বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ডিপ্লোমা ইন ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং – হতে পারে আপনার জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত

বর্তমানে ডিপ্লোমা ইন ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ডিপ্লোমা ইন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংকে সমমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই ডিপ্লোমা ইন ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা, ডিপ্লোমা ইন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করা শিক্ষার্থীদের মতোই বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করতে পারে।


অর্থাৎ, ইলেকট্রনিক্স ডিপ্লোমাধারীরা ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স—উভয় ক্ষেত্রের চাকরিতেই আবেদন করার সুযোগ পেয়ে থাকে ।

 

বাংলাদেশে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ, অটোমেশন, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের ফলে দক্ষ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসমূহে ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে শিক্ষার্থীরা তত্ত্বের পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে, যা দ্রুত কর্মজীবনে প্রবেশের জন্য অত্যন্ত কার্যকর।


চাকরির প্রধান ক্ষেত্রসমূহ
১. সরকারি বিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা:
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার বা টেকনিক্যাল অফিসার হিসেবে কাজের সুযোগ পান। যেমন—
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড
ডেসকো,নেসকো,পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র 
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি


২. শিল্পকারখানা ও উৎপাদন খাত:
টেক্সটাইল, গার্মেন্টস, সিমেন্ট, স্টিল মিল, ফুড প্রসেসিং, ফার্মাসিউটিক্যালসসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উপসহকারী প্রকৌশলী, মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার, ইলেকট্রিক্যাল সুপারভাইজার, হিসেবে কাজের সুযোগ রয়েছে।


৩. পাওয়ার প্ল্যান্ট ও সাব-স্টেশন:
বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গ্রিড সাব-স্টেশন, ট্রান্সমিশন লাইন ও ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমে অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ।


৪. টেলিকম ও আইটি সেক্টর:
মোবাইল নেটওয়ার্ক, টাওয়ার মেইনটেন্যান্স, আইপিএস ও জেনারেটর সাপোর্ট, ডাটা সেন্টার পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি ক্ষেত্রে চাহিদা রয়েছে।


৫. নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable Energy):
সোলার প্যানেল ইনস্টলেশন, সোলার ইনভার্টার, ব্যাটারি ব্যাকআপ সিস্টেম—বর্তমানে গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে।


৬. বিদেশে কর্মসংস্থান:
মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে ইলেকট্রিক্যাল টেকনিশিয়ান ও সুপারভাইজার হিসেবে ভালো বেতনে কাজের সুযোগ রয়েছে।

🎓 উচ্চশিক্ষার সুযোগ
ডিপ্লোমা শেষে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং (EEE) বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ রয়েছে। দেশ বা বিদেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিপ্লোমাধারীদের ক্রেডিট ছাড় দিয়ে ভর্তির  ব্যবস্থা থাকে ।

💼 কেন পলিটেকনিক পড়বেন?
✔ ৪ বছরে ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন
✔ দ্রুত চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ
✔ সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে চাহিদা
✔ বিদেশে কাজের সম্ভাবনা
✔ সরকারি চাকরিতে ২য় শ্রেণীর পদে যোগদান। 
 

বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর—আর সেই প্রযুক্তির চালিকাশক্তি হচ্ছে দক্ষ ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার। আপনি যদি দ্রুত কর্মসংস্থান, বাস্তব দক্ষতা এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ চান, তাহলে পলিটেকনিকের ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং হতে পারে আপনার সেরা সিদ্ধান্ত। আজই প্রযুক্তির পথে এগিয়ে আসুন—নিজেকে গড়ুন দক্ষ, আত্মনির্ভর ও সম্মানজনক ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুত একজন প্রকৌশলী হিসেবে। 

মহাকাশ বিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের আলোচনায় ব্যবহৃত ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ বাংলা পরিভাষা

মহাকাশ বিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের আলোচনায় ব্যবহৃত ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ বাংলা পরিভাষা 

. মহাবিশ্ব - Universe

.মহাকাশ - Outer Space

.ছায়াপথ / গ্যালাক্সি - Galaxy

.আকাশগঙ্গা - Milky Way

.নীহারিকা - Nebula

.কৃষ্ণগহ্বর - Black Hole

.শ্বেত বামন - White Dwarf

.নিউট্রন তারা - Neutron Star

.পালসার - Pulsar

১০.কোয়েসার - Quasar

১১.অন্ধকার পদার্থ - Dark Matter

১২.অন্ধকার শক্তি - Dark Energy

১৩.মহাকর্ষ - Gravity

১৪.মহাকর্ষীয় তরঙ্গ - Gravitational Wave

নক্ষত্র ও তারা (Stars)

১৫. নক্ষত্র - Star
১৬.ধ্রুবতারা - Pole Star
১৭.মহানব তারা - Giant Star
১৮.খই-বিন্দু তারা - Dwarf Star
১৯.দ্বৈত তারা - Binary Star
২০.নবতারা - Nova
২১.অতিনবতারা - Supernova
২২.তারার পতন - Star Collapse
২৩.তারামন্ডল - Constellation
২৪.ঋক্ষমন্ডল - Ursa Major (Saptarshi)

সৌরজগত (Solar System)


২৫. সৌরজগত - Solar System
২৬.সূর্য - Sun
২৭.গ্রহ - Planet
২৮.বামন গ্রহ - Dwarf Planet (যেমন: প্লুটো)
২৯.উপগ্রহ - Satellite / Moon
৩০.গ্রহাণু - Asteroid
৩১.গ্রহাণু বলয় - Asteroid Belt
৩২.ধূমকেতু - Comet
৩৩.উল্কা - Meteor
৩৪.উল্কাপাত - Meteor Shower
৩৫.উল্কাপিণ্ড - Meteorite
৩৬.কক্ষপথ - Orbit
৩৭.অপভূ - Apogee (চাঁদের ক্ষেত্রে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে)
৩৮.অনুভূ - Perigee (চাঁদের ক্ষেত্রে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে)
৩৯.সুর্যাপসূর - Aphelion (সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরে)
৪০.সুর্যাপসূর - Perihelion (সূর্যের সবচেয়ে কাছে)

পৃথিবী ও চাঁদ (Earth and Moon)


৪১. অয়নান্ত - Solstice
৪২.বিষুব - Equinox
৪৩.গ্রহণ - Eclipse
৪৪.সূর্যগ্রহণ - Solar Eclipse
৪৫.চন্দ্রগ্রহণ - Lunar Eclipse
৪৬.জোয়ার-ভাটা - Tide
৪৭.মহাকর্ষীয় টান - Gravitational Pull
৪৮.মেরুজ্যোতি - Aurora (Aurora Borealis/Australis)

পর্যবেক্ষণ ও যন্ত্রপাতি (Observation & Instruments)


৪৯. দূরবীক্ষণ যন্ত্র / টেলিস্কোপ - Telescope
৫০.প্রতিফলন দূরবীন - Reflector Telescope
৫১.প্রতিসরণ দূরবীন - Refractor Telescope
৫২.বেতার দূরবীন - Radio Telescope
৫৩.মহাকাশ মানমন্দির - Space Observatory
৫৪.বর্ণালিবীক্ষণ যন্ত্র - Spectroscope
৫৫.বায়ুমন্ডল - Atmosphere
৫৬.আলোকবর্ষ - Light Year
৫৭.জ্যোতির্বিদ্যা একক - Astronomical Unit (AU)
৫৮.পারসেক - Parsec

মহাকাশ অভিযান (Space Missions)

৫৯. মহাকাশযান - Spacecraft
৬০.মহাকাশ স্টেশন - Space Station
৬১.উপগ্রহ - Satellite (কৃত্রিম)
৬২.ভূ-স্থির উপগ্রহ - Geostationary Satellite
৬৩.মেরু উপগ্রহ - Polar Satellite
৬৪.প্রোব - Space Probe
৬৫.রোভার - Rover (যেমন: মঙ্গল গ্রহের রোভার)
৬৬.ল্যান্ডার - Lander
৬৭.অরবিটার - Orbiter
৬৮.মহাকাশচারী - Astronaut
৬৯.নভোচারী - Cosmonaut (রুশ)
৭০.মহাকাশ পর্যটক - Space Tourist
৭১.মহাকাশ উৎক্ষেপণ - Space Launch
৭২.মহাকাশ মিশন - Space Mission
৭৩.পুনরায় ব্যবহারযোগ্য উৎক্ষেপণ যান - Reusable Launch Vehicle
৭৪.মহাকাশ পদচারণা - Spacewalk (Extravehicular Activity - EVA)

জ্যোতি:পদার্থবিদ্যা ও সৃষ্টিতত্ত্ব (Astrophysics & Cosmology)

৭৫. মহা বিস্ফোরণ তত্ত্ব - Big Bang Theory
৭৬.মহা সংকোচন - Big Crunch
৭৭.মহা চির - Big Rip
৭৮.মহাকর্ষীয় পতন - Gravitational Collapse
৭৯.লোহিত সরণ - Redshift
৮০.নীল সরণ - Blueshift
৮১.মাইক্রোওয়েভ পটভূমি বিকিরণ - Cosmic Microwave Background Radiation (CMB)
৮২.মহাজাগতিক রশ্মি - Cosmic Rays
৮৩.নিউক্লিওসিন্থেসিস - Nucleosynthesis
৮৪.ফার্মি প্যারাডক্স - Fermi Paradox

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা (Other Important Terms)

