ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে । ফলাফল নির্ভর পড়াশুনা নয় বরং সত্যিকার জ্ঞান অর্জনই শিক্ষাক্রমের লক্ষ্য । উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশপ্রেম , সম্প্রীতিসহ ছয় ধরনের মূল্যবোধ জাগ্রতকরণ এবং আত্মবিশ্বাসসহ তিন ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি । সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা দশটি গুণ অর্জন করবে । নতুন শিক্ষাক্রমে প্রাক - প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১০ ধরনের শেখার ক্ষেত্র ঠিক করা হয়েছে ।


এগুলো হলো

১.ভাষা ও যোগাযোগ

২.গণিত ও যুক্তি

৩.জীবন ও জীবিকা

৪.সমাজ ও বিশ্ব নাগরিকত্ব

৫.পরিবেশ ও জলবায়ু 

৬. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

৭.তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

৮.শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা

৯.মূল্যবোধ ও নৈতিকতা

১০.শিল্প ও সংস্কৃতি ।


প্রাক্ - প্রাথমিকের শিশুদের জন্য আলাদা বই থাকবে না , শিক্ষকরাই শেখাবেন । কেবল শিক্ষক ও শিক্ষার্থী নয় , পাঠ্যক্রমে অভিভাবকদেরও অংশগ্রহণ থাকবে । নতুন শিক্ষারুমে মুখস্থনির্ভর লেখাপড়ার চর্চা থেকে বেরিয়ে আসবে শিক্ষার্থীরা । নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীরা যে কোনো ইস্যুতে সূক্ষ্ম চিন্তা করার শক্তি অর্জন করবে । আর অন্যের মতামত ও অবস্থানকে অনুধাবন করে প্রেক্ষাপট অনুযায়ী নিজের ভাব , মতামত , সৃজনশীলভাবে প্রকাশ করতে পারার যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে । নতুন অনুমোদিত শিক্ষাক্রমের রূপরেখায় দশটি যোগ্যতা অর্জনের নতুন মাত্রা সংযোজন করা হয়েছে । শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক ও আনন্দময় শিখনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে নতুন শিক্ষাক্রমে বিবেচ্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে । বিষয় এবং পাঠ্যবইয়ের বোঝা ও চাপ কমানো এবং গভীর শিখানোর বিষয় ও গুরুত্ব বিবেচনা করা হয়েছে ।


নতুন শিক্ষাক্রমের বিবেচ্য বিষয়সমূহ

১. শিক্ষার্থী - কেন্দ্রিক ও আনন্দময় শিখনের পরিবেশ সৃষ্টি

২. বিষয় এবং পাঠ্যবইয়ের বোঝা ও চাপ কমানো

৩ .শিখণ শিখানোর বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান

 8 . মুখস্ত- নির্ভরতার পরিবর্তে অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রম ভিত্তিক শিখনে অগ্রাধিকার প্রদান 

৫. খেলাধুলা ও সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষা প্রদানের ওপর গুরুত্ব প্রদান 

৬. নির্দিষ্ট দিনের পাঠ শ্রেণিকক্ষেই যেন শেষ হয় , সে ধরনের শিখন শিখানো কার্যক্রম পরিচালনায় সচেষ্ট হয়ে বাড়ির কাজ কমানো

৭. নির্দিষ্ট সময়ে অর্জিত পারদর্শিতার জন্য সনদ প্রাপ্তির প্রতি গুরুত্ব আরোপ

৮. জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সম্পর্কিত শিক্ষা ।


শিক্ষাক্রমে তথ্য মনে রাখার ক্ষমতার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীর তথ্য বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা এবং তথ্য ব্যবহার করে সমস্যা সমাধানের ক্ষমতার উপর । 


মূল্যায়ন প্রক্রিয়া:

মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাক্রম বিষয়ে যষ্ঠ , সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে বাংলা , ইংরেজি , গণিত , বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে শিখনকালীন মূল্যায়ন ৬০ শতাংশ ও সামষ্টিক মূল্যায়ন বছর শেষে পরীক্ষা ) ৪০ শতাংশ । বাকি বিষয়ে জীবন ও জীবিকা , তথ্য প্রযুক্তি , শারীরিক ও মানসিক শিক্ষা , স্বাস্থ্য সুরক্ষা , ধর্ম শিক্ষা , শিল্প ও সংস্কৃতি প্রভৃতিতে ।বিদ্যমান বিষয়ে চারু ও কারুকলা ) শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে শতভাগ । আর নবম - দশম শ্রেণির বাংলা , ইংরেজি , গণিত , বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে শিখনকালীন মূল্যায়ন ৫০ শতাংশ ও সামষ্টিক মূল্যায়ন ( বছর শেষে পরীক্ষা ) ৫০ শতাংশ । নবম - দশম শ্রেণির বাকি বিষয়গুলোর শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে শতভাগ । ফলে এই সব শ্রেণিতে ৫ টি বিষয়ে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা হবে এবং বাকি বিষয়ের মূল্যায়ন করবে শিক্ষকরা ।