৮৫. বায়ুমণ্ডল - Atmosphere
৮৬.জীবমণ্ডল - Biosphere
৮৭.মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র - Gravitational Field
৮৮.চুম্বকমণ্ডল - Magnetosphere
৮৯.সৌর বায়ু - Solar Wind
৯০.সৌর শিখা - Solar Flare
৯১.অরোরা - Aurora
৯২.অয়ন বৃত্ত - Tropic of Cancer/Capricorn
৯৩.মেরু বৃত্ত - Arctic/Antarctic Circle
৯৪.নিরক্ষরেখা - Equator
৯৫.আবর্তন - Rotation
৯৬.পরিক্রমণ - Revolution
৯৭.গোলকীয় জোতির্বিদ্যা - Spherical Astronomy
৯৮.গ্রহ বিজ্ঞান - Planetary Science
৯৯.জ্যোতির্জীববিজ্ঞান - Astrobiology
১০০.বহির্গ্রহ - Exoplanet (সৌরজগতের বাইরের গ্রহ)







শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ক ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর

অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ক ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও সংক্ষিপ্ত কিন্তু তথ্যসমৃদ্ধ উত্তর ধারাবাহিকভাবে দেওয়া হলো।


১. অটোমোবাইল কী?
যে যানবাহন নিজস্ব শক্তি দ্বারা চলে তাকে অটোমোবাইল বলে (কার, বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল)।
২. অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কী?
যানবাহনের ডিজাইন, নির্মাণ, অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত প্রকৌশল শাখা।
৩. I.C. Engine কী?
Internal Combustion Engine—যেখানে জ্বালানি সিলিন্ডারের ভিতরে পুড়ে শক্তি উৎপন্ন করে।
৪. E.C. Engine কী?
External Combustion Engine—যেখানে জ্বালানি বাইরে পুড়ে (যেমন বয়লার), বাষ্প দিয়ে কাজ করে।
৫. ২-স্ট্রোক ও ৪-স্ট্রোক ইঞ্জিনের পার্থক্য?
২-স্ট্রোকে এক ক্র্যাঙ্কশাফট রেভলিউশনে কাজ শেষ; ৪-স্ট্রোকে দুই রেভলিউশন লাগে। ৪-স্ট্রোক বেশি কার্যকর ও কম দূষণকারী।
৬. পেট্রোল ও ডিজেল ইঞ্জিনের প্রধান পার্থক্য?
পেট্রোলে স্পার্ক প্লাগ লাগে; ডিজেলে কম্প্রেশন দ্বারা জ্বালানি জ্বলে।
৭. কম্প্রেশন রেশিও কী?
সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ভলিউমের অনুপাত।
৮. বোর ও স্ট্রোক কী?
বোর = সিলিন্ডারের ব্যাস; স্ট্রোক = পিস্টনের উপরে-নিচে চলার দূরত্ব।
৯. ইঞ্জিন ডিসপ্লেসমেন্ট কী?
সব সিলিন্ডারের মোট কার্যকর ভলিউম।
১০. টর্ক কী?
ঘূর্ণনশক্তি; Nm এককে মাপা হয়।
১১. ব্রেক হর্সপাওয়ার (BHP) কী?
ক্র্যাঙ্কশাফট থেকে প্রাপ্ত প্রকৃত আউটপুট শক্তি।
১২. ইন্ডিকেটেড পাওয়ার কী?
সিলিন্ডারের ভিতরে উৎপন্ন তাত্ত্বিক শক্তি।
১৩. মেকানিক্যাল এফিসিয়েন্সি কী?
BHP / Indicated Power।
১৪. ফায়ারিং অর্ডার কী?
সিলিন্ডারগুলোর জ্বলার ক্রম।
১৫. নকিং কী?
অসামঞ্জস্যপূর্ণ জ্বালানি বিস্ফোরণে ধাতব শব্দ সৃষ্টি।
১৬. অকটেন নাম্বার কী?
পেট্রোলের নকিং প্রতিরোধ ক্ষমতা।
১৭. সেটেন নাম্বার কী?
ডিজেলের স্ব-জ্বালন ক্ষমতা নির্দেশক মান।
১৮. কার্বুরেটর কী কাজ করে?
বায়ু ও জ্বালানি মিশ্রণ তৈরি করে (পুরনো পেট্রোল ইঞ্জিনে)।
১৯. ফুয়েল ইনজেকশন সিস্টেম কী?
সঠিক সময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি ইনজেক্ট করে।
২০. ECU কী?
Engine Control Unit—ইঞ্জিনের ইলেকট্রনিক নিয়ন্ত্রণ ইউনিট।
২১. পিস্টনের কাজ কী?
দহনচাপ গ্রহণ করে ক্র্যাঙ্কশাফটে স্থানান্তর।
২২. ক্র্যাঙ্কশাফট কী?
রৈখিক গতি ঘূর্ণনে রূপান্তর করে।
২৩. ক্যামশাফটের কাজ?
ভালভ খোলা-বন্ধ নিয়ন্ত্রণ।
২৪. ভালভ টাইমিং কী?
ইনলেট-এক্সহস্ট ভালভ খোলা-বন্ধের সঠিক সময় নির্ধারণ।
২৫. লুব্রিকেশন সিস্টেমের কাজ?
ঘর্ষণ কমানো ও তাপ অপসারণ।
২৬. কুলিং সিস্টেম কেন দরকার?
অতিরিক্ত তাপ নিয়ন্ত্রণে।
২৭. রেডিয়েটরের কাজ?
কুল্যান্ট ঠান্ডা করা।
২৮. থার্মোস্ট্যাট কী?
ইঞ্জিনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
২৯. সাইলেন্সারের কাজ?
এক্সহস্ট শব্দ কমানো।
৩০. টার্বোচার্জার কী?
এক্সহস্ট গ্যাস দিয়ে বায়ু কম্প্রেস করে শক্তি বাড়ায়।
৩১. সুপারচার্জার কী?
ইঞ্জিন চালিত কম্প্রেসার।
৩২. ইন্টারকুলার কী?
কম্প্রেসড বায়ু ঠান্ডা করে।
৩৩. মাল্টি-পয়েন্ট ইনজেকশন কী?
প্রতিটি সিলিন্ডারে আলাদা ইনজেক্টর।
৩৪. ডাইরেক্ট ইনজেকশন কী?
সরাসরি সিলিন্ডারে জ্বালানি প্রবেশ।
৩৫. EGR কী?
Exhaust Gas Recirculation—দূষণ কমায়।
৩৬. ক্যাটালিটিক কনভার্টার কী?
ক্ষতিকর গ্যাস কম ক্ষতিকর গ্যাসে রূপান্তর করে।
৩৭. OBD কী?
On Board Diagnostics—ত্রুটি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা।
৩৮. ইঞ্জিন ওভারহিটের কারণ?
কুল্যান্ট লিক, ফ্যান নষ্ট, রেডিয়েটর ব্লক।
৩৯. ব্লো-বাই কী?
দহন গ্যাস পিস্টন রিং ফাঁক দিয়ে বের হওয়া।
৪০. কম্প্রেশন টেস্ট কেন করা হয়?
সিলিন্ডারের অবস্থা যাচাই।
৪১. ক্লাচের কাজ কী?
ইঞ্জিন ও গিয়ারবক্স সংযোগ/বিচ্ছিন্ন করা।
৪২. গিয়ারবক্স কী?
টর্ক ও গতি নিয়ন্ত্রণ করে।
৪৩. ম্যানুয়াল ও অটোমেটিক গিয়ারবক্স পার্থক্য?
ম্যানুয়াল চালক নিয়ন্ত্রিত; অটো নিজে গিয়ার বদলায়।
৪৪. CVT কী?
Continuously Variable Transmission—ধারাবাহিক গিয়ার অনুপাত।
৪৫. ডিফারেনশিয়াল কী?
দুই চাকার ভিন্ন গতিতে ঘোরা নিশ্চিত করে।
৪৬. প্রপেলার শ্যাফট কী?
গিয়ারবক্স থেকে ডিফারেনশিয়ালে শক্তি বহন।
৪৭. ফাইনাল ড্রাইভ কী?
শেষ গিয়ার রিডাকশন সিস্টেম।
৪৮. 4WD কী?
চার চাকা চালিত সিস্টেম।
৪৯. AWD কী?
All Wheel Drive—স্বয়ংক্রিয় টর্ক বণ্টন।
৫০. ট্রান্সমিশন লস কী?
শক্তি ক্ষয়।
৫১. সিঙ্ক্রোমেশ কী?
গিয়ার বদলের সময় গতি সমান করে।
৫২. টর্ক কনভার্টার কী?
অটোমেটিকে ক্লাচের বিকল্প।
৫৩. ফ্লাইহুইল কাজ?
ঘূর্ণন স্থিতিশীল রাখা।
৫৪. ড্রাইভ শ্যাফট ব্যালেন্স কেন জরুরি?
কম্পন রোধে।
৫৫. গিয়ার রেশিও কী?
ইনপুট ও আউটপুট গতি অনুপাত।
৫৬. ক্লাচ স্লিপ কেন হয়?
ডিস্ক ক্ষয় বা প্রেসার কম।
৫৭. U-Joint কী?
কোণ পরিবর্তন সত্ত্বেও শক্তি পরিবহন।
৫৮. এক্সেল কী?
চাকা সংযোগকারী শ্যাফট।
৫৯. ড্রাইভ ট্রেন কী?
ইঞ্জিন থেকে চাকা পর্যন্ত শক্তি সিস্টেম।
৬০. ট্রান্সফার কেস কী?
4WD-এ শক্তি বণ্টন করে।
৬১. সাসপেনশন সিস্টেমের কাজ?
ঝাঁকুনি কমানো।
৬২. স্প্রিং এর প্রকার?
কয়েল, লিফ, টর্শন বার।
৬৩. শক অ্যাবজর্বার কী?
স্প্রিং কম্পন নিয়ন্ত্রণ।
৬৪. ইন্ডিপেন্ডেন্ট সাসপেনশন কী?
চাকা আলাদাভাবে নড়ে।
৬৫. ম্যাকফারসন স্ট্রাট কী?
একটি জনপ্রিয় সামনের সাসপেনশন।
৬৬. ব্রেকের প্রকার?
ড্রাম ও ডিস্ক।
৬৭. হাইড্রোলিক ব্রেক কীভাবে কাজ করে?
প্যাসকেলের সূত্রে চাপ সঞ্চালন।
৬৮. ABS কী?
Anti-lock Braking System—চাকা লক রোধ।
৬৯. EBD কী?
Electronic Brakeforce Distribution।
৭০. পাওয়ার ব্রেক কী?
ভ্যাকুয়াম সহায়তায় ব্রেক।
৭১. স্টিয়ারিং সিস্টেমের কাজ?
দিক পরিবর্তন।
৭২. পাওয়ার স্টিয়ারিং কী?
হাইড্রোলিক/ইলেকট্রিক সহায়তা।
৭৩. র্যাক অ্যান্ড পিনিয়ন কী?
জনপ্রিয় স্টিয়ারিং মেকানিজম।
৭৪. টো-ইন/টো-আউট কী?
চাকার কোণ সেটিং।
৭৫. ক্যাম্বার কী?
চাকার উল্লম্ব কোণ।
৭৬. কাস্টার কী?
স্টিয়ারিং অক্ষের ঢাল।
৭৭. হুইল অ্যালাইনমেন্ট কেন জরুরি?
টায়ার ক্ষয় কমানো।
৭৮. হ্যান্ড ব্রেক কী?
পার্কিং ব্রেক।
৭৯. ব্রেক ফেড কী?
অতিরিক্ত তাপে ব্রেক ক্ষমতা কমা।
৮০. ট্র্যাকশন কন্ট্রোল কী?
চাকা স্লিপ রোধ।
🔹 ইলেকট্রিক ও আধুনিক প্রযুক্তি (৮১–১০০)
৮১. ব্যাটারির কাজ?
স্টার্ট ও বিদ্যুৎ সরবরাহ।
৮২. অল্টারনেটর কী?
ব্যাটারি চার্জ করে।
৮৩. স্টার্টার মোটর কী?
ইঞ্জিন চালু করে।
৮৪. CAN Bus কী?
Controller Area Network—ডেটা যোগাযোগ ব্যবস্থা।
৮৫. হাইব্রিড যান কী?
ইঞ্জিন + ইলেকট্রিক মোটর।
৮৬. EV কী?
Electric Vehicle—শুধু ব্যাটারি চালিত।
৮৭. BMS কী?
Battery Management System।
৮৮. রিজেনারেটিভ ব্রেকিং কী?
ব্রেকিং এ শক্তি পুনরুদ্ধার।
৮৯. ADAS কী?
Advanced Driver Assistance System।
৯০. ক্রুজ কন্ট্রোল কী?
নির্দিষ্ট গতি ধরে রাখা।
৯১. লেন কিপিং অ্যাসিস্ট কী?
গাড়ি লেনে রাখে।
৯২. এয়ারব্যাগ কী?
দুর্ঘটনায় সুরক্ষা বালিশ।
৯৩. ক্রাম্পল জোন কী?
সংঘর্ষে শক্তি শোষণ এলাকা।
৯৪. চেসিস কী?
গাড়ির কাঠামো।
৯৫. মনোকক বডি কী?
একীভূত কাঠামো।
৯৬. OBD-II কী?
উন্নত ডায়াগনস্টিক স্ট্যান্ডার্ড।
৯৭. ইমিশন স্ট্যান্ডার্ড কী?
দূষণ নিয়ন্ত্রণ মানদণ্ড।
৯৮. BS-VI কী?
ভারতের আধুনিক নির্গমন মান।
৯৯. ISO 26262 কী?
অটোমোটিভ ফাংশনাল সেফটি স্ট্যান্ডার্ড।
১০০. স্মার্ট কার কী?
ইন্টারনেট ও সেন্সরযুক্ত আধুনিক গাড়ি।







Car

মোবাইল বা সেলফোন কমিউনিকেশন (Mobile Communication) বিষয়ে ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর

মোবাইল বা সেলফোন কমিউনিকেশন (Mobile Communication) বিষয়ে ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর নিচে ধারাবাহিকভাবে দেওয়া হলো —


১. মোবাইল কমিউনিকেশন কী?
মোবাইল কমিউনিকেশন হলো তারবিহীন (Wireless) যোগাযোগ পদ্ধতি যেখানে রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে তথ্য (ভয়েস, ডাটা, ভিডিও) এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রেরণ করা হয়। এটি সেলুলার নেটওয়ার্কের উপর ভিত্তি করে কাজ করে।


২. সেলুলার নেটওয়ার্ক কী?
একটি বড় ভৌগোলিক এলাকাকে ছোট ছোট সেলে ভাগ করে প্রতিটি সেলে একটি বেস স্টেশন বসিয়ে যে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয় তাকে সেলুলার নেটওয়ার্ক বলে।


৩. প্রথম প্রজন্ম (1G) কী ছিল?
1G ছিল অ্যানালগ মোবাইল প্রযুক্তি। শুধুমাত্র ভয়েস কল করা যেত। নিরাপত্তা কম ছিল।


৪. 2G প্রযুক্তি কী?
2G ডিজিটাল প্রযুক্তি। এতে ভয়েস কল, SMS ও সীমিত ডাটা সেবা ছিল।
উদাহরণ: GSM


৫. 3G প্রযুক্তির বৈশিষ্ট্য কী?
3G উচ্চগতির ডাটা ট্রান্সমিশন, ভিডিও কল ও মোবাইল ইন্টারনেট সাপোর্ট করে।
উদাহরণ: UMTS


৬. 4G কী?
4G হলো উচ্চগতির ইন্টারনেট প্রযুক্তি, HD ভিডিও স্ট্রিমিং ও VoLTE সাপোর্ট করে।
উদাহরণ: LTE


৭. 5G প্রযুক্তি কী?
5G অতি উচ্চগতির ডাটা, কম ল্যাটেন্সি ও IoT সাপোর্ট করে।
উদাহরণ: 5G


৮. BTS কী?
BTS (Base Transceiver Station) হলো মোবাইল টাওয়ার যা মোবাইল ডিভাইসের সাথে রেডিও সিগন্যাল আদান-প্রদান করে।


৯. SIM কার্ড কী কাজ করে?
SIM ব্যবহারকারীর পরিচয় সংরক্ষণ করে এবং নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হতে সাহায্য করে।


১০. IMEI নম্বর কী?
IMEI হলো মোবাইল ডিভাইসের ইউনিক পরিচয় নম্বর।


১১. ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড কী?
মোবাইল যোগাযোগের জন্য নির্দিষ্ট রেডিও তরঙ্গের পরিসরকে ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড বলে।


১২. ব্যান্ডউইথ কী?
এক নির্দিষ্ট সময়ে কত ডাটা ট্রান্সমিট করা যায় তার পরিমাণ।


১৩. মডুলেশন কী?
তথ্যকে রেডিও সিগন্যালের সাথে যুক্ত করার প্রক্রিয়া।


১৪. FDMA কী?
FDMA-তে আলাদা ফ্রিকোয়েন্সি চ্যানেল ব্যবহার করা হয়।


১৫. TDMA কী?
TDMA-তে সময় ভাগ করে ব্যবহারকারীদের ডাটা পাঠানো হয়।


১৬. CDMA কী?
CDMA-তে একই ফ্রিকোয়েন্সিতে আলাদা কোড ব্যবহার করে একাধিক ব্যবহারকারী যোগাযোগ করে।


১৭. হ্যান্ডওভার কী?
এক সেল থেকে অন্য সেলে যাওয়ার সময় কল বিচ্ছিন্ন না হয়ে ট্রান্সফার হওয়া।


১৮. রোমিং কী?
নিজ নেটওয়ার্কের বাইরে অন্য অঞ্চলে গিয়ে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা।


১৯. VoLTE কী?
Voice over LTE – 4G নেটওয়ার্কে উচ্চ মানের ভয়েস কল।


২০. সেল স্প্লিটিং কী?
ব্যবহারকারী বেশি হলে একটি সেলকে ছোট সেলে ভাগ করা।


২১. IoT কী?
Internet of Things — ইন্টারনেট সংযুক্ত স্মার্ট ডিভাইস ব্যবস্থা।


২২. স্পেকট্রাম কী?
রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির সম্পূর্ণ পরিসরকে স্পেকট্রাম বলে।


২৩. ল্যাটেন্সি কী?
ডাটা প্রেরণে বিলম্বের সময়।


২৪. নেটওয়ার্ক টপোলজি কী?
নেটওয়ার্কের কাঠামো বা বিন্যাস।


২৫. APN কী?
Access Point Name – মোবাইল ইন্টারনেট কনফিগারেশন।


২৬. IMS কী?
IP Multimedia Subsystem — IP ভিত্তিক সেবা প্ল্যাটফর্ম।


২৭. HLR কী?
Home Location Register — গ্রাহকের তথ্য সংরক্ষণ ডাটাবেস।


২৮. VLR কী?
Visitor Location Register — সাময়িক ব্যবহারকারীর তথ্য সংরক্ষণ করে।


২৯. MSC কী?
Mobile Switching Center — কল রাউটিং ও নিয়ন্ত্রণ করে।


৩০. OSS কী?
Operation Support System — নেটওয়ার্ক মনিটরিং সিস্টেম।


৩১. এনক্রিপশন কী?
ডাটাকে গোপন কোডে রূপান্তর করা।


৩২. Wi-Fi ও মোবাইল নেটওয়ার্কের পার্থক্য কী?
Wi-Fi লোকাল নেটওয়ার্ক, মোবাইল নেটওয়ার্ক বৃহৎ কভারেজ দেয়।


৩৩. SAR মান কী?
Specific Absorption Rate — মোবাইলের রেডিয়েশন পরিমাপ।


৩৪. স্মার্টফোন কী?
কম্পিউটারসদৃশ ক্ষমতাসম্পন্ন মোবাইল ফোন।


৩৫. অপারেটিং সিস্টেম কী?
মোবাইল পরিচালনার সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম।
উদাহরণ: Android