নতুন শিক্ষাক্রমে প্রাক - প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিদ্যমান পরীক্ষার চেয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক মূল্যায়ন ( শিখনকালীন ) বেশি হবে । এর মধ্যে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা হবে না । শতভাগ মূল্যায়ন হবে সারা বছর ধরে বিভিন্ন রকমের শিখন কার্যক্রমের ভিত্তিতে । পরবর্তী শ্রেণিগুলোর মূল্যায়ন হবে পরীক্ষা ও ধারাবাহিক শিখন কার্যক্রমের মাধ্যমে । নতুন শিক্ষাক্রমে এখনকার মতো আর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা হবে ব না , শুধু দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে হবে এসএসসি পরীক্ষা । একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে দুইটি পাবলিক পরীক্ষা হবে । প্রতি বর্ষ শেষে বোর্ডের অধীনে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে । এরপর দুই পরীক্ষার ফলাফলের সমন্বয়ে এইচএসসির চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে । ২০২৩ সাল থেকে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির পাবলিক পরীক্ষা থাকবে না । সাময়িক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হবে । এছাড়া নতুন শিক্ষাক্রমে এখন থেকে শিক্ষার্থীরা দশম শ্রেণি পর্যন্ত অভিন্ন সিলেবাসে পড়বে । শিক্ষার্থী বিজ্ঞান , মানবিক । বাণিজ্য বিভাগে পড়বে , সেই বিভাজন হবে একাদশ শ্রেণিতে গিয়ে । নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী , ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত যে ১০ বিষয়ে পড়ানো হবে , সেগুলো হলো- বাংলা , ইংরেজি , গণিত , বিজ্ঞান , তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি , সামাজিক বিজ্ঞান , জীবন ও জীবিকা , ধর্ম , স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি ।


• মূল্যায়ন কেবল শিক্ষার্থীর শিখান মূল্যায়নের মধ্যে সীমাবন্ধ না রেখে পুরো শিক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা,মূল্যায়ন শিখন পরিবেশের মূল্যায়ন ও সে সঙ্গে শিক্ষার্থীর শিখনের মূল্যায়নের উপর ।

. শিখন মূল্যায়নের ভিত্তি হবে যোগ্যতা ।

• শ্ব - মূল্যায়ন সতীর্থ মূল্যায়নের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে ।

● মুখ - নির্ভর সামজিক মূল্যায়ন হ্রাস ।

● শিখন অগ্রগতি মূল্যায়নের ধারাবাহিক রেকর্ড সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা ।


শিখন শিখানো কৌশল ।

• অনলাইন ভিত্তিক শিখনের সংমিশ্রণ

• কারিগরি ও নৈতিক শিক্ষার উপর গুরুত্ব

• হাতে কলমে শিখন প্রকল্প ও সমস্যা ভিত্তিক শিখন , সহযোগিতামূলক শিখন , অনুসন্ধানমূলক শিখন , স্ব প্রণোদিত মিশনের সংমিশ্রণ

• শিখনের ক্ষেত্রে শিক্ষকের ভূমিকা সহায়তাকারী এবং শিক্ষার্থীরা সক্রিয় অংশগ্রহণকারী

.শিখন পরিবেশ একীভূত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক

. শিখন পরিবেশ শিক্ষার্থী - কেন্দ্রিক , গণতান্ত্রিক , সহযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক।


যেসব ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন :

১. জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন ।

২. জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা অনুযায়ী ২০২৩ সাল থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা থাকবে না ।

৩. এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়া হবে শুধু দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে । ৪. একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে দুটি পাবলিক পরীক্ষা নেওয়া হবে ।

৫. বোর্ডের অধীনে নেওয়া হবে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির দুই পরীক্ষা । এই দুই পরীক্ষার ফলের সমন্বয়ে এইচএসসির ফল চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হবে ।

৬ . একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ৩০ শতাংশ মূল্যায়ন হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ।

৭. ২০২৩ সাল থেকে শিক্ষার্থীরা দশম শ্রেণি পর্যন্ত অভিন্ন সিলেবাসে পড়বে । থাকবে না বিজ্ঞান , মানবিক বা বাণিজ্য বিভাগ বিভাজন