৩৬. eSIM কী?
Embedded SIM — বিল্ট-ইন ডিজিটাল সিম।


৩৭. NFC কী?
Near Field Communication — কাছাকাছি ডিভাইসের মধ্যে ডাটা আদান-প্রদান।


৩৮. Bluetooth কী?
স্বল্প দূরত্বে ওয়্যারলেস সংযোগ প্রযুক্তি। 


৩৯. GPS কী?
Global Positioning System — অবস্থান নির্ণয় ব্যবস্থা।


৪০. OTA আপডেট কী?
Over The Air — ইন্টারনেটের মাধ্যমে সফটওয়্যার আপডেট।


৪১. ক্যারিয়ার অ্যাগ্রিগেশন কী?
একাধিক ব্যান্ড একত্র করে গতি বাড়ানো।


৪২. MIMO কী?
Multiple Input Multiple Output — একাধিক অ্যান্টেনা ব্যবহার।


৪৩. Small Cell কী?
ছোট আকারের বেস স্টেশন যা ঘন এলাকায় ব্যবহৃত হয়।


৪৪. Macro Cell কী?
বড় কভারেজ এলাকা সম্পন্ন সেল।


৪৫. Beamforming কী?
নির্দিষ্ট দিকে সিগন্যাল ফোকাস করা।


৪৬. Millimeter Wave কী?
উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির তরঙ্গ (5G-তে ব্যবহৃত)।


৪৭. Packet Switching কী?
ডাটাকে ছোট প্যাকেটে ভাগ করে পাঠানো।


৪৮. Circuit Switching কী?
নির্দিষ্ট চ্যানেল বরাদ্দ করে যোগাযোগ।


৪৯. Cloud Communication কী?
ক্লাউড ভিত্তিক যোগাযোগ সেবা।


৫০. ভবিষ্যতের 6G কী হতে পারে?
6G অত্যন্ত দ্রুত (Tbps), AI সমন্বিত ও হোলোগ্রাফিক যোগাযোগ সমর্থন করতে পারে (গবেষণাধীন)।


mpintu




অর্থনীতি বিষয়ক ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও সংক্ষিপ্ত উত্তর u

অর্থনীতি বিষয়ক ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং সেগুলোর বিস্তারিত উত্তর নিচে দেওয়া হলো 

১. প্রশ্ন : অর্থনীতি (Economics) কাকে বলে?

উত্তর : অর্থনীতি হলো সমাজবিজ্ঞানের একটি শাখা, যা সীমিত সম্পদের দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের অসীম অভাব পূরণের উপায় নিয়ে আলোচনা করে। বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথের মতে, এটি "সম্পদের বিজ্ঞান"। অন্যদিকে আলফ্রেড মার্শালের মতে, অর্থনীতি হলো মানুষের দৈনন্দিন সাধারণ জীবনের কার্যাবলীর আলোচনা।

২. প্রশ্ন : ব্যষ্টিগত অর্থনীতি (Microeconomics) এবং সমষ্টিগত অর্থনীতি (Macroeconomics)-র মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর : ব্যষ্টিগত অর্থনীতিতে ব্যক্তিগত পর্যায়, যেমন—একজন ভোক্তা, একটি প্রতিষ্ঠান বা একটি নির্দিষ্ট পণ্যের বাজার ও দাম নিয়ে পৃথকভাবে আলোচনা করা হয়। অপরদিকে, সমষ্টিগত অর্থনীতিতে পুরো দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যেমন—জাতীয় আয়, মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব ও মোট উৎপাদন নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করা হয়।

৩. প্রশ্ন : সুযোগ ব্যয় (Opportunity Cost) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : সীমিত সম্পদের কারণে একটি বিকল্প চয়ন করতে গিয়ে অন্য সেরা বিকল্পটি ত্যাগ করতে হয়। যে সুযোগটি ত্যাগ করা হলো, তার আর্থিক বা ব্যবহারিক মূল্যকেই প্রথম বিকল্পের 'সুযোগ ব্যয়' বলা হয়। যেমন—একখণ্ড জমিতে ধান না চাষ করে গম চাষ করলে, হারিয়ে যাওয়া ধানের উৎপাদনই হলো গমের সুযোগ ব্যয়।

৪. প্রশ্ন : চাহিদার বিধি (Law of Demand) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : অন্যান্য বিষয় (যেমন—ক্রেতার আয়, পছন্দ ইত্যাদি) অপরিবর্তিত থাকলে, কোনো পণ্যের দাম বাড়লে তার চাহিদার পরিমাণ কমে এবং দাম কমলে চাহিদার পরিমাণ বাড়ে। পণ্যের দাম ও চাহিদার পরিমাণের এই বিপরীতমুখী সম্পর্ককেই চাহিদার বিধি বলা হয়।

৫. প্রশ্ন : যোগানের বিধি (Law of Supply) কী?

উত্তর : অন্যান্য পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে, কোনো দ্রব্যের দাম বাড়লে বিক্রেতা বা উৎপাদকের যোগানের পরিমাণ বাড়ায় এবং দাম কমলে যোগানের পরিমাণ কমায়। দাম ও যোগানের মধ্যে এই সমমুখী সম্পর্ককে যোগানের বিধি বলা হয়।

৬. প্রশ্ন : বাজার ভারসাম্য (Market Equilibrium) কীভাবে নির্ধারিত হয়?

উত্তর : বাজারে যখন কোনো নির্দিষ্ট দামে কোনো দ্রব্যের মোট চাহিদার পরিমাণ এবং মোট যোগানের পরিমাণ পরস্পর সমান হয়, তখন বাজার ভারসাম্য অর্জিত হয়। উক্ত দামকে 'ভারসাম্য দাম' এবং পরিমাণকে 'ভারসাম্য পরিমাণ' বলা হয়।

৭. প্রশ্ন : চাহিদার স্থীতিস্থাপকতা (Price Elasticity of Demand) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : দ্রব্যের দামের শতকরা পরিবর্তনের ফলে চাহিদার পরিমাণের যে শতকরা পরিবর্তন ঘটে, তার অনুপাতকে চাহিদার স্থীতিস্থাপকতা বলে। এর মাধ্যমে বোঝা যায় কোনো দ্রব্যের দাম সামান্য পরিবর্তন হলে ক্রেতা তার চাহিদা কতটা বাড়াবে বা কমাবে।

৮. প্রশ্ন : জিডিপি (GDP - Gross Domestic Product) বা মোট দেশজ উৎপাদন কী?

উত্তর : একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) কোনো দেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে উৎপাদিত সমস্ত চূড়ান্ত পণ্য ও সেবার মোট বাজারমূল্যকে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি (GDP) বলা হয়। এতে বিদেশি নাগরিকদের দেশে অর্জিত আয় অন্তর্ভুক্ত থাকে, তবে প্রবাসী নাগরিকদের বিদেশে অর্জিত আয় অন্তর্ভুক্ত হয় না।

৯. প্রশ্ন : জিএনপি (GNP - Gross National Product) বা মোট জাতীয় উৎপাদন কী?

উত্তর : একটি নির্দিষ্ট বছরে কোনো দেশের নাগরিকদের দ্বারা দেশ বা বিদেশের যেকোনো স্থানে উৎপাদিত মোট চূড়ান্ত পণ্য ও সেবার মূল্যকে মোট জাতীয় উৎপাদন বা জিএনপি বলে। এতে প্রবাসীদের আয় যুক্ত হয়, কিন্তু দেশের ভেতরে থাকা বিদেশিদের আয় বাদ যায়।

১০. প্রশ্ন : এনডিপি (NDP - Net Domestic Product) কী?

উত্তর : জিডিপি (GDP) থেকে মূলধনী সামগ্রীর ক্ষয়ক্ষতিজনিত ব্যয় বা অবচয় খরচ (Depreciation/Capital Consumption Allowance) বাদ দিলে যা অবশিষ্ট থাকে, তাকে নিট দেশজ উৎপাদন বা এনডিপি (NDP) বলে। সূত্র: NDP = GDP - Depreciation।

১১. প্রশ্ন : মাথা পিছু আয় (Per Capita Income) কীভাবে হিসাব করা হয়?

উত্তর : কোনো দেশের মোট জাতীয় আয়কে (বা জিডিপিকে) সেই দেশের মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে যে গড় আয় পাওয়া যায়, তাকে মাথাপিছু আয় বলে। মাথাপিছু আয় বাড়লে সাধারণভাবে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।

১২. প্রশ্ন : মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : যখন বাজারে পণ্য ও সেবার সার্বিক দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পায় এবং অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়, তখন সেই অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে মুদ্রাস্ফীতি বলা হয়। এতে কম দ্রব্য কিনতে বেশি টাকা খরচ করতে হয়।

১৩. প্রশ্ন : মুদ্রাসঙ্কোচন (Deflation) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : যখন বাজারে পণ্য ও সেবার সার্বিক মূল্যস্তর ক্রমাগত হ্রাস পায় এবং অর্থের ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে যায়, তখন তাকে মুদ্রাসঙ্কোচন বলা হয়। এটি ব্যবসায়িক মন্দা ও বেকারত্ব বাড়াতে পারে।

১৪. প্রশ্ন : স্ট্যাগফ্লেশন (Stagflation) কী?

উত্তর : যখন কোনো অর্থনীতিতে একদিকে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি থাকে এবং অন্যদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থবির হয়ে বেকারত্ব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়, তখন সেই চরম অস্বাভাবিক পরিস্থিতিকে স্ট্যাগফ্লেশন বলে।

১৫. প্রশ্ন : চাহিদা-বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি (Demand-Pull Inflation) কী?

উত্তর : যখন বাজারে মোট যোগানের তুলনায় মোট চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পায় (অর্থাৎ "অধিক অর্থ কম পণ্যকে তাড়া করে"), তখন পণ্যের দাম বেড়ে যে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয়, তাকে চাহিদা-বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি বলে।

১৬. প্রশ্ন : উৎপাদন খরচ-বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি (Cost-Push Inflation) কী?

উত্তর : কাঁচামাল, শ্রমিকের মজুরি বা জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলে উৎপাদকরা পণ্যের মূল বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে যে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে, তাকে খরচ-বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি বলা হয়।

১৭. প্রশ্ন : অর্থ বা মুদ্রা (Money)-র প্রধান কাজগুলো কী কী?

উত্তর : অর্থের প্রধান চারটিকাজ হলো—বিনিময়ের মাধ্যম (Medium of Exchange), মূল্য পরিমাপক (Measure of Value), সঞ্চয়ের বাহন (Store of Value) এবং স্থগিত দেনা-পাওনা পরিশোধের মানদণ্ড (Standard of Deferred Payment)।

১৮. প্রশ্ন : কেন্দ্রীয় ব্যাংক (Central Bank) কী এবং এর প্রধান কাজ কী?

উত্তর : কেন্দ্রীয় ব্যাংক হলো দেশের সর্বোচ্চ অর্থ ও ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান, যা পুরো দেশের মুদ্রা ব্যবস্থা ও ব্যাংক খাতকে নিয়ন্ত্রণ করে। এর প্রধান কাজ নোট ইস্যু করা, মুদ্রানীতি প্রণয়ন, বাণিজ্যিক ব্যাংকের শেষ আশ্রয়েরস্থল হিসেবে কাজ করা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষণাবেক্ষণ।

১৯. প্রশ্ন : বাণিজ্যিক ব্যাংক (Commercial Bank) কী?

উত্তর : বাণিজ্যিক ব্যাংক হলো মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যা জনগণের কাছ থেকে আমানত গ্রহণ করে, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী ঋণ প্রদান করে এবং বিভিন্ন আর্থিক সেবা দেয়।

২০. প্রশ্ন : সিআরআর (CRR - Cash Reserve Ratio) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের মোট আমানতের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ নগদ অর্থ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বাধ্যতামূলকভাবে জমা রাখতে হয়। এই নির্দিষ্ট অনুপাতকে ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও বা সিআরআর বলা হয়।

২১. প্রশ্ন : এসএলআর (SLR - Statutory Liquidity Ratio) কী?

উত্তর : বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ নগদ টাকা, সোনা বা অনুমোদিত সরকারি সিকিউরিটিজ আকারে নিজেদের কাছে বা নির্দিষ্ট তহবিলে রাখা বাধ্যতামূলক। একে এসএলআর বলে।

২২. প্রশ্ন : রেপো রেট (Repo Rate) কী?

উত্তর : কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে সুদের হারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে স্বল্পমেয়াদী ঋণ প্রদান করে, তাকে রেপো রেট (Repo Rate) বলা হয়। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো অর্থের টানাটানিতে পড়লে এই সুবিধা নেয়।

২৩. প্রশ্ন : রিভার্স রেপো রেট (Reverse Repo Rate) কী?

উত্তর : বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের উদ্বৃত্ত অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের যে হারে সুদ প্রদান করে, তাকে রিভার্স রেপো রেট বলে। বাজারে অর্থের তারল্য কমানোর জন্য এটি ব্যবহার করা হয়।

২৪. প্রশ্ন : মুদ্রানীতি (Monetary Policy) কী?

উত্তর : কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের অর্থনীতিতে অর্থের সরবরাহ (Money Supply), সুদের হার এবং ঋণের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য যে নীতি প্রণয়ন করে, তাকে মুদ্রানীতি বলে।

২৫. প্রশ্ন : রাজস্ব নীতি (Fiscal Policy) কী?

উত্তর : সরকার তার আয় (কর ও অ-কর রাজস্ব) এবং ব্যয় সংক্রান্ত যে নীতিমালা প্রণয়ন করে দেশের মোট চাহিদা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে, তাকে রাজস্ব নীতি বা ফিসকাল পলিসি বলে।

২৬. প্রশ্ন : প্রত্যক্ষ কর (Direct Tax) কাকে বলে?

উত্তর : যে করের প্রাথমিক চাপ এবং শেষ আইনি দায়ভার (Tax Burden) একই ব্যক্তির ওপর পড়ে এবং যা অন্য কারো ওপর স্থানান্তরিত করা যায় না, তাকে প্রত্যক্ষ কর বলে। যেমন—আয়কর (Income Tax) এবং কর্পোরেট কর।

২৭. প্রশ্ন : পরোক্ষ কর (Indirect Tax) কাকে বলে?

উত্তর : যে করের দায়ভার আইনিভাবে একজনের ওপর আরোপিত হলেও সে তা পণ্যের দামের মাধ্যমে অন্য কারো (সাধারণত ভোক্তাদের) ওপর চাপিয়ে দিতে পারে, তাকে পরোক্ষ কর বলে। যেমন—মূল্যসংযোজন কর (ভ্যাট) ও আবগারি শুল্ক।

২৮. প্রশ্ন : মূল্যসংযোজন কর (VAT - Value Added Tax) কী?

উত্তর : একটি পণ্যের উৎপাদন বা বন্টনের প্রতিটি স্তরে যে পরিমাণ মূল্য যুক্ত হয় (Value Addition), কেবল সেই নতুন যুক্ত মূল্যের ওপর যে কর ধার্য করা হয়, তাকে মূল্যসংযোজন কর বা ভ্যাট বলে।

২৯. প্রশ্ন : প্রগতিশীল কর (Progressive Tax) কী?

উত্তর : যে কর ব্যবস্থায় করদাতার আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে করের হারও (Tax Rate) বৃদ্ধি পায়, তাকে প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা বলে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার বৈষম্য কমানো।

৩০. প্রশ্ন : অধোগামী বা অপোঘাতী কর (Regressive Tax) কী?

উত্তর : আয় বাড়ার সাথে সাথে যে করের কার্যকর হার কমতে থাকে, তাকে অপোঘাতী কর বলে। পরোক্ষ কর (যেমন—ভ্যাট) মূলত অপোঘাতী, কারণ ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাইকে সমপরিমাণ কর দিতে হয়, যা দরিদ্রের ওপর বেশি চাপ সৃষ্টি করে।

৩১. প্রশ্ন : ঘাটতি বাজেট (Deficit Budget) কী?

উত্তর : কোনো অর্থবছরে সরকারের প্রত্যাশিত আয় বা রাজস্ব অপেক্ষা প্রত্যাশিত ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হলে সেই বাজেটকে ঘাটতি বাজেট বলা হয়। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করতে ঘাটতি বাজেট করা হয়।

৩২. প্রশ্ন : উদ্বৃত্ত বাজেট (Surplus Budget) কী?

উত্তর : কোনো অর্থবছরে সরকারের অনুমিত মোট রাজস্ব আয়ের পরিমাণ অনুমিত মোট ব্যয়ের চেয়ে বেশি হলে তাকে উদ্বৃত্ত বাজেট বলে। প্রচণ্ড মুদ্রাস্ফীতি কমানোর জন্য এই বাজেট উপযোগী।

৩৩. প্রশ্ন : সুষম বাজেট (Balanced Budget) কী?

উত্তর : যে বাজেটে সরকারের আনুমানিক আয়ের পরিমাণ এবং আনুমানিক ব্যয়ের পরিমাণ সমান থাকে, তাকে সুষম বাজেট বলা হয়।

৩৪. প্রশ্ন : এডিপি (ADP - Annual Development Program) কী?

উত্তর : বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP) হলো একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরে দেশের অবকাঠামোগত ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য সরকার কর্তৃক গৃহীত প্রকল্পসমূহের তালিকা ও আর্থিক বরাদ্দের বিবরণী।

৩৫. প্রশ্ন : বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ (Foreign Exchange Reserves) কী?

উত্তর : কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সংরক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) বিশেষ সম্পদ (SDR), যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য লেনদেন ও ঋণের দায় মেটাতে ব্যবহৃত হয়, তাকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বলে।

৩৬. প্রশ্ন : রেমিট্যান্স (Remittance) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : বিদেশে বসবাসকারী বা কর্মরত প্রবাসীরা নিজ দেশে পরিবার বা ব্যাংকের মাধ্যমে যে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠান, তাকে রেমিট্যান্স বলে। এটি উন্নয়নশীল দেশের জাতীয় আয় ও রিজার্ভের বড় উৎস।

৩৭. প্রশ্ন : বাণিজ্য ঘাটতি (Trade Deficit) কী?

উত্তর : কোনো দেশের একটি নির্দিষ্ট সময়ে মোট দৃশ্যমান পণ্যের আমদানি ব্যয় যদি মোট রপ্তানি আয়ের চেয়ে বেশি হয়, তবে সেই ঋণাত্মক ব্যবধানকে বাণিজ্য ঘাটতি বা ট্রেড ডেফিসিট বলে।

৩৮. প্রশ্ন : লেনদেন ভারসাম্য (Balance of Payments - BOP) কী?

উত্তর : একটি নির্দিষ্ট বছরে কোনো দেশের অধিবাসীদের সাথে পৃথিবীর অপরাপর দেশের সকল প্রকার দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান অর্থনৈতিক লেনদেনের হিসাবের বিবরণীকে লেনদেন ভারসাম্য (BOP) বলে।

৩৯. প্রশ্ন : বিনিময় হার (Exchange Rate) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : দেশীয় মুদ্রার সাপেক্ষে কোনো বিদেশি মুদ্রার যে মূল্য নির্ধারিত হয়, তাকে বৈদেশিক বিনিময় হার বলে। যেমন: ১ মার্কিন ডলার = ১২০ টাকা।

৪০. প্রশ্ন : ভাসমান বিনিময় হার (Floating Exchange Rate) কী?