৮ . নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষার ক্ষেত্র হচ্ছে প্রাক - প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ভাষা ও যোগাযোগ , গণিত ও যুক্তি , জীবন ও জীবিকা , সমাজ ও বিশ্ব মাগরিকত্ব , পরিবেশ ও জলবায়ু , বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি , তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি , শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা , মূল্যবোধ ও নৈতিকতা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি ।

৯. প্রাক - প্রাথমিকে শিশুদের জন্য আলাদা বই থাকবে না , শিক্ষকরাই শেখাবেন ।

১০. প্রাথমিকে পড়তে হবে আটটি বই । 


নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষকের ভূমিকা :

নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষকরা কীভাবে পড়াবে , সেজন্য শিক্ষক গাইড থাকবে । সেটি অনুসরণ করে শিক্ষকগণ শিখন শিখানো কার্যক্রম পরিচালনা করবেন । শিক্ষকগণ শিখন চলাকালীন শিক্ষার্থীকে ধারাবাহিক মূল্যায়ন করবেন । প্রতিটি বিষয়ে সামষ্টিক মূল্যায়ন এবং পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়নের স্বাধীনতা থাকবে শিক্ষকদের নতুন কারিকুলামে কোনও শিক্ষার্থীর না পারার কথা নয় । যত্নের সঙ্গে টিচার গাইড তৈরি হচ্ছে । তারা টিচার গাইড অনুসরণ করে পড়াবেন । আসলে অনেক বেশি পড়ানোর চেয়ে শিক্ষকরা অনেক বেশি গাইড করবেন । শিক্ষার্থীরা নিজেরা নিজেরাই তাদের সমস্যার সমাধান করতে পারবে । সেভাবেই বই লেখা হবে ।


শিক্ষানীতি আইন :

• ৫৮ টি বিধান রেখে নতুন শিক্ষা আইন -২০২২ এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে । শিক্ষানীতির আইনের ১৬ নম্বর ধারায় নোট - গাইড প্রকাশ ও বাজারজাত করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে । তবে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে সহায়ক ও অনুশীনমূলক বই মুদ্রণ , বাঁধাই , প্রকাশ ও বাজারজাত করা যাবে ।


* প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনে চার স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে ।

• ১ ম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক

.৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক

• একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত উচ্চ মাধ্যমিক এবং

● বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উচ্চ শিক্ষা স্তর । 


এছাড়া আলাদাভাবে প্রাক - প্রাথমিক স্তরের কথাও আইনে বলা হয়েছে । প্রাথমিক পর্যায়ের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকতে হবে প্রাক - প্রাথমিক স্তর


প্রশ্নের ধরন:- 

পরীক্ষার প্রশ্নের কাঠামো এখনকার মতে হুবহু থাকবে না । প্রশ্ন প্রণয়নে শিক্ষকদের স্বাধীনতা থাকবে । প্রশ্নগুলো হবে মিশ্র ধরনের । এখন মাধ্যমিক স্তরে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন হয় দুই ধরনের । একটি অংশে থাকে সৃজনশীল । সেখানে একটি প্রশ্নকে চার ভাগে ভাগ করে উত্তর জানতে চাওয়া হয় । আর একটি অংশে থাকে বহুনির্বাচনি ।


নতুন শিক্ষাক্রমের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন কাঠামোগত বড় পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রশ্নপত্রের ধরনও বদলে যাবে । পরীক্ষার প্রশ্নগুলো সৃজনশীল হলেও তার কাঠামো এখনকার মতো হুবহু থাকবে না । নতুন শিক্ষাক্রমের একটি অংশের মূল্যায়ন হবে সারা বছরের ধারাবাহিক শিখন কার্যক্রমের ভিত্তিতে , আরেকটি অংশের পরীক্ষার মাধ্যমে । এতে প্রশ্নের ধরন নির্ভর করবে বিষয়ের প্রকৃতি , যোগ্যতা অর্জনের চাহিদা এবং অভিজ্ঞতার ধরনের উপর । অন্যগুলো হবে সমস্যা সমাধান ভিত্তিক । দুই ক্ষেত্রেই প্রশ্ন প্রণয়নে শিক্ষকদের স্বাধীনতা থাকবে । অর্থাৎ উত্তর জানা প্রশ্নগুলো হবে মিশ্র ধরনের । এই শিক্ষাক্রমের একটি বড় দিক হলো পাবলিক পরীক্ষার সংখ্যা কমানো এবং শ্রেণিকক্ষে ধারাবাহিক মূল্যায়ন বাড়ানো ।


পরিশেষে বলা যায় , বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশ হতে যাচ্ছে । ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক ও তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক । বর্তমান শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীগণ মানবিক মানুষ হয়ে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্ব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সক্ষমতা অর্জন করবে । ২০২৩ সালের সমন্বিত শিক্ষাক্রম শিক্ষার্থীদের সার্বিক সক্ষমতা অর্জনে সহায়ক হবে- এই প্রত্যাশা করছি ।