উত্তর : যখন কোনো দেশীয় মুদ্রার বৈদেশিক বিনিময় হার আন্তর্জাতিক বাজারে কেবল মুদ্রাটির চাহিদা ও যোগানের ওপর ভিত্তি করে নিজে নিজেই নির্ধারিত হয় (কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া), তাকে ভাসমান বা মুক্ত বিনিময় হার বলে।

৪১. প্রশ্ন : অবমূল্যায়ন (Devaluation) কী?

উত্তর : স্থায়ী বা নির্দিষ্ট বিনিময় হার ব্যবস্থায় সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে বৈদেশিক মুদ্রার সাপেক্ষে দেশীয় মুদ্রার মান কমিয়ে দেওয়াকে মুদ্রার অবমূল্যায়ন বলে। এর ফলে রপ্তানি উৎসাহিত হয় এবং আমদানি নিরুৎসাহিত হয়।

৪২. প্রশ্ন : প্রসাধনমূল্যায়ন বা পুনঃমূল্যায়ন (Revaluation) কী?

উত্তর : কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে যখন বিদেশি মুদ্রার সাপেক্ষে নিজের মুদ্রার মান বাড়িয়ে দেয়, তখন তাকে মুদ্রার পুনঃমূল্যায়ন বা রেভ্যালুয়েশন বলা হয়।

৪৩. প্রশ্ন : মানব উন্নয়ন সূচক (HDI - Human Development Index) কী?

উত্তর : জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) কর্তৃক প্রকাশিত এমন একটি সূচক, যা কেবল জিডিপি নয়—বরং মানুষের গড় আয়ু, শিক্ষার হার ও জীবনযাত্রার মানের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের দেশগুলোর সামগ্রিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল্যায়ন করে।

৪৪. প্রশ্ন : মানব মূলধন (Human Capital) কী?

উত্তর : প্রশিক্ষণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে একজন মানুষের যে জ্ঞান, কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়, তাকে অর্থনীতিতে 'মানব মূলধন' বলা হয়।

৪৫. প্রশ্ন : পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজার (Perfect Competition) কী?

উত্তর : যে বাজারে অসংখ্য ক্রেতা ও বিক্রেতা থাকে, সমজাতীয় (homogeneous) পণ্য কেনাবেচা হয় এবং কোনো একক ক্রেতা বা বিক্রেতা বাজার দরকে প্রভাবিত করতে পারে না, তাকে পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজার বলে।

৪৬. প্রশ্ন : একচেটিয়া বাজার (Monopoly Market) কাকে বলে?

উত্তর : যে বাজারে একটি পণ্যের কেবল একজনই বিক্রেতা বা উৎপাদক থাকে এবং বাজারে ওই পণ্যের কোনো নিকট বিকল্প দ্রব্য থাকে না, তাকে একচেটিয়া বাজার বলে। এতে বিক্রেতার দামের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে।

৪৭. প্রশ্ন : অলিগোপলি বাজার (Oligopoly Market) কী?

উত্তর : যে বাজারে কোনো নির্দিষ্ট পণ্যের কেবল অল্প কয়েকজন বড় বিক্রেতা বা সরবরাহকারী থাকে এবং তাদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা বজায় থাকে, তাকে অলিগোপলি বাজার বলে। যেমন—টেলিকম খাত।

৪৮. প্রশ্ন : মনোপসনি বাজার (Monopsony Market) কী?

উত্তর : যে বাজারে কোনো পণ্য বা সেবার অসংখ্য বিক্রেতা বা সরবরাহকারী থাকা সত্ত্বেও কেবল 'একজনই ক্রেতা' থাকে, তাকে মনোপসনি বাজার বলা হয়। যেমন—সরকার এককভাবে কোনো অস্ত্র বা নির্দিষ্ট সামরিক সামগ্রী ক্রয় করলে।

৪৯. প্রশ্ন : প্রান্তিক উপযোগ (Marginal Utility) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : কোনো দ্রব্যের অতিরিক্ত এক একক ভোগের ফলে ভোক্তা যে অতিরিক্ত উপযোগ বা তৃপ্তি লাভ করে, তাকে প্রান্তিক উপযোগ বলে।

৫০. প্রশ্ন : ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধি (Law of Diminishing Marginal Utility) কী?

উত্তর : অন্যান্য বিষয় অপরিবর্তিত থাকলে, কোনো ভোক্তা একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দ্রব্য যত বেশি ভোগ করতে থাকে, ওই দ্রব্যের অতিরিক্ত এককগুলো থেকে প্রাপ্ত প্রান্তিক উপযোগ তত কমতে থাকে। এটিকে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধি বলে।

৫১. প্রশ্ন : গিন্নি সহগ (Gini Coefficient) কী কাজে ব্যবহৃত হয়?

উত্তর : গিন্নি সহগ হলো একটি পরিসংখ্যানগত পরিমাপ, যা কোনো সমাজের আয় বৈষম্য বা সম্পদ বন্টনের অসমতা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়। এর মান ০ (সম্পূর্ণ সমতা) থেকে ১ (সম্পূর্ণ বৈষম্য)-এর মধ্যে থাকে।

৫২. প্রশ্ন : পভার্টি গ্যাপ (Poverty Gap) বা দারিদ্র্যের ব্যবধান কী?

উত্তর : চরম দরিদ্র জনগোষ্ঠী আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমা (যেমন দৈনিক ২.১৫ ডলার) থেকে কতটা নিচে বাস করছে, সেই গড়ের ব্যবধানকে দারিদ্র্যের ব্যবধান বা পভার্টি গ্যাপ বলা হয়।

৫৩. প্রশ্ন : টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG - Sustainable Development Goals) কী?

উত্তর : জাতিসংঘ ঘোষিত ১৭টি বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রার একটি সেট, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে দারিদ্র্য দূরীকরণ, সমতা প্রতিষ্ঠা ও ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের সকল মানুষের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে।

৫৪. প্রশ্ন : মুক্ত বাজার অর্থনীতি (Free Market Economy) কী?

উত্তর : যে অর্থব্যবস্থায় সরকারের কোনো সরাসরি হস্তক্ষেপ থাকে না এবং চাহিদা ও যোগানের স্বাভাবিক মিথস্ক্রিয়া বা মূল্য প্রক্রিয়ার (Price Mechanism) মাধ্যমে পণ্যের উৎপাদন, বণ্টন ও দাম নির্ধারিত হয়, তাকে মুক্ত বাজার অর্থনীতি বলে।

৫৫. প্রশ্ন : নির্দেশমূলক বা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা (Command Economy) কী?

উত্তর : যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় উৎপাদনের সমস্ত উপায়ের মালিক সরকার বা রাষ্ট্র এবং অর্থনীতি সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত (কী উৎপাদিত হবে, কীভাবে ও কার জন্য) কেন্দ্রীয়ভাবে সরকার গ্রহণ করে, তাকে নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থা বলে।

৫৬. প্রশ্ন : মিশ্র অর্থব্যবস্থা (Mixed Economy) কী?

উত্তর : যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা বা ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং সরকারি উদ্যোগ পাশাপাশি অবস্থান করে এবং বাজার ব্যবস্থার সাথে সরকারের নিয়ন্ত্রণ বিদ্যমান থাকে, তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে। বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে বেশিরভাগ দেশই মিশ্র অর্থনীতি মেনে চলে।

৫৭. প্রশ্ন : ইসলামি অর্থব্যবস্থা (Islamic Economic System) কী?

উত্তর : যে অর্থব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক পরিচালিত হয়—যেখানে সুদের (রিবা) আদান-প্রদান নিষিদ্ধ, জাকাত ব্যবস্থা চালু থাকে এবং হালাল উপায়ে ব্যবসা-বাণিজ্য ও লাভ-ক্ষতির অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অর্থ পরিচালিত হয়।

৫৮. প্রশ্ন : অদৃশ্য হাত (Invisible Hand) ধারণাটি কার এবং এর অর্থ কী?

উত্তর : ধারণাটি আধুনিক অর্থনীতির জনক অ্যাডাম স্মিথের। এর অর্থ হলো মুক্ত বাজারে ব্যক্তিস্বার্থের তাগিদে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো অলক্ষ্যে এক 'অদৃশ্য শক্তির' মতো পুরো সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

৫৯. প্রশ্ন : উৎপাদনের উপাদান (Factors of Production) কয়টি ও কী কী?

উত্তর : অর্থনীতিতে উৎপাদনের উপাদান ৪টি। যথা:

১. ভূমি (Land) - যার প্রতিদান খাজনা

২. শ্রম (Labor) - যার প্রতিদান মজুরি

৩. মূলধন (Capital) - যার প্রতিদান সুদ

৪. সংগঠন (Organization) - যার প্রতিদান মুনাফা।

৬০. প্রশ্ন : প্রান্তিক উৎপাদনশীলতা (Marginal Productivity) কী?

উত্তর : উৎপাদনের অন্যান্য উপাদান স্থির রেখে নির্দিষ্ট একটি উপাদান (যেমন শ্রম) অতিরিক্ত এক একক বৃদ্ধি করলে মোট উৎপাদনে যে অতিরিক্ত বৃদ্ধি ঘটে, তাকে ওই উপাদানের প্রান্তিক উৎপাদনশীলতা বলে।

৬১. প্রশ্ন : ফিলিপস কার্ভ (Phillips Curve) কী নির্দেশ করে?

উত্তর : ফিলিপস কার্ভ হলো এমন একটি অর্থনৈতিক রেখা, যা অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির হার এবং বেকারত্বের হারের মধ্যে একটি বিপরীতমুখী (Inverse) সম্পর্ক প্রদর্শন করে।

৬২. প্রশ্ন : কেইনসীয় অর্থনীতি (Keynesian Economics) কী?

উত্তর : অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কেইনসের প্রবর্তিত তত্ত্ব, যা বলে—মন্দাবস্থায় বাজার নিজে নিজে পুনরুদ্ধার হতে পারে না। ফলে মন্দা ও বেকারত্ব কাটাতে সরকারি ব্যয় বাড়ানো এবং সক্রিয় রাজস্ব নীতির প্রয়োগ আবশ্যক।

৬৩. প্রশ্ন : মুদ্রার তারল্য (Liquidity) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : কোনো সম্পদকে মূল্যের বড় ধরনের ক্ষতি না করে কত দ্রুত ও সহজে নগদে রূপান্তর করা যায়, সেই ক্ষমতাকে ওই সম্পদের তারল্য বলা হয়। ক্যাশ টাকা হলো সবচেয়ে বেশি তরল সম্পদ।

৬৪. প্রশ্ন : তারল্য ফাঁদ (Liquidity Trap) কী?

উত্তর : এটি এমন একটি অর্থনৈতিক অবস্থা যখন সুদের হার অত্যন্ত নিচে নেমে যায়, কিন্তু মানুষ ভবিষ্যতে সুদের হার বা ঝুঁকি বাড়ার ভয়ে ঋণ না নিয়ে বা বিনিয়োগ না করে সব অর্থ নগদ হিসেবে ধরে রাখে। ফলে মুদ্রানীতি অকার্যকর হয়ে পড়ে।

৬৫. প্রশ্ন : ক্রাউডিং আউট ইফেক্ট (Crowding Out Effect) কী?

উত্তর : সরকার যখন অতিরিক্ত ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক খাত থেকে প্রচুর ঋণ গ্রহণ করে, তখন বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের প্রাপ্যতা কমে যায় বা সুদের হার বেড়ে যায়। বেসরকারি বিনিয়োগ কমে যাওয়ার এই ঘটনাকে ক্রাউডিং আউট ইফেক্ট বলে।

৬৬. প্রশ্ন : এঞ্জেল-এর বিধি (Engel's Law) কী?

উত্তর : অর্থনীতিবিদ আর্নস্ট এঞ্জেলের মতে, পরিবারের আয় বাড়লে মোট ব্যয়ের মধ্যে খাদ্যের পেছনে অনুপাতিক ব্যয়ের শতাংশ কমতে থাকে, অন্যদিকে শিক্ষা, বিনোদন ও অন্যান্য বিলাসী পণ্যে ব্যয়ের অনুপাত বাড়তে থাকে।

৬৭. প্রশ্ন : প্যারাডক্স অব থ্রিফট (Paradox of Thrift) বা সঞ্চয়ের বিরোধাভাস কী?

উত্তর : ব্যক্তিগতভাবে সঞ্চয় করা ইতিবাচক হলেও, সমাজ বা দেশের সব মানুষ যদি মন্দার ভয়ে একসাথে অতিরিক্ত সঞ্চয় করতে শুরু করে, তবে বাজারে সামগ্রিক চাহিদা ও ব্যবহার কমে যায়। এতে আয় ও মোট উৎপাদন হ্রাস পেয়ে শেষ পর্যন্ত মোট সঞ্চয় আরও কমে যায়।

৬৮. প্রশ্ন : হট মানি (Hot Money) কাকে বলে?

উত্তর : যে স্বল্পমেয়াদী অর্থ বা বিনিয়োগ লাভের আশায় এবং উচ্চ সুদের হার বা অনুকূল বিনিময় হারের খোঁজে এক দেশের আর্থিক বাজার থেকে খুব দ্রুত অন্য দেশে স্থানান্তরিত হয়, তাকে হট মানি বলা হয়।

৬৯. প্রশ্ন : ডাম্পিং (Dumping) কী?

উত্তর : আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কোনো দেশ যদি নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের চেয়ে অনেক কম দামে (এমনকি উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে) বিদেশে কোনো পণ্য বিক্রি করে প্রতিযোগী দেশের শিল্প ধ্বংসের চেষ্টা করে, তবে তাকে ডাম্পিং বলে।

৭০. প্রশ্ন : শুল্ক (Tariff) এবং কোটা (Quota)-র মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর : শুল্ক হলো আমদানিকৃত পণ্যের ওপর আরোপিত প্রত্যক্ষ কর; পক্ষান্তরে, কোটা হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ে সর্বোচ্চ কী পরিমাণ পণ্য আমদানি বা রপ্তানি করা যাবে তার ভৌত পরিমাণের সীমা (Physical Limit)।

৭১. প্রশ্ন : ট্রিপস (TRIPS) চুক্তি কী?

উত্তর : বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) অধীনে 'বাণিজ্য সম্পর্কিত বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ অধিকার সংক্রান্ত চুক্তি' হলো TRIPS (Trade-Related Aspects of Intellectual Property Rights)। এটি পেটেন্ট, কপিরাইট, ট্রেডমার্ক ইত্যাদি সুরক্ষা দেয়।

৭২. প্রশ্ন : ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপ (World Bank Group) এবং আইএমএফ (IMF)-এর মৌলিক পার্থক্য কী?

উত্তর : বিশ্বব্যাংক মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দীর্ঘমেয়াদী অবকাঠামোগত ও দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্পে অর্থায়ন ও ঋণ দেয়। পক্ষান্তরে, আইএমএফ (IMF) সদস্য দেশগুলোর লেনদেন ভারসাম্য (BOP) ঠিক রাখা ও স্বল্পমেয়াদী আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য ঋণ প্রদান করে।

৭৩. প্রশ্ন : স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (SDR) কী?

উত্তর : এসডিআর (SDR) হলো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) কর্তৃক সৃষ্ট একটি কৃত্রিম পরিপূরক আন্তর্জাতিক রিজার্ভ সম্পদ, যা পাঁচটি প্রধান আন্তর্জাতিক মুদ্রার (মার্কিন ডলার, ইউরো, চীনা ইউয়ান, জাপানি ইয়েন, পাউন্ড স্টার্লিং) ঝুড়ির ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়িত হয়।

৭৪. প্রশ্ন : প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI - Foreign Direct Investment) কী?

উত্তর : কোনো বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যখন অন্য দেশের কোনো ব্যবসায় বা কারখানায় সরাসরি অর্থ বিনিয়োগ করে এবং সেটির ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় অংশ নেয়, তাকে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বা এফডিআই বলে।

৭৫. প্রশ্ন : পোর্টফোলিও বিনিয়োগ (Foreign Portfolio Investment) কী?

উত্তর : এটি এমন এক ধরণের বৈদেশিক বিনিয়োগ যেখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সরাসরি কারখানা স্থাপন না করে দেশের শেয়ার বাজার, সরকারি বন্ড বা সিকিউরিটিজে নিষ্ক্রিয়ভাবে অর্থ বিনিয়োগ করে।

৭৬. প্রশ্ন : ছায়া অর্থনীতি (Shadow/Black Economy) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : দেশের অর্থনীতিতে যেসব আর্থিক কর্মকাণ্ড, উৎপাদন বা লেনদেন সরকারি নজরদারি, আইনি বাধ্যবাধকতা বা কর ব্যবস্থার বাইরে অবৈধভাবে গোপনে পরিচালিত হয়, তাকে ছায়া বা অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতি বলে।

৭৭. প্রশ্ন : সার্কুলার ফ্লো অব ইনকাম (Circular Flow of Income) কী?

উত্তর : অর্থনীতিতে পরিবার (Households) ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের (Firms) মধ্যে অর্থ, পণ্য ও সেবার পারস্পরিক প্রবাহের চিত্রকে আয়ের চক্রাকার প্রবাহ বলে। পরিবারের ব্যয় প্রতিষ্ঠানের আয় গঠন করে, আর প্রতিষ্ঠানের দেওয়া মজুরি/খাজনা পরিবারের আয় গঠন করে।

৭৮. প্রশ্ন : প্রাইস সেলিং (Price Ceiling) এবং প্রাইস ফ্লোর (Price Floor) কী?

উত্তর : ভোক্তাদের সুবিধার্থে সরকার যখন আইনের মাধ্যমে কোনো পণ্যের সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য বেঁধে দেয়, তাকে প্রাইস সেলিং বলে। আর উৎপাদকদের (যেমন কৃষক) স্বার্থ রক্ষায় কোনো পণ্যের সর্বনিম্ন বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে দিলে তাকে প্রাইস ফ্লোর বলে।

৭৯. প্রশ্ন : অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা (PPC - Production Possibility Curve) কী?

উত্তর : এটি এমন একটি রেখা যা উপলব্ধ প্রযুক্তি ও সীমিত সম্পদের পূর্ণ ব্যবহারে দুটি ভিন্ন পণ্যের উৎপাদনে প্রাপ্ত সর্বোচ্চ সম্ভাব্য সমন্বয়গুলোকে উপস্থাপন করে।

৮০. প্রশ্ন : নিকৃষ্ট দ্রব্য (Inferior Goods) কাকে বলে?

উত্তর : যে সকল দ্রব্যের ক্ষেত্রে ভোক্তার আয় বৃদ্ধি পেলে চাহিদা বাড়ার বদলে উল্টো কমে যায়, সেগুলোকে নিকৃষ্ট বা নিম্নমানের দ্রব্য বলে। (যেমন—আয় বাড়লে মানুষ মোটা চালের ভাত খাওয়া কমিয়ে সরু চাল কেনা শুরু করে)।

৮১. প্রশ্ন : গিফেন দ্রব্য (Giffen Goods) কী?

উত্তর : গিফেন দ্রব্য হলো এক বিশেষ ধরণের নিকৃষ্ট দ্রব্য, যার দাম বাড়লে চাহিদার সাধারণ বিধি লঙ্ঘন করে এর চাহিদা উল্টো বেড়ে যায়। (যেমন আয়ারল্যান্ডের দুর্ভিক্ষে আলুর দাম বাড়লেও মানুষ এটি বেশি কিনেছিল কারণ মাংস কেনার সামর্থ্য তাদের ছিল না)।

৮২. প্রশ্ন : বিকল্প দ্রব্য (Substitute Goods) ও পরিপূরক দ্রব্য (Complementary Goods) কী?