সমন্বিত এই নতুন প্রবর্তিত শিক্ষাক্রমে শিক্ষা আইনে 

'শিক্ষকদের আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদা রাষ্ট্রীয় ভাবে প্রতিষ্ঠা হলেই কেবল ইতিবাচক পরিবর্তন প্রত্যাশা করা যায় ' তাই একজন বাস্তব অভিজ্ঞতালব্দ প্রবীণ  প্রধান 

শিক্ষক মন্তব্য করেন যে, "আমি জানি না,

কেননা আমরা কি কখনো বৃটিশ আমলের সৃষ্ট  আমলাতান্ত্রিকতার পরিবেষ্টিনি থেকে এ জাতিকে মুক্ত করে শিক্ষা-ভিত্তিক দেশ উপহার দিতে পারবো কিনা? "

তারপরও আমার বিশ্বাস আমাদের প্রিয় রক্তেগড়া স্বদেশ এগিয়ে যাবে স্বমহিমায়,আমাদের সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায়।

প্রথম বিশ্ব, দ্বিতীয় বিশ্ব, তৃতীয় বিশ্ব, চতুর্থ বিশ্ব


 

Paradigm Shift

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে **প্যারাডাইম শিফট (Paradigm Shift)** বলতে বৈশ্বিক বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য, নীতি, চিন্তাধারা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মূল কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তনকে বোঝায়। সমাজবিজ্ঞানী থমাস কুনের "প্যারাডাইম শিফট" ধারণাটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় যখন কোনো নির্দিষ্ট যুগের প্রচলিত নিয়ম ও তত্ত্ব দিয়ে বৈশ্বিক পরিস্থিতি আর ব্যাখ্যা করা যায় না।

**ইতিহাসের প্রধান আন্তর্জাতিক প্যারাডাইম শিফটসমূহ**

 * **ওয়েস্টফেলিয়া চুক্তি (১৬৪৮):** আধুনিক আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সূচনা। এর মাধ্যমে ধর্মীয় কর্তৃত্বের বদলে **জাতীয় সার্বভৌমত্ব (National Sovereignty)** এবং রাষ্ট্রকেন্দ্রিক ব্যবস্থার জন্ম হয়।

 * **প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪–১৯৪৫):** ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদের পতন ঘটে এবং বিশ্বের ক্ষমতা ব্রিটেন ও ফ্রান্সের হাত থেকে সরে গিয়ে **দ্বিমেরুকেন্দ্রিক (Bipolar)** ব্যবস্থায় রূপ নেয়।

 * **স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তি ও সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন (১৯৯১):** বিশ্ব একমেরুকেন্দ্রিক (Unipolar) ব্যবস্থায় প্রবেশ করে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং **উদারনৈতিক পুঁজিবাদ (Liberal Capitalism)** বিশ্বজুড়ে প্রাধান্য পায়।

**একবিংশ শতাব্দীর সাম্প্রতিক প্যারাডাইম শিফট**

**১. একমেরু থেকে বহুমেরুকেন্দ্রিকতা (Multipolarity)**

যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তির উত্থান ঘটেছে। গ্লোবাল সাউথ (ভারত, ব্রাজিল, সাউথ আফ্রিকা) এখন বৈশ্বিক সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

**২. অর্থনৈতিক ভূ-রাজনীতির পরিবর্তন**

বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু পশ্চিম (উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ) থেকে ক্রমশ পূর্বে (এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল) স্থানান্তরিত হচ্ছে। ডলারের বিকল্প হিসেবে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য (De-dollarization) বৃদ্ধি পাচ্ছে।

**৩. অপ্রথাগত নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির প্রভাব**

সামরিক শক্তির পাশাপাশি এখন সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), তথ্যপ্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রধান নিরাপত্তা উদ্বেগ হয়ে উঠেছে।

**৪. বহুমুখী কূটনীতি (Minilateralism)**

জাতিসংঘের মতো বড় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নিষ্ক্রিয়তার কারণে নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক ছোট ছোট জোট (যেমন: BRICS, QUAD, AUKUS) এখন বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্যারাডাইম শিফট কোনো হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনা নয়; বরং এটি অর্থনৈতিক ক্ষমতা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং সামরিক ভারসাম্যের ধারাবাহিক পরিবর্তনের প্রতিফলন।

পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত ও রহস্যজনক ঘটনার বিবরণ

পৃথিবীর বুকে যুগ যুগ ধরে এমন অনেক ঘটনা ঘটে গেছে, যার পেছনের প্রকৃত সত্য বা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আজও পুরোপুরি উদ্ঘাটিত হয়নি। মানুষের কৌতূহল আর ...