উত্তর : একটির পরিবর্তে অন্যটি ব্যবহার করা গেলে তাকে বিকল্প দ্রব্য বলে (যেমন চা ও কফি)। আর একটি ভোগ করতে অন্যটির উপস্থিতি আবশ্যক হলে সেগুলোকে পরিপূরক দ্রব্য বলে (যেমন কলম ও কালি, অথবা গাড়ি ও পেট্রোল)।

৮৩. প্রশ্ন : সে-এর বাজারের বিধি (Say's Law of Markets) কী?

উত্তর : ক্লাসিক্যাল অর্থনীতিবিদ জাঁ ব্যাপ্তিস্ত সে-এর মতে, "যোগান নিজেই নিজের চাহিদা সৃষ্টি করে" (Supply creates its own demand)। অর্থাৎ বাজারে কোনো সার্বিক অতি-উৎপাদন বা স্থায়ী বেকারত্ব থাকতে পারে না।

৮৪. প্রশ্ন : ডেডওয়েট লস (Deadweight Loss) কী?

উত্তর : বাজার অদক্ষতার কারণে (যেমন কর আরোপ, মনোপলি বা প্রাইস সিলিংয়ের ফলে) ভোক্তা ও উৎপাদকের যে নীট অর্থনৈতিক কল্যাণের ক্ষতি হয় এবং যা কারো হস্তগত হয় না, তাকে ডেডওয়েট লস বলে।

৮৫. প্রশ্ন : জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-এর কাজ কী?

উত্তর : জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) হলো বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের আওতাধীন প্রধান কর্তৃপক্ষ, যা দেশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর সংগ্রাহক ও রাজস্ব নীতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করে।

৮৬. প্রশ্ন : মূল্যস্ফীতি সূচক বা সিপিআই (CPI - Consumer Price Index) কী?

উত্তর : ভোক্তা মূল্য সূচক হলো সাধারণ নগর বা গ্রামের পরিবারসমূহ কর্তৃক ক্রয়কৃত নির্দিষ্ট সংখ্যক পণ্য ও সেবার (Basket of goods) দামের গড়ের পরিবর্তন পরিমাপের একটি প্রধান পরিসংখ্যানগত সূচক।

৮৭. প্রশ্ন : রিয়েল জিডিপি (Real GDP) ও নামমাত্র জিডিপি (Nominal GDP)-র পার্থক্য কী?

উত্তর : নোমিনাল বা নামমাত্র জিডিপি বর্তমান বছরের প্রচলিত বাজারদামে হিসাব করা হয়। অপরদিকে, রিয়েল বা প্রকৃত জিডিপি একটি নির্দিষ্ট ভিত্তি বছরের (Base Year) স্থির মূল্যে হিসাব করা হয়, যা কেবল প্রকৃত উৎপাদনের পরিবর্তনকে নির্দেশ করে (মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব বাদ দিয়ে)।

৮৮. প্রশ্ন : জিডিপি ডিফ্লেটর (GDP Deflator) কী?

উত্তর : নামমাত্র জিডিপি (Nominal GDP)-কে প্রকৃত জিডিপি (Real GDP) দিয়ে ভাগ করে ১০০ দিয়ে গুণ করলে যে সূচকটি পাওয়া যায়, তাকে জিডিপি ডিফ্লেটর বলে। এটি অর্থনীতিতে সার্বিক মূল্যস্তরের পরিবর্তন নির্দেশ করে।

৮৯. প্রশ্ন : বাণিজ্য চক্র (Business Cycle) কী?

উত্তর : কোনো দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও আয়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমিক উত্থান-পতন (যেমন—সমৃদ্ধি, মন্দা, বিষণ্ণতা ও পুনরুত্থান) ঘটার ঘটনাকে বাণিজ্য চক্র বলা হয়।

৯০. প্রশ্ন : অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (Economic Growth) ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের (Economic Development) পার্থক্য কী?

উত্তর : অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বলতে কেবল জিডিপি বা জাতীয় আয়ের পরিমাণগত বৃদ্ধিকে বোঝায়। আর অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলতে প্রবৃদ্ধির সাথে সাথে সামাজিক কাঠামো, শিক্ষার হার, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও মানুষের জীবনযাত্রার গুণগত ইতিবাচক পরিবর্তনকে বোঝায়।

৯১. প্রশ্ন : মধ্যম আয়ের ফাঁদ (Middle-Income Trap) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : কোনো দেশ নিম্ন আয় থেকে মধ্যম আয়ে উন্নীত হওয়ার পর যদি নতুন উদ্ভাবন, উচ্চ দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ অর্জন করতে না পেরে উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হতে না পারে এবং দীর্ঘকাল ধরে একই আয়ের স্তরে স্থবির হয়ে থাকে, তবে তাকে মধ্যম আয়ের ফাঁদ বলে।

৯২. প্রশ্ন : সবুজ অর্থনীতি (Green Economy) কী?

উত্তর : যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সামাজিক সমতা ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশগত ঝুঁকি হ্রাস, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় রোধে কাজ করে, তাকে সবুজ অর্থনীতি বলে।

৯৩. প্রশ্ন : ব্লু ইকোনমি (Blue Economy) বা সমুদ্র অর্থনীতি কী?

উত্তর : সমুদ্র বা সামুদ্রিক সম্পদকে (যেমন—মৎস্য, খনিজ, বন্দর, টেকসই পর্যটন, সামুদ্রিক শক্তি) পরিবেশের ক্ষতি না করে পরিবেশবান্ধব উপায়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কাজে ব্যবহার করাকে ব্লু ইকোনমি বা সমুদ্র অর্থনীতি বলে।

৯৪. প্রশ্ন : অ-কর রাজস্ব (Non-Tax Revenue) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : কর ব্যতীত অন্য যেসব উৎস থেকে সরকার আয় লাভ করে, তাকে অ-কর রাজস্ব বলে। যেমন—সরকারি প্রতিষ্ঠানের মুনাফা, জরিমানা, সেবামূল্য, রেজিস্ট্রেশন ফি, ডাক ও রেলওয়ে থেকে প্রাপ্ত আয় ইত্যাদি।

৯৫. প্রশ্ন : বহিরাগত প্রভাব বা এক্সটার্নালিটি (Externality) কী?

উত্তর : কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক কার্যাবলীর ফলে যদি তৃতীয় কোনো পক্ষ লাভবান বা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তার জন্য যদি কোনো ক্ষতিপূরণ বা মূল্য দিতে না হয়, তাকে এক্সটার্নালিটি বলে। (যেমন—কারখানার বর্জ্য পরিবেশ দূষিত করলে তা নেতিবাচক এক্সটার্নালিটি)।

৯৬. প্রশ্ন : ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড (Demographic Dividend) বা জনসংখ্যাগত লভ্যাংশ কী?

উত্তর : কোনো দেশে যখন নির্ভরশীল জনসংখ্যার (শিশু ও বয়স্ক) তুলনায় কর্মক্ষম জনসংখ্যার (১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী) অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, তখন অর্থনীতির দ্রুত প্রবৃদ্ধির যে বিশেষ সুযোগ তৈরি হয়, তাকে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বলে।

৯৭. প্রশ্ন : ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স (Capital Gains Tax) কী?

উত্তর : কোনো মূলধনী সম্পদ (যেমন—জমি, দালানকোঠা, শেয়ার বা বন্ড) ক্রয়ের পর তা বর্ধিত দামে বিক্রি করে যে লাভ বা মুনাফা পাওয়া যায়, তার ওপর ধার্যকৃত করকে ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স বা মূলধনী লাভ কর বলা হয়।

৯৮. প্রশ্ন : ফিনটেক (FinTech) কী?

উত্তর : ফাইনান্সিয়াল টেকনোলজি (Financial Technology)-র সংক্ষিপ্ত রূপ হলো ফিনটেক। প্রথাগত আর্থিক ও ব্যাংকিং সেবাকে আরও দ্রুত, সহজ ও ডিজিটালি প্রদানের জন্য প্রযুক্তির যে ব্যবহার (যেমন—বিকাশ, রকেট, অনলাইন ব্যাংকিং) করা হয়, তাকে ফিনটেক বলে।

৯৯. প্রশ্ন : বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO - World Trade Organization)-র মূল কাজ কী?

উত্তর : আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে মুক্ত, সহজ ও বৈষম্যহীন করা, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের নিয়ম-কানুন নির্ধারণ করা এবং বাণিজ্য সংক্রান্ত নানা বিরোধ নিষ্পত্তি করাই হলো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্রধান কাজ।

১০০. প্রশ্ন : সার্কুলার ইকোনমি (Circular Economy) বা বৃত্তাকার অর্থনীতি কী?

উত্তর : যে আধুনিক অর্থনৈতিক মডেলে "তৈরি করো, ব্যবহার করো, ফেলে দাও" নীতির পরিবর্তে বর্জ্য হ্রাস, কাঁচামালের পুনঃব্যবহার (Reuse) এবং রিসাইক্লিং (Recycle)-এর মাধ্যমে সম্পদের স্থায়িত্ব ও আয়ু সর্বোচ্চ করা হয়, তাকে বৃত্তাকার বা সার্কুলার ইকোনমি বলে।


Mpintu


পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত ও রহস্যজনক ঘটনার বিবরণ

পৃথিবীর বুকে যুগ যুগ ধরে এমন অনেক ঘটনা ঘটে গেছে, যার পেছনের প্রকৃত সত্য বা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আজও পুরোপুরি উদ্ঘাটিত হয়নি। মানুষের কৌতূহল আর ...